ঢাকা ০২:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

# শোকের ভারে থমকে গেছে বিএনপি # রাজধানী থেকে জেলা-উপজেলা বিএনপির কার্যালয়গুলোতে এক ধরনের স্তব্ধতা # তারেক রহমানের সক্ষমতার প্রতি পূর্ণ আস্থা আছে দেশবাসীর

তারেক রহমানেই আস্থা

মহিউদ্দিন তুষার, সিনিয়র রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ৫৯৫ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল শুধু বিএনপিরই নয়, দেশেরে রাজনীতিতেই বাইছে ভীর শোকের আবহ। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর তিনদিন পেরিয়ে গেলেও শোকের মাতম এখনও কাটিয়ে ওঠা যায়নি। রাজধানী থেকে জেলা-উপজেলা পর্যন্ত বিএনপির কার্যালয়গুলোতে নেমে আসে এক ধরনের স্তব্ধতা। নেতাকর্মীদের চোখেমুখে স্পষ্ট হয়ে ওঠে গভীর বেদনা ও অনিশ্চয়তার ছাপ।  তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিদায়ে বিএনপি যেন হঠাৎ করেই অনেকটা দিশাহারা হয়ে পড়েছে। এমন কঠিন সময়টাতে শোককে শক্তিতে পরিণত করার কঠিন চ্যালেঞ্জ এখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাধে। একদিকে মা হারানোর বেদনা অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দলের নেতৃত্ব দেয়া দুটোই একজন নেতার সামনে উত্তাল সাগর পাড়ি দেয়ার মতোই। বর্তমান পেক্ষাপটে তারেক রহমানের সক্ষমতার প্রতি পূর্ণ আস্থা আছে দেশবাসীর এমনটাই মনে করে রাজনেতিক বিশ্লেষকরা।

বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের ঢল নামে। রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে অনুষ্ঠিত জানাজায় সারাদেশ থেকে আসা বিএনপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, বিদেশি কূটনৈতিক এবং সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে এটি রূপ নেয় ইতিহাসের স্মরণকালের সবচেয়ে বড় জানাজায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এর আগে কোনো রাজনৈতিক নেতার জানাজায় এত বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়নি। শোকাবহ এই সমাবেশে মানুষের কান্না, আবেগ ও শ্রদ্ধা নিবেদন স্পষ্ট করে দেয় বেগম খালেদা জিয়া শুধু একটি দলের নেত্রী নন, তিনি ছিলেন বহু মানুষের রাজনৈতিক বিশ্বাস ও আস্থার প্রতীক।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের শোকের ভার বিরাজ করছে। সরকারিভাবে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিএনপির পক্ষ থেকে সাত দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এই সময়ের মধ্যে দলীয় সব রাজনৈতিক কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কার্যালয়গুলোতে কালো পতাকা উত্তোলন, দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই শোক কেবল আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব পড়েছে দলের সামগ্রিক সাংগঠনিক গতিশীলতার ওপর। নির্বাচন সামনে রেখে যেখানে বিএনপির জোরালো প্রস্তুতির কথা ছিল, সেখানে দলে এখন এক ধরনের স্থবিরতা লক্ষ করা যাচ্ছে।

বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বিএনপির ঐক্যের প্রধান প্রতীক। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার কারণে তিনি সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও তার উপস্থিতিই দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখত বলে মনে করেন নেতাকর্মীরা। তার মৃত্যুতে বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো। দলীয় সূত্র জানায়, চেয়ারপারসনের মৃত্যুর পর দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দলের দায়িত্ব পালন করবেন তার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান। তিনি এর আগেও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দল পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো শোকাচ্ছন্ন দলকে দ্রুত সংগঠিত করা এবং নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডেটলাইন সামনে রেখে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু বিএনপির জন্য এক বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শোকের আবহে দলীয় কর্মসূচি স্থবির থাকলেও নির্বাচন বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ নেই। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপিকে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শোক সামলে আবার রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় হতে হবে। একই সঙ্গে, বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের অভূতপূর্ব উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে বিএনপির সমর্থকরা নতুন করে উজ্জীবিত হলেও সেই আবেগকে বাস্তব রাজনৈতিক কৌশলে রূপ দেওয়া সহজ হবে না। নেতৃত্বের অভাব, সিদ্ধান্তহীনতা এবং সময়ের চাপ দলটির জন্য বড় দুর্বলতা হয়ে উঠতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতির একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটিয়েছে। সামরিক শাসন পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে গণতান্ত্রিক আন্দোলন, সরকার পরিচালনা ও বিরোধী রাজনীতি সব ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন কেন্দ্রীয় চরিত্র। তার বিদায়ে বিএনপি যেমন অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে, তেমনি দেশের রাজনীতিও হারিয়েছে এক প্রভাবশালী ও বিতর্কিত নেতৃত্বকে। শোকের এই সময়ে বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন কীভাবে তারা এই শূন্যতা পূরণ করবে এবং কোন পথে সামনে এগিয়ে যাবে। আপাতত শোকের ভারে থমকে আছে দলটির রাজনীতি, তবে সময়ই বলে দেবে এই স্থবিরতা কত দ্রুত কাটিয়ে উঠতে পারে বিএনপি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

