কুষ্টিয়ার ৩টি আসন নিয়ে জামায়াতের শেষ মুহূর্তের দর কষাকষি
- আপডেট সময় : ১০১ বার পড়া হয়েছে
কুষ্টিয়ার তিনটি সংসদীয় আসন কুষ্টিয়া-১, কুষ্টিয়া-২ ও কুষ্টিয়া-৪ নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে শেষ মুহূর্তের সমঝোতা ও দর কষাকষিতে নেমেছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। জোটের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) ও কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসন ইসলামী আন্দোলনের কাছে এবং কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনটি খেলাফত মজলিসের কাছে ছাড়ার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, আজ-কালকের মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।
কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর- ভেড়ামারা) আসনে জামায়াত ইতিমধ্যে জেলা নায়েবে আমির ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল গফুরকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। অতীতে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য, চেয়ারম্যান এবং উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আব্দুল গফুরের এ আসনে উল্লেখযোগ্য ভোট-ভিত্তি রয়েছে বলে মনে করেন দলের নেতা-কর্মীরা। এরশাদ সরকারের আমলে ১৯৮৬ সালে এই আসন থেকে জামায়াতের আব্দুল ওয়াহেদ এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন; পরে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তিনি যথাক্রমে ২৯ হাজার ৮৬৮ ও ৩০ হাজার ৬৩২ ভোট পেয়েছিলেন। দলটির ধারণা, বর্তমান প্রার্থী আব্দুল গফুরও জয়ী হওয়ার মতো অবস্থানে আছেন, তাই এ আসন ছাড়তে রাজি নয় জামায়াত।
অন্যদিকে, একই কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর- ভেড়ামারা) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কেন্দ্র থেকে জেলার সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান আরিফকে প্রার্থী করেছে। তুলনামূলকভাবে নতুন হলেও ৫ আগস্টের পর থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। খেলাফত মজলিসের নেতারা দাবি করছেন, জোটের সঙ্গে আলোচনায় যে কিছু আসন ছাড়ার কথা হয়েছে, তার মধ্যে কুষ্টিয়া-২-ও আছে এবং এই আসনটি তাদের প্রার্থীকে ছেড়ে দেওয়া হবে। দলটির জেলা সভাপতি মুফতি আব্দুল লতিফ জানান, “কুষ্টিয়া-২ আসন আমাদের প্রার্থীকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে—এটা আমরা মোটামুটি নিশ্চিত। বুধবারের মধ্যে চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে, আমাদের প্রার্থী প্রস্তুতি নিচ্ছে।”
কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে জামায়াতের উপজেলা আমির বেলাল উদ্দিনকে প্রার্থী করা হয়েছে। তিনি একটি মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং আগে কখনো জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেননি। অতীতের নির্বাচনে এ আসনে জামায়াত তুলনামূলকভাবে দুর্বল ছিল; ১৯৯১ সালে প্রার্থী নুর কুতুবুল আলম পেয়েছিলেন ৭ হাজার ৫৮৯ ভোট, আর ১৯৯৬ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৫৫১-এ। এ প্রেক্ষাপটে জোটের পক্ষ থেকে এ আসনটি ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি আমিনুল ইসলামের জন্য ছেড়ে দেওয়ার আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। যদিও ইসলামী আন্দোলনের সাংগঠনিক শক্তি এখানে তুলনামূলকভাবে কম বলে অনেকেই মনে করেন, মুফতি আমিনুল ইসলাম দাবি করেন, দৌলতপুরে তাদের “প্রচুর সমর্থক” আছে এবং সাংগঠনিকভাবেও তারা শক্ত অবস্থানে আছেন বলেই এ আসন দাবি করেছেন।
কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনেও জোট-সমন্বয়ের খেলা চলছে। ইসলামী আন্দোলন এখানে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রার্থী করেছে প্রবাসী ব্যবসায়ী আনোয়ার খানকে, যার বাড়ি খোকসা উপজেলায় এবং হলফনামা অনুযায়ী তিনি এ আসনের সবচেয়ে ধনী প্রার্থীদের একজন। সৌদি আরবপ্রবাসী আনোয়ার খান অতীতে রাজনীতিতে ততটা সক্রিয় না থাকলেও ৫ আগস্টের পর থেকে মাঠে নেমে বড় সমাবেশের মাধ্যমে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। ইসলামী আন্দোলনের একটি সূত্র জানায়, কুষ্টিয়া-৪ আসনটি তাদের প্রার্থীকে ছেড়ে দেওয়া হবে—এমন ইঙ্গিত তারা পেয়েছেন এবং আনোয়ার খানও নির্বাচন করার ব্যাপারে অনড় অবস্থানে আছেন।
এদিকে এ আসনেই জামায়াতের প্রার্থী আফজাল হোসেন দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক নেতা ও কুমারখালী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিত। কুমারখালী এলাকায় জামায়াতের সংগঠন শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলে স্থানীয়রা উল্লেখ করেন। জামায়াতের নেতাদের ধারণা, আগামী নির্বাচনে এ আসনে তাদের পক্ষে ফল আসার সম্ভাবনা ভালো, তাই কুষ্টিয়া-২ ও ৪ এই দুই আসনই ছাড়তে অনাগ্রহী তারা। দলের একাধিক সূত্রের ভাষ্য, এসব আসন অন্য দলকে দিলে প্রতিপক্ষের জয়লাভ সহজ হয়ে যাবে।
সম্ভাব্য এই সমঝোতা-বদলানো নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জেলা জামায়াত আমির আবুল হাসেম সরাসরি কিছু জানাতে চাননি। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে এখনো কোনো ম্যাসেজ আসেনি। আমাদের দলের আমির বলেছেন, দু-এক দিনের মধ্যে ঘোষণা আসবে। ঘোষণার পরই সব পরিষ্কার হবে; তার আগে অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।”









