ঢাকা ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo শেরপুরে কেন্দ্রে কেন্দ্রে যাচ্ছে ব্যালটসহ ভোটের উপকরণ Logo সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর প্রস্তুতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানে আনসার-ভিডিপি Logo নির্বাচনী মাঠে তৎপর আনসার বাহিনীর ১,১৯১টি স্ট্রাইকিং টিম Logo কাঁঠালিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধে, আহত-৭ Logo শাল্লায় জালিয়াতি করে জলমহাল দখল চেষ্টার অভিযোগ Logo বাগেরহাটে নির্বাচন থেকে সরে দাড়ালেন স্বতন্ত্র প্রার্থী Logo মাগুরায় দুই আসনে ৭ দলের ১১ প্রার্থী Logo ২য় পদ্মা সেতু ও নদী শাসন ইসু প্রভাব ফেলবে গোয়ালন্দের ভোটের হিসেবে Logo ‘এবার ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কোনো সুযোগ নেই’ Logo পেঁয়াজের সাদা ফুলে নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন গোয়ালন্দের চাষিরা

তিস্তা তীরের দুইশ শীতার্ত মানুষের পাশে চর উন্নয়ন কমিটি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৫৫ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার নাজিম খান ইউনিয়নের তিস্তা তীরবর্তী হাঁসার পাড় এলাকায় কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন কমিটির উদ্যোগে দুইশ শীতার্ত ও অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার বিকেলে হাঁসার পাড় এলাকায় এসব কম্বল বিতরণ করেন জেলা চর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি ও কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা চর উন্নয়ন কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ খাজা শরিফ উদ্দিন আহমেদ রিন্টু, অধ্যক্ষ শাহ আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আখের, সাইফুল ইসলাম বাদল, শিক্ষক মাহবুবুর রহমান, হাবিবুর রহমান ও নজির হোসেন মেম্বারসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, “তিস্তার ভাঙনে শুধু হাঁসার পাড় নয়, তিস্তার দুই তীর জুড়ে প্রায় দুই লক্ষ মানুষ আজ চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। প্রতি মুহূর্তে আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে— কখন নদী তাদের শেষ সম্বল ভিটেমাটি গিলে খায়।”
তিনি আরও বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা প্রায় এক দশক ধরে এই অঞ্চলের মানুষ শুনে আসছে। ২০১৬ সালে চীন এক বিলিয়ন ডলারের অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে এর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিস্তা শাসন কাজ শুরু হবে বলে আশ্বাস দিলেও বাস্তবতা আমরা আজও দেখতে পাচ্ছি না।”
তিনি তিস্তা নদীর ভৌগোলিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “ভারতের সিকিম থেকে উৎপন্ন হয়ে তিস্তা নদী বাংলাদেশের নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্দাs জেলা অতিক্রম করে প্রায় ৩১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ব্রহ্মপুত্রে পতিত হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ অংশের ১১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তিস্তার দুই পাড়ে বসবাসরত দুই লক্ষ মানুষের জীবন আজ দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই কনকনে শীতে সংগঠনের পক্ষ থেকে অসহায় মানুষদের জন্য সামান্য উপহার দিতে পেরে আমরা কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছি। তবে স্থায়ী সমাধান ছাড়া তিস্তা তীরবর্তী মানুষের দুর্ভোগ কখনোই লাঘব হবে না। আমরা আশা করব, সরকার দ্রুত তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াবে।”
কম্বল পেয়ে হাঁসার পাড় এলাকার শীতার্ত মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এমন মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

তিস্তা তীরের দুইশ শীতার্ত মানুষের পাশে চর উন্নয়ন কমিটি

আপডেট সময় :

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার নাজিম খান ইউনিয়নের তিস্তা তীরবর্তী হাঁসার পাড় এলাকায় কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন কমিটির উদ্যোগে দুইশ শীতার্ত ও অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার বিকেলে হাঁসার পাড় এলাকায় এসব কম্বল বিতরণ করেন জেলা চর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি ও কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা চর উন্নয়ন কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ খাজা শরিফ উদ্দিন আহমেদ রিন্টু, অধ্যক্ষ শাহ আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আখের, সাইফুল ইসলাম বাদল, শিক্ষক মাহবুবুর রহমান, হাবিবুর রহমান ও নজির হোসেন মেম্বারসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, “তিস্তার ভাঙনে শুধু হাঁসার পাড় নয়, তিস্তার দুই তীর জুড়ে প্রায় দুই লক্ষ মানুষ আজ চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। প্রতি মুহূর্তে আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে— কখন নদী তাদের শেষ সম্বল ভিটেমাটি গিলে খায়।”
তিনি আরও বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা প্রায় এক দশক ধরে এই অঞ্চলের মানুষ শুনে আসছে। ২০১৬ সালে চীন এক বিলিয়ন ডলারের অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে এর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিস্তা শাসন কাজ শুরু হবে বলে আশ্বাস দিলেও বাস্তবতা আমরা আজও দেখতে পাচ্ছি না।”
তিনি তিস্তা নদীর ভৌগোলিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “ভারতের সিকিম থেকে উৎপন্ন হয়ে তিস্তা নদী বাংলাদেশের নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্দাs জেলা অতিক্রম করে প্রায় ৩১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ব্রহ্মপুত্রে পতিত হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ অংশের ১১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তিস্তার দুই পাড়ে বসবাসরত দুই লক্ষ মানুষের জীবন আজ দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই কনকনে শীতে সংগঠনের পক্ষ থেকে অসহায় মানুষদের জন্য সামান্য উপহার দিতে পেরে আমরা কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছি। তবে স্থায়ী সমাধান ছাড়া তিস্তা তীরবর্তী মানুষের দুর্ভোগ কখনোই লাঘব হবে না। আমরা আশা করব, সরকার দ্রুত তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াবে।”
কম্বল পেয়ে হাঁসার পাড় এলাকার শীতার্ত মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এমন মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।