ঢাকা ০৯:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কাঁঠালিয়ায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন Logo বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসনে সরকার কাজ করে যাবে: ত্রাণমন্ত্রী Logo শ্রীপুরে জমি দখল ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন Logo আগামীকাল কুড়িগ্রামে এনসিপির কৃষক সমাবেশে যোগ দেবেন নাহিদ ইসলাম Logo ৭৩ বছর পর ছোনকা বিদ্যালয়ে বাণিজ্য বিভাগের অনুমোদন Logo নগরকান্দায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে সড়ক সংস্কার, স্বস্তি এলাকাবাসীর Logo দলিল লেখক মিন্টু হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১০ জনের যাবজ্জীবন Logo ঈশ্বরদীতে বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্পে ৮০ জনের ছানি অপারেশন Logo লাইসেন্স ছাড়া করাতকল পরিচালনা, আদমদীঘিতে জরিমানা ৩০ হাজার ৫০০ টাকা Logo কুড়িগ্রামে ‘জুলাই শহিদ দিবস’ পালনে প্রস্তুতি সভা

গতি নেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ৪৪৫ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকালে লুট হওয়া পুলিশের অস্ত্র উদ্ধারে গতি নেই। লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে গত সেপ্টেম্বরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী যে তোড়জোড় শুরু করেছিল, তার গতি অনেকটাই কমে গেছে। আর লুটের অস্ত্র অপরাধীদের হাতে চলে গেছে। অতিসম্প্রতি চট্টগ্রাম শহরের ডবলমুরিং এলাকায় ডাকাতদের একটি গোপন আস্তানা থেকে লুট হওয়া বিপুল গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে লুট হওয়া অস্ত্র বিক্রি করতে গিয়ে গত আগস্টে ফেনীতে ধরা পড়ে এক যুবক। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় গত বছরের ৫ ও ৬ আগস্ট দেশের বিভিন্ন থানায় ও কারাগারে হামলা চালিয়ে পিস্তল, রিভলভার, শটগানসহ ১১ ধরনের পাঁচ হাজার ৭৫০টি অস্ত্র লুট হয়। তার মধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে চার হাজার ৩৫৮টি অস্ত্র। এখন পর্যন্ত উদ্ধারের বাইরে রয়েছে এক হাজার ৩৯২টি অস্ত্র। ওসব অস্ত্রের মধ্যে গণভবন ও জাতীয় সংসদ ভবন থেকে লুট হওয়া এসএসএফের অস্ত্রও রয়েছে। সূত্র জানায়, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে অনেক ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের পুলিশ চেইন অব কমান্ড মানছে না। মানছে না সদর দপ্তরের নির্দেশনাও।

বিভিন্ন অজুহাতে তারা নিষ্ক্রিয়। আর এওই সুযোগে ডাকাত, ছিনতাইকারী ও দস্যুরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। দিন দিন অপরাধ বাড়ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যানুযায়ী গত বছরের আগস্ট মাসে ডাকাতির মামলা হয় ৩৭টি। পরের মাস সেপ্টেম্বরে ডাকাতি বেড়ে ৫৭টিতে দাঁড়ায়। তাছাড়া ওই মাসটিতে ১০৪টি দস্যুতার মামলা হয়।

অক্টোবরে ডাকাতির মামলা বেড়ে ৬৮ এবং দস্যুতা ১৫৭টিতে গিয়ে দাঁড়ায়। নভেম্বরে ডাকাতির ৪৭ এবং দস্যুতার ১৩৩টি মামলা হয়। গত ডিসেম্বরে ডাকাতির মামলা হয় ৭১টি এবং দস্যুতার মামলা হয় ১৫৯টি। জানুয়ারি মাসেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক ডাকাতির তথ্য মিলছে। সূত্র জানায়, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে মাঠপর্যায়ের পুলিশের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা দেখা যাচ্ছে। তাছাড়া কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরাও পুলিশকে প্রভাবিত করছে। যার সঙ্গে জড়িয়ে গেছে বিগত সরকারের আমলে সুবিধা পাওয়া পুলিশ সদস্যরাও। তাছাড়া নানা কারণে পুলিশের মনোবল পুরোপুরি ফিরে আসেনি। যদিও পুলিশের মনোবল বাড়াতে প্রতিনিয়ত মোটিভেট করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) ইনামুল হক সাগর জানান, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা মেনে কাজ করছে মাঠপর্যায়ের পুলিশ। অস্ত্র উদ্ধার অন্যতম অগ্রাধিকার। সারা দেশে অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

