ভোটে জয়ী হলে বাংলাদেশের চিত্র পাল্টে দিব : জামায়াত আমির
- আপডেট সময় : ১৫ বার পড়া হয়েছে
১২ ই ফেব্রুয়ারীতে আপনাদের ভোটে বিজয়ী হলে বাংলাদেশের চিএ পাল্টে দেব গতকাল শুক্রবার ফেনীর শতবর্ষী পাইলট হাই স্কুল মাঠের ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় আমিরে জামাত ডাঃ শফিকুর রহমান আরও বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের পবিএ আমানতের ভোটে জয়ী হওয়ার পর ১৩ তারিখ থেকে বাংলাদেশের চিত্র পাল্টে দিব । দেশের নব্বই শতাংশ চাঁদাবাজের হাত চিরতরে অচল বা অবশ করে দেওয়া হবে।
জামায়াত আমির আরো বলেন, বাবার রাজা ছেলে রাজা হবে তা আমরা হতে দিবো না। আমরা পরিবর্তনের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবো, এ দেশে একজন সাধারণ মানুষ থেকে রিকশাচালকও তার যোগ্যতায় এমপি-মন্ত্রী হতে পারবে। আমরা চাঁদাবাজ ও সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল ঢাকার ছাএ আন্দোলনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় সমুহ থেকে, যেখানে আমাদের বোনদের উপরও আঘাত অত্যাচার নির্যাতন করতে তৎকালীন শাসক গোষ্ঠী দ্বিধা করেনি। থামেনি তাদের জুলুম নির্যাতন।
জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদের সহ সকল শহীদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে আমিরে জামাত আরও বলেন, যারা বুক পেতে বলেছিল, মোরা বুক পেতেছি, গুলি কর। তারা পালিয়ে যায়নি, বরং তাদের ধমনির রক্ত আমাদের কাছে পবিত্র আমানত হিসাবে রেখে গেছে। এই বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল সাম্যের ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠা করাই এখন আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ ও একমাএ ব্রত ।
প্রকৃতির উপর জুলুম ও বর্তমান পরিবেশ-সমসাময়িক আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, মাঘ মাসে শীত নাই, বর্ষায় বৃষ্টি নাই। কেন নাই? কারণ, এ দেশ যারা পরিচালনা করেছে, তারা প্রকৃতির ওপর জুলুম করেছে, প্রকৃতিকে লুণ্ঠন করেছে। মানুষের এই হঠকারী আচরণের মূল্য এখন পুরো জাতিকে ধুঁকে ধুঁকে পরিশোধ করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, চাঁদাবাজরা বাজপাখির মতো কালো চেহারা ধারণ করে সাধারণ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। এর ফলে কৃষক, পরিবহণ মালিক এবং খুচরা ব্যবসায়ী সবাই আজ ক্ষতিগ্রস্ত ও অতিষ্ঠ।
বর্তমানে প্রশাসন যন্ত্রের অবহেলা বা কিছু ক্ষেত্রে ভাগ- বাটোয়ারার কারণে চাঁদাবাজি চললেও আগামীতে তা আর সহ্য করা হবে না। চাঁদাবাজ কার বাবা, কার মা বা কার সন্তান তা দেখা হবে না। আমরা সেদিন হবো নির্দয়, নিষ্ঠুর ও কঠোর। যারা রাজনীতি করবেন আবার চাঁদাবাজি ও করবেন, তাদের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে।
জনসভায় বক্তব্য রাখেন ফেনী-১ আসনের জামাতের প্রার্থী এস এম কামাল উদ্দিন, ফেনী-৩ এর প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ফেনী-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আমার বাংলাদেশের ‘এবি পার্টির’ চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জামায়াতের কেন্দ্রীয় শুরা কমিটির সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুক্তি আবদুল হান্নান। সমাবেশে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নির্বাচনি জনসভা শেষে আমিরে জামাত ডাঃ শফিকুর রহমান ফেনীতে ২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট হাসিনা সরকারের ক্যাডারদের গুলিতে নিহত-আহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের আশস্ত করে বলেন আমরা আপনাদের পাশে আছি ভয় নেই ।



















