ঢাকা ০২:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপে ঘাটাইলের জয় Logo শাহপরীরদ্বীপে ১০০ পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী দিল বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়ন Logo কাঁঠালিয়ার এক বিদ্যালয়ের শতভাগ বৃত্তি, সফল জমজ দুই ভাই Logo কুড়িগ্রামে এইচএসসি কেন্দ্রে অনুপস্থিত ট্যাগ কর্মকর্তা, ফোনে দায়িত্ব হস্তান্তর Logo ফুলগাজীতে বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে মুহুরীর পানি Logo হালুয়াঘাটে ডাকঘর কর্মচারীদের ধর্মঘট, স্মারকলিপি প্রদান Logo ভূরুঙ্গামারীতে পুলিশের অভিযানে ৩ কিলোমিটার চায়না দুয়ারি জাল জব্দ Logo উত্তরবঙ্গের সেরা মুগ্ধ বিউটি মেকওভার, সম্মাননা পেলেন সুমি Logo নেত্রকোনায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতালে ভাঙচুর Logo টানা বর্ষণে নরসিংদীতে জলাবদ্ধতা, স্থবির জনজীবন

শেরপুরে শতবর্ষী ‘জামাই বরণ’ মেলা শুরু

ছয়দিনজুড়ে উৎসবে মাতবে জনপদ

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৭৯ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ‘জামাই বরণ’ মেলা। গত রোববার (২৪ মে) থেকে শুরু হওয়া এই মেলা চলবে আগামী শুক্রবার (২৯ মে) পর্যন্ত। শতবর্ষী এই মেলাকে ঘিরে ইতোমধ্যেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়। দূর-দূরান্ত থেকে মেয়েরা জামাই-সন্তান নিয়ে নাইওরে আসতে শুরু করেছেন। ফলে আত্মীয়তার বন্ধন আর গ্রামীণ সংস্কৃতির মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে কুসুম্বি ইউনিয়নসহ আশপাশের জনপদ।
স্থানীয়ভাবে ‘কেল্লাপোষী মেলা’ নামে পরিচিত হলেও অধিকাংশ মানুষের কাছে এটি ‘জামাই বরণ মেলা’ হিসেবেই সমাদৃত। প্রতিবছর জ্যৈষ্ঠ মাসের দ্বিতীয় রোববার থেকে বসা এই মেলার ইতিহাস প্রায় দুই শতাধিক বছরের পুরোনো। স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, কেল্লা ও পোশী মৌজার জমিতে বসা এই মেলার সূচনা হয়েছিল ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে। তৎকালীন সময়ে কালুগাজী পীরের বিয়ে উপলক্ষে কেল্লাপোষী দুর্গে নিশান উড়িয়ে তিন দিনব্যাপী আনন্দ উৎসবের আয়োজন করা হয়। সেই আয়োজন থেকেই ধীরে ধীরে মেলার উৎপত্তি।
মেলার অন্যতম আকর্ষণ একটি প্রাচীন বটগাছ ঘিরে গড়ে ওঠা মাজার। অন্তত ২০০ বছরের পুরোনো ওই বটগাছের নিচে টিনের ছাউনিযুক্ত মাজারে ভক্তরা মোমবাতি ও ধূপ জ্বালিয়ে মানত করছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকা থেকে ‘মাদার’ তোলা দল এসে অংশ নিচ্ছে লাঠিখেলা ও অন্যান্য লোকজ আয়োজনে।
রোববার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নন্দীগ্রাম সড়কের দুই পাশে অন্তত এক হাজার দোকানের ছাউনি তৈরি করা হয়েছে। মেলায় সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে বড় মাছ ও খাসির মাংসের দোকানে। এছাড়া রয়েছে দই-মিষ্টি, মৌসুমি ফল, নতুন কাপড়, ছাতা, আসবাবপত্র ও নানা ধরনের মসলার দোকান। বিনোদনের জন্য রয়েছে নাগরদোলা, মোটরসাইকেল খেলা, সার্কাস এবং শিশুদের বিভিন্ন রাইড।
কুসুম্বি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম পান্না বলেন, “প্রতিবছরের মতো এবারও মেলাকে ঘিরে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মেয়ে-জামাইরা নাইওরে আসতে শুরু করেছে। পুরো এলাকা এখন উৎসবমুখর।”
স্থানীয় বাসিন্দা মতিউর রহমানসহ কয়েকজন জানান, রাজশাহী বিভাগের অন্যতম বড় এই মেলাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের সামাজিক ও পারিবারিক ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে। মেলার সময় আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে আগমন বাড়ে। শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে জামাইদের সেলামি দেওয়ারও প্রচলন রয়েছে। অন্যদিকে জামাইরা বড় মাছ, খাসির মাংস ও মাটির পাতিলভর্তি মিষ্টি নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে হাজির হন।
শেরপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আয়োজকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে এবারের মেলার জন্য ছয় দিনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মেলায় সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, “মেলা এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সার্কাস, লাঠিখেলা, মোটরসাইকেল খেলা ও নাগরদোলাসহ বিভিন্ন আয়োজনের অনুমোদন রয়েছে। পাশাপাশি জুয়া ও অশ্লীল কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শেরপুরে শতবর্ষী ‘জামাই বরণ’ মেলা শুরু

