ঢাকা ০৯:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

ডোবার ওপর ঝুলছে বৃদ্ধ কৈলাশের জীবন

মোঃ রিয়াদ হাসান, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১৯ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গ্রামের এক কোণে ডোবার ওপর বাঁশ ও টিন দিয়ে তৈরি ছোট্ট একটি চালা। দূর থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই, সেটিই একজন মানুষের একমাত্র আশ্রয়স্থল। সেই চালাতেই মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন আশির্ধ্ব চিরকুমার বৃদ্ধ কৈলাশ।

জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে বহু বছর আগে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার চলনা এলাকার ভিটেমাটি হারিয়ে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের ঘগোয়া গ্রামে বড় বোন সিন্ধু বালার বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি। যৌবনে বোনের সংসারে কাজ করেই কেটেছে তাঁর জীবন। বিয়ে করেননি। বয়সের ভারে এখন কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। কমেছে শ্রবণশক্তি ও কথা বলার সক্ষমতাও। বোন ও দুলাভাই মারা যাওয়ার পর তিনি হয়ে পড়েন সম্পূর্ণ অসহায়।

বর্তমানে ডোবার ওপর বাঁশ ও টিনের তৈরি একটি ছোট্ট অস্থায়ী চালাই তাঁর একমাত্র ঠিকানা। বর্ষাকালে বৃষ্টি ও ঝড়ে ঘরটি সবসময় ঝুঁকির মধ্যে থাকে। ডোবার ওপর অবস্থানের কারণে মশার উপদ্রবও নিত্যসঙ্গী। প্রতিবেশীদের সহায়তায় কোনোভাবে খাবার জোটে, তবে নিয়মিত চিকিৎসা বা অন্য কোনো নিরাপত্তা নেই।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁরা খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা করে থাকেন। কিন্তু একজন অসহায় বৃদ্ধের জন্য তা যথেষ্ট নয়। তাঁরা কৈলাশের জন্য একটি নিরাপদ বাসস্থান, নিয়মিত খাদ্য ও চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

প্রতিবেশীদের ভাষ্য, যৌবনে অনেকের বাড়িতে কাজ করলেও জীবনের শেষ বেলায় পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই তাঁর। দারিদ্র্য, বার্ধক্য ও সামাজিক নিরাপত্তার অভাবে চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটছে তাঁর।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি বলেন, “কৈলাশের বিষয়টি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সমাজের বিত্তবান মানুষ এগিয়ে এলে জীবনের শেষ সময়টুকু অন্তত নিরাপদ ও মানবিক পরিবেশে কাটানোর সুযোগ পাবেন অসহায় এই বৃদ্ধ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ডোবার ওপর ঝুলছে বৃদ্ধ কৈলাশের জীবন

আপডেট সময় :

গ্রামের এক কোণে ডোবার ওপর বাঁশ ও টিন দিয়ে তৈরি ছোট্ট একটি চালা। দূর থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই, সেটিই একজন মানুষের একমাত্র আশ্রয়স্থল। সেই চালাতেই মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন আশির্ধ্ব চিরকুমার বৃদ্ধ কৈলাশ।

জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে বহু বছর আগে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার চলনা এলাকার ভিটেমাটি হারিয়ে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের ঘগোয়া গ্রামে বড় বোন সিন্ধু বালার বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি। যৌবনে বোনের সংসারে কাজ করেই কেটেছে তাঁর জীবন। বিয়ে করেননি। বয়সের ভারে এখন কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। কমেছে শ্রবণশক্তি ও কথা বলার সক্ষমতাও। বোন ও দুলাভাই মারা যাওয়ার পর তিনি হয়ে পড়েন সম্পূর্ণ অসহায়।

বর্তমানে ডোবার ওপর বাঁশ ও টিনের তৈরি একটি ছোট্ট অস্থায়ী চালাই তাঁর একমাত্র ঠিকানা। বর্ষাকালে বৃষ্টি ও ঝড়ে ঘরটি সবসময় ঝুঁকির মধ্যে থাকে। ডোবার ওপর অবস্থানের কারণে মশার উপদ্রবও নিত্যসঙ্গী। প্রতিবেশীদের সহায়তায় কোনোভাবে খাবার জোটে, তবে নিয়মিত চিকিৎসা বা অন্য কোনো নিরাপত্তা নেই।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁরা খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা করে থাকেন। কিন্তু একজন অসহায় বৃদ্ধের জন্য তা যথেষ্ট নয়। তাঁরা কৈলাশের জন্য একটি নিরাপদ বাসস্থান, নিয়মিত খাদ্য ও চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

প্রতিবেশীদের ভাষ্য, যৌবনে অনেকের বাড়িতে কাজ করলেও জীবনের শেষ বেলায় পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই তাঁর। দারিদ্র্য, বার্ধক্য ও সামাজিক নিরাপত্তার অভাবে চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটছে তাঁর।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি বলেন, “কৈলাশের বিষয়টি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সমাজের বিত্তবান মানুষ এগিয়ে এলে জীবনের শেষ সময়টুকু অন্তত নিরাপদ ও মানবিক পরিবেশে কাটানোর সুযোগ পাবেন অসহায় এই বৃদ্ধ।