ঢাকা ০৪:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬

শিবগঞ্জে মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা মৌয়ালদের

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৯০ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে সরিষা চাষ বৃদ্ধির ফলে বেড়েছে মধু চাষ ও মৌয়ালদের সংখ্যা। মধু চাষে মৌয়ালদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের মাঠগুলো। উপজেলার প্রায় প্রতিটি মাঠে সরিষে ক্ষেতে সারি বদ্ধভাবে সহস্রাধিক মৌবাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। স্থানীয় তেমন মৌয়াল না থাকায় স্বল্প পুঁজিতে লাভের আশায় দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে শতাধিক মৌয়াল শিবগঞ্জে এসে মধু চাষে যুক্ত রয়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরিষা ক্ষেতে মৌচাষ ফসলের কোনো ক্ষতি করে না, বরং মৌমাছির পরাগায়নের ফলে সরিষার ফলন বৃদ্ধি পায়। এ কারণে কৃষি বিভাগ চাষিদের সরিষা ক্ষেতে কীটনাশক বা বিষ প্রয়োগ না করার বিষয়ে সচেতন করছে। চলতি মৌসুমে শিবগঞ্জ উপজেলায় মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ১২ হাজার কেজি। এর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ১০ হাজার কেজি মধু উৎপাদন হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, ঝিনাউদহ, বগুড়া, রাজশাহী, নাটোর, নেত্রকোনা, নড়াইল ও সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মৌয়ালরা দলবদ্ধভাবে মৌচাষ করছেন।
শিবগঞ্জ উপজেলায় দাইপুখুরিয়ায় মধু উৎপাদন আসা মোঃ রকিবুল ইসলাম জানান, আমরা প্রতি বছর মৌমাছি নিয়ে এই উপজেলায় আসি। এই উপজেলায় সরিষা চাষ বেশি হওয়ায় মধু সংগ্রহে আগ্রহ বাড়ছে মৌয়ালদের। তিনি আরো বলেন, আমরা প্রায় ১০/১৫ দিন পরপর মৌ বক্স খুলে মধু সংগ্রহ করি। আবহাওয়া ভালো হলে প্রতি সাপ্তাহেও মধু সংগ্রহ করা যায়। আশা করছি এ মৌসুমে আমার ৭০টি বক্স থেকে ৮/৯’শ কেজি মধু সংগ্রহ করতে পারবো। ইতিমধ্যে এপর্যন্ত আমার বক্স থেকে ৫/৬’শ কেজি মধু সংগ্রহ করেছি।
কিশোরহাট মৌচাষ সমবায় সমিতির সভাপতি শামসুল হক জানান, নাটোরের গুরুদাসপুর থেকে তারা প্রায় ২০ দিন আগে শিবগঞ্জে এসেছেন। ৭৫টি মৌবাক্স থেকে এক সপ্তাহ পর পর প্রায় ৪০০ কেজি মধু সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত তারা ১৯ মণ মধু সংগ্রহ করেছেন।
নড়াইল থেকে আসা মৌয়াল নুরুল ইসলাম বলেন, মৌচাষে সফলতার গল্প শুনে কয়েক বছর আগে তিনি এই পেশায় যুক্ত হন। তিনজন অংশীদার মিলে প্রতি বছর খরচ বাদ দিয়ে জনপ্রতি প্রায় ২৫ লাখ টাকা আয় করেন। এবারও ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি।
এব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ নয়ন মিয়া বলেন, এবছর উপজেলায় ৮ হাজার ৬’শ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হচ্ছে। আমরা বিভিন্ন এলাকায় সরিষার মাঠ পরিদর্শন করেছি। আশা করছি, উৎপাদনও ভালো হবে।
তিনি আরো বলেন, এবছর ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, বগুড়া ও রাজশাহী অঞ্চল থেকে মৌচাষীরা এসেছেন। উপজেলার ১১টি স্থানে ১১টি মৌয়াল দল তাঁদের মধু চাষ করছেন। এতে ১ হাজার ১০৬টি মৌ বক্সে তাঁরা কাজ করছেন। আমরা এবছর প্রায় ১২ হাজার কেজি মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছি। ইতোমধ্যে আমরা মধু পেয়েছি প্রায় ১০ হাজার কেজি। স্থানীয়ভাবে চাহিদা থাকায় মৌয়ালরা সেখানেই মধু বিক্রয় করছেন। আমাদের সাথে যোগাযোগ থাকায় আমরাও বিভিন্ন জায়গায় মধু বিক্রয়ের পরামর্শ দিচ্ছি এবং মধুর গুনগতমান যেন ঠিক থাকে এ বিষয়ে তাদের সঠিক পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশ হ্যানি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আরিফ উদ্দিন বলেন, মৌচাষে বিসিকের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। দেশে মধুর চাহিদা প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন হলেও উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ১৬ হাজার মেট্রিক টন। সঠিক সহায়তা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো গেলে বছরে ৫০ থেকে ৬০ হাজার মেট্রিক টন মধু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। মৌয়ালদের নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা গেলে আগামীতে এই সেক্টরে ভালো ফলাফল পাওয়ার আশা করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শিবগঞ্জে মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা মৌয়ালদের