ছয়দিনজুড়ে উৎসবে মাতবে জনপদ

আপডেট সময় :

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ‘জামাই বরণ’ মেলা। গত রোববার (২৪ মে) থেকে শুরু হওয়া এই মেলা চলবে আগামী শুক্রবার (২৯ মে) পর্যন্ত। শতবর্ষী এই মেলাকে ঘিরে ইতোমধ্যেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়। দূর-দূরান্ত থেকে মেয়েরা জামাই-সন্তান নিয়ে নাইওরে আসতে শুরু করেছেন। ফলে আত্মীয়তার বন্ধন আর গ্রামীণ সংস্কৃতির মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে কুসুম্বি ইউনিয়নসহ আশপাশের জনপদ।
স্থানীয়ভাবে ‘কেল্লাপোষী মেলা’ নামে পরিচিত হলেও অধিকাংশ মানুষের কাছে এটি ‘জামাই বরণ মেলা’ হিসেবেই সমাদৃত। প্রতিবছর জ্যৈষ্ঠ মাসের দ্বিতীয় রোববার থেকে বসা এই মেলার ইতিহাস প্রায় দুই শতাধিক বছরের পুরোনো। স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, কেল্লা ও পোশী মৌজার জমিতে বসা এই মেলার সূচনা হয়েছিল ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে। তৎকালীন সময়ে কালুগাজী পীরের বিয়ে উপলক্ষে কেল্লাপোষী দুর্গে নিশান উড়িয়ে তিন দিনব্যাপী আনন্দ উৎসবের আয়োজন করা হয়। সেই আয়োজন থেকেই ধীরে ধীরে মেলার উৎপত্তি।
মেলার অন্যতম আকর্ষণ একটি প্রাচীন বটগাছ ঘিরে গড়ে ওঠা মাজার। অন্তত ২০০ বছরের পুরোনো ওই বটগাছের নিচে টিনের ছাউনিযুক্ত মাজারে ভক্তরা মোমবাতি ও ধূপ জ্বালিয়ে মানত করছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকা থেকে ‘মাদার’ তোলা দল এসে অংশ নিচ্ছে লাঠিখেলা ও অন্যান্য লোকজ আয়োজনে।
রোববার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নন্দীগ্রাম সড়কের দুই পাশে অন্তত এক হাজার দোকানের ছাউনি তৈরি করা হয়েছে। মেলায় সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে বড় মাছ ও খাসির মাংসের দোকানে। এছাড়া রয়েছে দই-মিষ্টি, মৌসুমি ফল, নতুন কাপড়, ছাতা, আসবাবপত্র ও নানা ধরনের মসলার দোকান। বিনোদনের জন্য রয়েছে নাগরদোলা, মোটরসাইকেল খেলা, সার্কাস এবং শিশুদের বিভিন্ন রাইড।
কুসুম্বি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম পান্না বলেন, “প্রতিবছরের মতো এবারও মেলাকে ঘিরে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মেয়ে-জামাইরা নাইওরে আসতে শুরু করেছে। পুরো এলাকা এখন উৎসবমুখর।”
স্থানীয় বাসিন্দা মতিউর রহমানসহ কয়েকজন জানান, রাজশাহী বিভাগের অন্যতম বড় এই মেলাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের সামাজিক ও পারিবারিক ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে। মেলার সময় আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে আগমন বাড়ে। শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে জামাইদের সেলামি দেওয়ারও প্রচলন রয়েছে। অন্যদিকে জামাইরা বড় মাছ, খাসির মাংস ও মাটির পাতিলভর্তি মিষ্টি নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে হাজির হন।
শেরপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আয়োজকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে এবারের মেলার জন্য ছয় দিনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মেলায় সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, “মেলা এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সার্কাস, লাঠিখেলা, মোটরসাইকেল খেলা ও নাগরদোলাসহ বিভিন্ন আয়োজনের অনুমোদন রয়েছে। পাশাপাশি জুয়া ও অশ্লীল কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”