গতি নেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে

আপডেট সময় :

দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকালে লুট হওয়া পুলিশের অস্ত্র উদ্ধারে গতি নেই। লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে গত সেপ্টেম্বরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী যে তোড়জোড় শুরু করেছিল, তার গতি অনেকটাই কমে গেছে। আর লুটের অস্ত্র অপরাধীদের হাতে চলে গেছে। অতিসম্প্রতি চট্টগ্রাম শহরের ডবলমুরিং এলাকায় ডাকাতদের একটি গোপন আস্তানা থেকে লুট হওয়া বিপুল গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে লুট হওয়া অস্ত্র বিক্রি করতে গিয়ে গত আগস্টে ফেনীতে ধরা পড়ে এক যুবক। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় গত বছরের ৫ ও ৬ আগস্ট দেশের বিভিন্ন থানায় ও কারাগারে হামলা চালিয়ে পিস্তল, রিভলভার, শটগানসহ ১১ ধরনের পাঁচ হাজার ৭৫০টি অস্ত্র লুট হয়। তার মধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে চার হাজার ৩৫৮টি অস্ত্র। এখন পর্যন্ত উদ্ধারের বাইরে রয়েছে এক হাজার ৩৯২টি অস্ত্র। ওসব অস্ত্রের মধ্যে গণভবন ও জাতীয় সংসদ ভবন থেকে লুট হওয়া এসএসএফের অস্ত্রও রয়েছে। সূত্র জানায়, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে অনেক ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের পুলিশ চেইন অব কমান্ড মানছে না। মানছে না সদর দপ্তরের নির্দেশনাও।

বিভিন্ন অজুহাতে তারা নিষ্ক্রিয়। আর এওই সুযোগে ডাকাত, ছিনতাইকারী ও দস্যুরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। দিন দিন অপরাধ বাড়ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যানুযায়ী গত বছরের আগস্ট মাসে ডাকাতির মামলা হয় ৩৭টি। পরের মাস সেপ্টেম্বরে ডাকাতি বেড়ে ৫৭টিতে দাঁড়ায়। তাছাড়া ওই মাসটিতে ১০৪টি দস্যুতার মামলা হয়।

অক্টোবরে ডাকাতির মামলা বেড়ে ৬৮ এবং দস্যুতা ১৫৭টিতে গিয়ে দাঁড়ায়। নভেম্বরে ডাকাতির ৪৭ এবং দস্যুতার ১৩৩টি মামলা হয়। গত ডিসেম্বরে ডাকাতির মামলা হয় ৭১টি এবং দস্যুতার মামলা হয় ১৫৯টি। জানুয়ারি মাসেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক ডাকাতির তথ্য মিলছে। সূত্র জানায়, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে মাঠপর্যায়ের পুলিশের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা দেখা যাচ্ছে। তাছাড়া কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরাও পুলিশকে প্রভাবিত করছে। যার সঙ্গে জড়িয়ে গেছে বিগত সরকারের আমলে সুবিধা পাওয়া পুলিশ সদস্যরাও। তাছাড়া নানা কারণে পুলিশের মনোবল পুরোপুরি ফিরে আসেনি। যদিও পুলিশের মনোবল বাড়াতে প্রতিনিয়ত মোটিভেট করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) ইনামুল হক সাগর জানান, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা মেনে কাজ করছে মাঠপর্যায়ের পুলিশ। অস্ত্র উদ্ধার অন্যতম অগ্রাধিকার। সারা দেশে অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চলছে।