আপডেট সময় :

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে সরিষা চাষ বৃদ্ধির ফলে বেড়েছে মধু চাষ ও মৌয়ালদের সংখ্যা। মধু চাষে মৌয়ালদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের মাঠগুলো। উপজেলার প্রায় প্রতিটি মাঠে সরিষে ক্ষেতে সারি বদ্ধভাবে সহস্রাধিক মৌবাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। স্থানীয় তেমন মৌয়াল না থাকায় স্বল্প পুঁজিতে লাভের আশায় দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে শতাধিক মৌয়াল শিবগঞ্জে এসে মধু চাষে যুক্ত রয়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরিষা ক্ষেতে মৌচাষ ফসলের কোনো ক্ষতি করে না, বরং মৌমাছির পরাগায়নের ফলে সরিষার ফলন বৃদ্ধি পায়। এ কারণে কৃষি বিভাগ চাষিদের সরিষা ক্ষেতে কীটনাশক বা বিষ প্রয়োগ না করার বিষয়ে সচেতন করছে। চলতি মৌসুমে শিবগঞ্জ উপজেলায় মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ১২ হাজার কেজি। এর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ১০ হাজার কেজি মধু উৎপাদন হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, ঝিনাউদহ, বগুড়া, রাজশাহী, নাটোর, নেত্রকোনা, নড়াইল ও সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মৌয়ালরা দলবদ্ধভাবে মৌচাষ করছেন।
শিবগঞ্জ উপজেলায় দাইপুখুরিয়ায় মধু উৎপাদন আসা মোঃ রকিবুল ইসলাম জানান, আমরা প্রতি বছর মৌমাছি নিয়ে এই উপজেলায় আসি। এই উপজেলায় সরিষা চাষ বেশি হওয়ায় মধু সংগ্রহে আগ্রহ বাড়ছে মৌয়ালদের। তিনি আরো বলেন, আমরা প্রায় ১০/১৫ দিন পরপর মৌ বক্স খুলে মধু সংগ্রহ করি। আবহাওয়া ভালো হলে প্রতি সাপ্তাহেও মধু সংগ্রহ করা যায়। আশা করছি এ মৌসুমে আমার ৭০টি বক্স থেকে ৮/৯’শ কেজি মধু সংগ্রহ করতে পারবো। ইতিমধ্যে এপর্যন্ত আমার বক্স থেকে ৫/৬’শ কেজি মধু সংগ্রহ করেছি।
কিশোরহাট মৌচাষ সমবায় সমিতির সভাপতি শামসুল হক জানান, নাটোরের গুরুদাসপুর থেকে তারা প্রায় ২০ দিন আগে শিবগঞ্জে এসেছেন। ৭৫টি মৌবাক্স থেকে এক সপ্তাহ পর পর প্রায় ৪০০ কেজি মধু সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত তারা ১৯ মণ মধু সংগ্রহ করেছেন।
নড়াইল থেকে আসা মৌয়াল নুরুল ইসলাম বলেন, মৌচাষে সফলতার গল্প শুনে কয়েক বছর আগে তিনি এই পেশায় যুক্ত হন। তিনজন অংশীদার মিলে প্রতি বছর খরচ বাদ দিয়ে জনপ্রতি প্রায় ২৫ লাখ টাকা আয় করেন। এবারও ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি।
এব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ নয়ন মিয়া বলেন, এবছর উপজেলায় ৮ হাজার ৬’শ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হচ্ছে। আমরা বিভিন্ন এলাকায় সরিষার মাঠ পরিদর্শন করেছি। আশা করছি, উৎপাদনও ভালো হবে।
তিনি আরো বলেন, এবছর ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, বগুড়া ও রাজশাহী অঞ্চল থেকে মৌচাষীরা এসেছেন। উপজেলার ১১টি স্থানে ১১টি মৌয়াল দল তাঁদের মধু চাষ করছেন। এতে ১ হাজার ১০৬টি মৌ বক্সে তাঁরা কাজ করছেন। আমরা এবছর প্রায় ১২ হাজার কেজি মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছি। ইতোমধ্যে আমরা মধু পেয়েছি প্রায় ১০ হাজার কেজি। স্থানীয়ভাবে চাহিদা থাকায় মৌয়ালরা সেখানেই মধু বিক্রয় করছেন। আমাদের সাথে যোগাযোগ থাকায় আমরাও বিভিন্ন জায়গায় মধু বিক্রয়ের পরামর্শ দিচ্ছি এবং মধুর গুনগতমান যেন ঠিক থাকে এ বিষয়ে তাদের সঠিক পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশ হ্যানি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আরিফ উদ্দিন বলেন, মৌচাষে বিসিকের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। দেশে মধুর চাহিদা প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন হলেও উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ১৬ হাজার মেট্রিক টন। সঠিক সহায়তা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো গেলে বছরে ৫০ থেকে ৬০ হাজার মেট্রিক টন মধু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। মৌয়ালদের নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা গেলে আগামীতে এই সেক্টরে ভালো ফলাফল পাওয়ার আশা করেন তিনি।