টেকনাফের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে যুব সংগঠনগুলো
- আপডেট সময় : ১৬ বার পড়া হয়েছে
টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাঁচা সড়ক। নলকূপ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে নিরাপদ পানীয় পানির তীব্র সংকট।এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় যুব নেতৃত্বাধীন সংগঠন SHAY (Support for Humanitarian Aid Youth Society), JYDA Bangladesh ও Youth Peacebuilders, ActionAid Bangladesh-এর সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছে।সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুর্যোগের শুরু থেকেই যুব স্বেচ্ছাসেবকেরা স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি নেতা এবং অন্যান্য মানবিক অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে কাজ করছেন। তারা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, সীমিত পরিসরে শুকনো খাবার ও নিরাপদ পানীয় পানি বিতরণ, পাহাড়ধসের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি চাহিদা নিরূপণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।বর্তমানে অনেক পরিবার নিজ বাড়িতে অবস্থান করলেও রান্না, বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ এবং ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী।SHAY-এর প্রতিনিধি আলম মুহাম্মদ রাসেল বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে গিয়ে আমরা দেখেছি, মানুষ তাদের পানিতে ডুবে থাকা ঘর দেখাচ্ছেন। প্রায় সবাই একই অনুরোধ করেছেন—‘আমাদের নলকূপ ডুবে গেছে। আমাদের নিরাপদ খাওয়ার পানি দিন।’ এই বাস্তবতা আমাদের আরও দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন, কমিউনিটি এবং মানবিক অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় করে সহায়তা পৌঁছে দিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।”তিনি আরও জানান, জরুরি সাড়া কার্যক্রমের প্রথম ধাপে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৮০টি পরিবার, অর্থাৎ প্রায় ১ হাজার ৯০০ মানুষের কাছে শুকনো খাবার, নিরাপদ পানীয় পানি, জরুরি ত্রিপল, ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট (ORS) এবং নারী ও কিশোরীদের জন্য ডিগনিটি কিট বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রাখা হবে, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা যায়।যুব নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলো জানিয়েছে, চলমান বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সরকারি প্রতিষ্ঠান, মানবিক সংস্থা, দাতা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিতভাবে এগিয়ে এসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি জীবনরক্ষাকারী সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

















