নিয়ামতপুরে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা, আহত ২
- আপডেট সময় : ২৩ বার পড়া হয়েছে
আদালতের নির্দেশ অমান্য করে জোরপূর্বক পৈত্রিশ সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। প্রকাশ্যে দোকান ঘর ভাংচুর কওে উচ্ছেদেও চেষ্টা করে। ঘটনাটি ঘটে নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়নের চৌপুকুরিয়া গ্রামে। বাধা দিতে গেলে প্রতিপক্ষের আঘাতে এক বৃদ্ধসহ ২জন গুরুতর আহত হয়। এ নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দালে করা হয়।
সরেজমিনে ও থানায় লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়নের চৌপুকুরিয়া গ্রামের আব্দুল হামিদ চৌপুকুরিয়া বাজারে রাস্তার ধারে ৯শতক জায়গা ক্রয় করেন ১৯৬৯ সালে। আর এস খতিয়ানে উক্ত সম্পত্তি আব্দুল হামিদের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। সেই সময়কাল থেকে ক্রয়কৃত সম্পত্তি আব্দুল হামিদের ওয়ারিশগণ ভোগ দখল করে আসছে। সম্প্রতি সেই সম্পত্তির উপর নির্মিত দোকান ঘর একই গ্রামের মৃত আব্বাস আলীর ছেলে আব্দুল আজিজ, আব্দুল লতিফ, মৃত আব্দুল মজিদ কাজির ছেলে সুমন কাজি, আব্দুল লতিফের ছেলে সোহাগ কাজি, মৃত- আব্দুল মজিদের স্ত্রী শিরিনা গত ২৫ মে ভাংচুর করে জায়গা দখলের চেষ্টা করে। সর্বশেষ গত ২৩ জুলাই আবারও ঐ জায়গায় প্রতিপক্ষরা গাছ লাগয়ে দখলের চেষ্টা করে। বাধা দিতে গেলে প্রতিপক্ষের আঘাতে (১) আব্দুল ওয়াহের ছেলে আব্দুল মতিন (৫৫) ও (২) মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে মিঃ বাবু (৩৯) গুরুতর আহত হয়। তাদের নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আব্দুল হামিদের ছেলে আব্দুল ওহাব বলেন, চৌপুকুরিয়া মৌজায় ১০৯ নম্বর খতিয়ানভুক্ত ২১ দাগে আমার বাবা ১৯৬৯ সালে ৬শতক সম্পত্তি ক্রয় করে এবং আরএস রেকর্ডও আমার বাবার নামে হয়ে যায়। সেই সময় থেকে আমার উক্ত সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছি। কিন্তু আজিজ, লতিফ, সুমন, সোহাগ ও শিরিনাসহ আরো কয়েকজন দলবদ্ধ হয়ে আমারদের দুইটি দোকানঘর ভেঙ্গে ফেলে। তারপরেও আমরা কোন গন্ডগোল করি নাই। ওরা ভেঙ্গে ওরাই আবার আদালতে মামলা দায়ের করে। তারা পরপর দুইটি মামলা করে। আমরা আমাদের পক্ষে রায় পাই। থানায় অভিযোগ দেয় সেখানেও তারা হেরে রায়। কারো কোন কথা না মেনে গত ২৩ জুলাই আবারও জায়গা দখলের জন্য উক্ত জায়গায় গাছ লাগাতে যায়। তারা আমাদেও সম্পত্তির উপর বার বার দখলের জন্য আসলেও তাদের সম্পত্তির খতিয়ানই আলাদা।
ভুক্তভোগী নুরুল্লাহ বলেন, আমার চৌপুকুরিয়া গ্রামে ৩ শতক জমি নিজের দখলে রয়েছে। এমতাবস্থায় সুমন কাজি, আব্দুল আজিজ কাজি ঐ জমির উপর মামলা করে। সে মামলার রায় আমার পক্ষে আসে। এবং তারপরে তারা বাটোয়ারা মামলা করে, বাটোয়ারা মামলা চলাঅবস্থায় ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে আমার দুইটি টিনের ঘর ভাংচুর করে এবং লুটপাট করে। এ অবস্থায় আমি থানায় অভিযোগ করলে থানায় বসা হয় এবং তারা অস্বীকৃতি জানায়। আমাদেও হুমকি, ধুমকি দিয়ে আসছিল তারপর গত ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার তারা আমাদেও উচ্ছেদেও জন্য জমি দখল করতে যায় এমতাবস্থায় আমরা বাধা দিলে তারা আমাদের উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা কওে আমাদের একজনকে মারাত্মকভাবে আহত করে। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবী করি।
আরেক ভুক্তভোগী মাসুদ হোসাইন বলেন, আমাদের চৌপুকুরিয়া গ্রামে আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তির উপর ঘর ছিল। সেই ঘরগুলোকে সুমন কাজি আমাদের এই দখলদারী জায়গার উপর নির্মিত ঘরগুলি ভাংচুর করে। তারা পুনরায় গত ২৩ জুলাই দখলের উদ্দেশ্যে গাছ লাগাতে আসলে আমরা বাধা দিলে তারা আমার বাবার উপর আক্রমন কওে আহত করা হয়। বর্তমানে আমার বাবা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
অভিযুক্ত সুমন কাজি বলেন, বিবাদীয় জমি আমাদের বাপ দাদার সম্পত্তি। ওদের কোন জায়গা এখানে নেই। আব্দুল হামিদ ২১ দাগে ৬ শতক জায়গা ক্রয় করেছিল। তারা সেই সম্পত্তি বিক্রি করে দেয়। এর পরেও তারা জোর করে জায়গাটি দখল করে রেখেছিল। আমরা দখলে গেলে তারা আমাদের উপর আক্রমন করে আমার চাচা আব্দুল আজিজকে মারধর করে মারাত্মকভাবে আহত করে। এ নিয়ে থানায় একাধিকবার সালিসে বসলেও এর কোন সমাধান হয়নি।
নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইন চার্জ মাহবুবুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

















