ঢাকা ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বান্দরবানে শুরু হলো জাতীয় ফল মেলা Logo বেনাপোল বন্দর দিয়ে মাছ আমদানি বন্ধের পথে Logo সুবর্ণচরে ৬১৫ পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ Logo দিনাজপুরে পুষ্টি কার্যক্রম সমন্বয়ে মিউনিসিপ্যালিটি লেভেল মাল্টি-সেক্টরাল নিউট্রিশন কো-অর্ডিনেশন কমিটি (এমএলএমএনসিসি)’র কমিটির ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত Logo লোহাগাড়ায় ধান সংগ্রহে অনিয়ম, ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত প্রকৃত কৃষকরা Logo টেকনাফ ৩০৩ পিস ইয়াবাসহ মাদক পাচারকারী আটক Logo টেকনাফে ২১ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ Logo রামুতে ৭২ শিক্ষকের পদ শূন্য, চাপে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা Logo মুন্সীগ‌ঞ্জে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা, মোটরসাইকেলে আগুন Logo প্রেমের টানে চীন থেকে নবীনগরে চীনা যুবক, এলাকায় চাঞ্চল্য!

ফেরেনি শতাধিক জেলেসহ ছয় ট্রলার, সাগরে নিখোঁজ ২৭

গণমুক্তি ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ৩১০ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় শতাধিক জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নোয়াখালীর হাতিয়ার ২৭ জেলে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর পর্যন্ত নিখোঁজ জেলেদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এখনো ঘাটে ফিরেনি শতাধিক জেলেসহ ৬টি ট্রলার। এসব ট্রলারের সঙ্গে কোনোভাবে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তবে যোগাযোগে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এসব ট্রলার নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন মালিকরা। উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, ঘাটের আড়ৎদার ও ট্রলার মালিকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

হাতিয়া আমতলী ঘাটের মাছের আড়তের মালিক দুলাল উদ্দিন জানান, নিখোঁজ ২৭ জেলের মধ্যে আমতলি ঘাটের কামরু মাঝির ট্রলারের ১৫ জন। এই ট্রলারের ১৭ জনের মধ্যে দুজনকে কক্সবাজারের একটি ট্রলার উদ্ধার করেছে। পরে কক্সবাজার থেকে উদ্ধার হওয়া জেলেরা মোবাইল ফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

একই ঘাটের রহিম মাঝির ট্রলারের ১২জন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। ওই ট্রলারের ১৪ মাঝি মাল্লার মধ্যে দুজনকে নিঝুমদ্বীপের একটি ট্রলার উদ্ধার করে তীরে নিয়ে যান।

দুলাল উদ্দিন আরও জানান, একই ঘাটের মেরাজ মাঝির একটি ট্রলার ডুবে গেলে ১৭ মাঝি মাল্লা সবাইকে স্থানীয় অন্য একটি ট্রলার উদ্ধার করে তীরে নিয়ে যান। এই তিনটি ট্রলার তার আড়তে মাছ বিক্রির জন্য আসে।
জাহাজমারার ট্রলার মালিক লুৎফুল্লাহিল নিশান জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে শনিবার বিকেল পর্যন্ত ৬টি ট্রলার ঘাটে ফিরে আসেনি। এরমধ্যে নিঝুমদ্বীপের ৪টি ও জাহাজমারা কাটাখালী ঘাটের দুটি ট্রলার এখনো ঘাটে ফেরেনি। এসব  ট্রলারের সঙ্গে কোনোভাবে যোগাযোগ করা যায়নি।

তিনি আরও জানান, ঘাটে ফিরে আসা অন্যান্য ট্রলারের মাঝি মাল্লারা এসব ট্রলার সাগরে দেখেননি। এতে এসব ট্রলারের বর্তমান কী অবস্থা, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন মালিকরা। এই ৬টি ট্রলারে প্রায় ১০০ মাঝি মাল্লা রয়েছে।

