ঢাকা ০৫:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬

হলুদ সাংবাদিকতার দায় এড়াতে পারে না কেন্দ্র

জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ২০২ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি


পুলিশ ও প্রকাশিত সংবাদসূত্র অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি জিয়াবুল হক, যিনি এলাকায় “গরু ডাক্তার” নামে পরিচিত। তিনি নিজেকে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা টেকনাফ উপজেলা শাখার বর্তমান সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন এবং তিনি কেন্দ্র ঘোষিত কমিটির সভাপতি ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রায় ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে। অভিযুক্ত ব্যক্তি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। ইয়াবার টাকার বিনিময়ে বড় বড় পদ বিক্রি করে দেওয়া কিছু তথাকথিত সাংবাদিক ও কমিটি বিক্রেতার কারণে প্রকৃত অনুসন্ধানী কলম সৈনিকরা আজ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সাংবাদিক সমাজ বলেন , প্রকৃত কলম সৈনিকদের এক হয়ে এই হলুদ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ গড়ে তোলা এখন সময়ের অত্যাবশ্যক দাবি। কেননা এরা সাংবাদিক নামের ওপর কলঙ্ক লেপন করছে এবং তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো সাংবাদিক সমাজ জাতির কাছে লজ্জিত হচ্ছে।
দুঃখজনক হলেও সত্য, এই অনৈতিক ও কলঙ্কজনক অবস্থার জন্য শুধু মাঠপর্যায়ের কিছু তথাকথিত সাংবাদিক নয়—সমানভাবে দায় এড়াতে পারে না জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির সকল দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ। কারণ যাচাই-বাছাই ছাড়া, প্রকৃত সাংবাদিকতা ও নৈতিক মানদণ্ড উপেক্ষা করে যাঁদের কেন্দ্র থেকে সভাপতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে, তাদের কর্মকাণ্ডের দায় কেন্দ্রকেই নিতে হবে।একজন ব্যক্তি যদি সাংবাদিক পরিচয়ে মাদক কারবারে জড়িত থেকে গ্রেপ্তার হয়, অথচ সে ব্যক্তি যদি কেন্দ্র ঘোষিত কমিটির সভাপতি হয়ে থাকে—তবে প্রশ্ন উঠে, কেন্দ্রীয় কমিটি কিসের ভিত্তিতে তাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে? তার পেশাগত যোগ্যতা, নৈতিক অবস্থান ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা কি আদৌ যাচাই করা হয়েছিল?
সচেতন সাংবাদিক সমাজ মনে করে, অর্থের বিনিময়ে পদ বণ্টন, কমিটি বাণিজ্য ও হলুদ সাংবাদিকদের আশ্রয়–প্রশ্রয় দেওয়ার সংস্কৃতি যদি কেন্দ্র থেকেই বন্ধ না হয়, তাহলে সাংবাদিকতা নামের এই পবিত্র পেশা আরও গভীর সংকটে পড়বে। কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্ব শুধু কমিটি ঘোষণা করা নয়; বরং সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষা করা এবং প্রকৃত সাংবাদিকদের সম্মান নিশ্চিত করাও তাদের নৈতিক দায়িত্ব।অতএব, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির উচিত—অবিলম্বে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ কমিটিগুলো পুনর্মূল্যায়ন করা,হলুদ সাংবাদিক ও পদবাণিজ্যের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা, এবং প্রকৃত অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়িয়ে সংগঠনের বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা।তা না হলে, কেন্দ্রীয় কমিটির নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা ইতিহাসে হলুদ সাংবাদিকতার নীরব পৃষ্ঠপোষকতা হিসেবেই বিবেচিত হবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

হলুদ সাংবাদিকতার দায় এড়াতে পারে না কেন্দ্র

জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

আপডেট সময় :


পুলিশ ও প্রকাশিত সংবাদসূত্র অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি জিয়াবুল হক, যিনি এলাকায় “গরু ডাক্তার” নামে পরিচিত। তিনি নিজেকে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা টেকনাফ উপজেলা শাখার বর্তমান সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন এবং তিনি কেন্দ্র ঘোষিত কমিটির সভাপতি ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রায় ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে। অভিযুক্ত ব্যক্তি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। ইয়াবার টাকার বিনিময়ে বড় বড় পদ বিক্রি করে দেওয়া কিছু তথাকথিত সাংবাদিক ও কমিটি বিক্রেতার কারণে প্রকৃত অনুসন্ধানী কলম সৈনিকরা আজ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সাংবাদিক সমাজ বলেন , প্রকৃত কলম সৈনিকদের এক হয়ে এই হলুদ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ গড়ে তোলা এখন সময়ের অত্যাবশ্যক দাবি। কেননা এরা সাংবাদিক নামের ওপর কলঙ্ক লেপন করছে এবং তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো সাংবাদিক সমাজ জাতির কাছে লজ্জিত হচ্ছে।
দুঃখজনক হলেও সত্য, এই অনৈতিক ও কলঙ্কজনক অবস্থার জন্য শুধু মাঠপর্যায়ের কিছু তথাকথিত সাংবাদিক নয়—সমানভাবে দায় এড়াতে পারে না জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির সকল দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ। কারণ যাচাই-বাছাই ছাড়া, প্রকৃত সাংবাদিকতা ও নৈতিক মানদণ্ড উপেক্ষা করে যাঁদের কেন্দ্র থেকে সভাপতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে, তাদের কর্মকাণ্ডের দায় কেন্দ্রকেই নিতে হবে।একজন ব্যক্তি যদি সাংবাদিক পরিচয়ে মাদক কারবারে জড়িত থেকে গ্রেপ্তার হয়, অথচ সে ব্যক্তি যদি কেন্দ্র ঘোষিত কমিটির সভাপতি হয়ে থাকে—তবে প্রশ্ন উঠে, কেন্দ্রীয় কমিটি কিসের ভিত্তিতে তাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে? তার পেশাগত যোগ্যতা, নৈতিক অবস্থান ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা কি আদৌ যাচাই করা হয়েছিল?
সচেতন সাংবাদিক সমাজ মনে করে, অর্থের বিনিময়ে পদ বণ্টন, কমিটি বাণিজ্য ও হলুদ সাংবাদিকদের আশ্রয়–প্রশ্রয় দেওয়ার সংস্কৃতি যদি কেন্দ্র থেকেই বন্ধ না হয়, তাহলে সাংবাদিকতা নামের এই পবিত্র পেশা আরও গভীর সংকটে পড়বে। কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্ব শুধু কমিটি ঘোষণা করা নয়; বরং সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষা করা এবং প্রকৃত সাংবাদিকদের সম্মান নিশ্চিত করাও তাদের নৈতিক দায়িত্ব।অতএব, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির উচিত—অবিলম্বে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ কমিটিগুলো পুনর্মূল্যায়ন করা,হলুদ সাংবাদিক ও পদবাণিজ্যের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা, এবং প্রকৃত অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়িয়ে সংগঠনের বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা।তা না হলে, কেন্দ্রীয় কমিটির নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা ইতিহাসে হলুদ সাংবাদিকতার নীরব পৃষ্ঠপোষকতা হিসেবেই বিবেচিত হবে।