# শোকের ভারে থমকে গেছে বিএনপি # রাজধানী থেকে জেলা-উপজেলা বিএনপির কার্যালয়গুলোতে এক ধরনের স্তব্ধতা # তারেক রহমানের সক্ষমতার প্রতি পূর্ণ আস্থা আছে দেশবাসীর

তারেক রহমানেই আস্থা

আপডেট সময় :

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল শুধু বিএনপিরই নয়, দেশেরে রাজনীতিতেই বাইছে ভীর শোকের আবহ। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর তিনদিন পেরিয়ে গেলেও শোকের মাতম এখনও কাটিয়ে ওঠা যায়নি। রাজধানী থেকে জেলা-উপজেলা পর্যন্ত বিএনপির কার্যালয়গুলোতে নেমে আসে এক ধরনের স্তব্ধতা। নেতাকর্মীদের চোখেমুখে স্পষ্ট হয়ে ওঠে গভীর বেদনা ও অনিশ্চয়তার ছাপ।  তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিদায়ে বিএনপি যেন হঠাৎ করেই অনেকটা দিশাহারা হয়ে পড়েছে। এমন কঠিন সময়টাতে শোককে শক্তিতে পরিণত করার কঠিন চ্যালেঞ্জ এখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাধে। একদিকে মা হারানোর বেদনা অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দলের নেতৃত্ব দেয়া দুটোই একজন নেতার সামনে উত্তাল সাগর পাড়ি দেয়ার মতোই। বর্তমান পেক্ষাপটে তারেক রহমানের সক্ষমতার প্রতি পূর্ণ আস্থা আছে দেশবাসীর এমনটাই মনে করে রাজনেতিক বিশ্লেষকরা।

বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের ঢল নামে। রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে অনুষ্ঠিত জানাজায় সারাদেশ থেকে আসা বিএনপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, বিদেশি কূটনৈতিক এবং সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে এটি রূপ নেয় ইতিহাসের স্মরণকালের সবচেয়ে বড় জানাজায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এর আগে কোনো রাজনৈতিক নেতার জানাজায় এত বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়নি। শোকাবহ এই সমাবেশে মানুষের কান্না, আবেগ ও শ্রদ্ধা নিবেদন স্পষ্ট করে দেয় বেগম খালেদা জিয়া শুধু একটি দলের নেত্রী নন, তিনি ছিলেন বহু মানুষের রাজনৈতিক বিশ্বাস ও আস্থার প্রতীক।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের শোকের ভার বিরাজ করছে। সরকারিভাবে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিএনপির পক্ষ থেকে সাত দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এই সময়ের মধ্যে দলীয় সব রাজনৈতিক কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কার্যালয়গুলোতে কালো পতাকা উত্তোলন, দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই শোক কেবল আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব পড়েছে দলের সামগ্রিক সাংগঠনিক গতিশীলতার ওপর। নির্বাচন সামনে রেখে যেখানে বিএনপির জোরালো প্রস্তুতির কথা ছিল, সেখানে দলে এখন এক ধরনের স্থবিরতা লক্ষ করা যাচ্ছে।

বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বিএনপির ঐক্যের প্রধান প্রতীক। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার কারণে তিনি সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও তার উপস্থিতিই দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখত বলে মনে করেন নেতাকর্মীরা। তার মৃত্যুতে বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো। দলীয় সূত্র জানায়, চেয়ারপারসনের মৃত্যুর পর দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দলের দায়িত্ব পালন করবেন তার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান। তিনি এর আগেও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দল পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো শোকাচ্ছন্ন দলকে দ্রুত সংগঠিত করা এবং নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডেটলাইন সামনে রেখে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু বিএনপির জন্য এক বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শোকের আবহে দলীয় কর্মসূচি স্থবির থাকলেও নির্বাচন বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ নেই। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপিকে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শোক সামলে আবার রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় হতে হবে। একই সঙ্গে, বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের অভূতপূর্ব উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে বিএনপির সমর্থকরা নতুন করে উজ্জীবিত হলেও সেই আবেগকে বাস্তব রাজনৈতিক কৌশলে রূপ দেওয়া সহজ হবে না। নেতৃত্বের অভাব, সিদ্ধান্তহীনতা এবং সময়ের চাপ দলটির জন্য বড় দুর্বলতা হয়ে উঠতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতির একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটিয়েছে। সামরিক শাসন পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে গণতান্ত্রিক আন্দোলন, সরকার পরিচালনা ও বিরোধী রাজনীতি সব ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন কেন্দ্রীয় চরিত্র। তার বিদায়ে বিএনপি যেমন অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে, তেমনি দেশের রাজনীতিও হারিয়েছে এক প্রভাবশালী ও বিতর্কিত নেতৃত্বকে। শোকের এই সময়ে বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন কীভাবে তারা এই শূন্যতা পূরণ করবে এবং কোন পথে সামনে এগিয়ে যাবে। আপাতত শোকের ভারে থমকে আছে দলটির রাজনীতি, তবে সময়ই বলে দেবে এই স্থবিরতা কত দ্রুত কাটিয়ে উঠতে পারে বিএনপি।