তবে ট্রলারডুবির ঘটনায় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানান উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফাহাদ হাসান।
তিনি জানান, গত দুদিনে হাতিয়ার বিভিন্ন ঘাটে ও নদীর তীরে ছোট বড় ২৯টি ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। অধিকাংশ ট্রলারের মাঝি-মাল্লারা সাঁতরে ও অন্য ট্রলারের সহযোগিতায় তীরে উঠে আসেন। তবে এসব ঘটনায় নিঝুমদ্বীপের একজন এবং আমতলী ঘাটের চারজন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন বলে তার কাছে তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া অন্যরা উদ্ধার হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মিল্টন চাকমা জানান, নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড কাজ করছে। এরই মধ্যে অনেক জেলে ফিরে এসেছেন। তবে এখনো নিঝুমদ্বীপের একজন এবং আমতলী ঘাটের চারজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।  সাগর উত্তাল থাকায় উদ্ধার অভিযান করা যাচ্ছে না। তবে স্থানীয়ভাবে ট্রলার মালিকরাও উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ফেরেনি শতাধিক জেলেসহ ছয় ট্রলার, সাগরে নিখোঁজ ২৭

আপডেট সময় :

 

বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় শতাধিক জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নোয়াখালীর হাতিয়ার ২৭ জেলে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর পর্যন্ত নিখোঁজ জেলেদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এখনো ঘাটে ফিরেনি শতাধিক জেলেসহ ৬টি ট্রলার। এসব ট্রলারের সঙ্গে কোনোভাবে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তবে যোগাযোগে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এসব ট্রলার নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন মালিকরা। উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, ঘাটের আড়ৎদার ও ট্রলার মালিকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

হাতিয়া আমতলী ঘাটের মাছের আড়তের মালিক দুলাল উদ্দিন জানান, নিখোঁজ ২৭ জেলের মধ্যে আমতলি ঘাটের কামরু মাঝির ট্রলারের ১৫ জন। এই ট্রলারের ১৭ জনের মধ্যে দুজনকে কক্সবাজারের একটি ট্রলার উদ্ধার করেছে। পরে কক্সবাজার থেকে উদ্ধার হওয়া জেলেরা মোবাইল ফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

একই ঘাটের রহিম মাঝির ট্রলারের ১২জন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। ওই ট্রলারের ১৪ মাঝি মাল্লার মধ্যে দুজনকে নিঝুমদ্বীপের একটি ট্রলার উদ্ধার করে তীরে নিয়ে যান।

দুলাল উদ্দিন আরও জানান, একই ঘাটের মেরাজ মাঝির একটি ট্রলার ডুবে গেলে ১৭ মাঝি মাল্লা সবাইকে স্থানীয় অন্য একটি ট্রলার উদ্ধার করে তীরে নিয়ে যান। এই তিনটি ট্রলার তার আড়তে মাছ বিক্রির জন্য আসে।
জাহাজমারার ট্রলার মালিক লুৎফুল্লাহিল নিশান জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে শনিবার বিকেল পর্যন্ত ৬টি ট্রলার ঘাটে ফিরে আসেনি। এরমধ্যে নিঝুমদ্বীপের ৪টি ও জাহাজমারা কাটাখালী ঘাটের দুটি ট্রলার এখনো ঘাটে ফেরেনি। এসব  ট্রলারের সঙ্গে কোনোভাবে যোগাযোগ করা যায়নি।

তিনি আরও জানান, ঘাটে ফিরে আসা অন্যান্য ট্রলারের মাঝি মাল্লারা এসব ট্রলার সাগরে দেখেননি। এতে এসব ট্রলারের বর্তমান কী অবস্থা, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন মালিকরা। এই ৬টি ট্রলারে প্রায় ১০০ মাঝি মাল্লা রয়েছে।

তবে ট্রলারডুবির ঘটনায় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানান উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফাহাদ হাসান।
তিনি জানান, গত দুদিনে হাতিয়ার বিভিন্ন ঘাটে ও নদীর তীরে ছোট বড় ২৯টি ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। অধিকাংশ ট্রলারের মাঝি-মাল্লারা সাঁতরে ও অন্য ট্রলারের সহযোগিতায় তীরে উঠে আসেন। তবে এসব ঘটনায় নিঝুমদ্বীপের একজন এবং আমতলী ঘাটের চারজন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন বলে তার কাছে তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া অন্যরা উদ্ধার হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মিল্টন চাকমা জানান, নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড কাজ করছে। এরই মধ্যে অনেক জেলে ফিরে এসেছেন। তবে এখনো নিঝুমদ্বীপের একজন এবং আমতলী ঘাটের চারজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।  সাগর উত্তাল থাকায় উদ্ধার অভিযান করা যাচ্ছে না। তবে স্থানীয়ভাবে ট্রলার মালিকরাও উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।