ঢাকা ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

তীব্র শীত আর কুয়াশায় বিপর্যস্ত জনজীবন

হালিম মোহাম্মদ
  • আপডেট সময় : ২৪১ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশজুড়ে জেঁকে বসেছে শীত। উত্তরের হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে ভোরের সূর্য। হাড়কাঁপানো এই শীতে স্থবির হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বিশেষ করে রাজধানীসহ সারা দেশের নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষ পড়েছেন চরম বিপাকে। ৪ জানুয়ারি রোববার রাজধানীতে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভোর থেকেই কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে আসায় সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র শীত থেকে বাঁচতে রাজধানীর ফুটপাত ও খোলা জায়গায় বসবাসকারী ছিন্নমূল মানুষকে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। কাজ না পেয়ে অনেক দিনমজুরকেও মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
এদিকে তীব্র শীতের কারণে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ। নিউমোনিয়া ও ব্রংকাইটিজে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সরকারী হাসপাতালগুলোতে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের ভিড় বাড়ছে। সিট সংকুলান থাকায় মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে হাসপাতালগুলোতে। গ্রাম ও শহর উভয় অঞ্চলেই হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় স্থবিরতা নেমে এসেছে। কুয়াশার কারণে সড়ক, নৌ ও আকাশপথে চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে, চলতি জানুয়ারি মাসে দেশে চার থেকে পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এতে কিছু সময় বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি মাসে দেশের স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বঙ্গোপসাগরে কোনো ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা নেই। তবে এ সময় ২-৩টি মৃদু থেকে মাঝারি এবং ১-২টি মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। দিনের এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় স্বাভাবিক থাকবে। তাছাড়া মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন নদী অববাহিকাসহ কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকতে পারে এবং কুয়াশা কখনো কখনো দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে শীতের অনুভূতি বেড়ে যেতে পারে।
এছাড়া নদ-নদীর পানি স্বাভাবিক থাকবে জানিয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, জানুয়ারি মাসে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোতে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বজায় থাকবে। কৃষি আবহাওয়া সম্পর্কিত তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে দেশের দৈনিক গড় বাষ্পীভবন ১.৫০ থেকে ৩.৫০ মিলিমিটার এবং গড় সূর্যকিরণকাল ৩ ঘণ্টা ৫০ মিনিট থেকে ৫ ঘণ্টা ৫০ মিনিটের মধ্যে থাকবে। শীতের এই তীব্রতা আগামী এক সপ্তাহ পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে। চলতি জানুয়ারি মাসেই দেশের কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। সেই সঙ্গে মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আগামী কয়েক দিন দেশের অনেক স্থানে সূর্যের দেখা মেলা ভার হতে পারে। ফলে দিনের বেলায়ও শীতের অনুভূতি বেশি থাকবে। শৈত্যপ্রবাহ শুরু হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে দেশে দুই থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ এবং এক থেকে দুটি মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সময় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে আসার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ ও নদী অববাহিকার অঞ্চলগুলোতে শীতের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি অনুভূত হতে পারে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা অনেক সময় দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান কমে আসবে, যার ফলে দেশজুড়ে শীতের তীব্র অনুভূতি আরও বাড়বে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

তীব্র শীত আর কুয়াশায় বিপর্যস্ত জনজীবন

আপডেট সময় :

দেশজুড়ে জেঁকে বসেছে শীত। উত্তরের হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে ভোরের সূর্য। হাড়কাঁপানো এই শীতে স্থবির হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বিশেষ করে রাজধানীসহ সারা দেশের নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষ পড়েছেন চরম বিপাকে। ৪ জানুয়ারি রোববার রাজধানীতে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভোর থেকেই কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে আসায় সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র শীত থেকে বাঁচতে রাজধানীর ফুটপাত ও খোলা জায়গায় বসবাসকারী ছিন্নমূল মানুষকে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। কাজ না পেয়ে অনেক দিনমজুরকেও মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
এদিকে তীব্র শীতের কারণে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ। নিউমোনিয়া ও ব্রংকাইটিজে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সরকারী হাসপাতালগুলোতে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের ভিড় বাড়ছে। সিট সংকুলান থাকায় মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে হাসপাতালগুলোতে। গ্রাম ও শহর উভয় অঞ্চলেই হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় স্থবিরতা নেমে এসেছে। কুয়াশার কারণে সড়ক, নৌ ও আকাশপথে চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে, চলতি জানুয়ারি মাসে দেশে চার থেকে পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এতে কিছু সময় বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি মাসে দেশের স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বঙ্গোপসাগরে কোনো ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা নেই। তবে এ সময় ২-৩টি মৃদু থেকে মাঝারি এবং ১-২টি মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। দিনের এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় স্বাভাবিক থাকবে। তাছাড়া মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন নদী অববাহিকাসহ কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকতে পারে এবং কুয়াশা কখনো কখনো দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে শীতের অনুভূতি বেড়ে যেতে পারে।
এছাড়া নদ-নদীর পানি স্বাভাবিক থাকবে জানিয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, জানুয়ারি মাসে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোতে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বজায় থাকবে। কৃষি আবহাওয়া সম্পর্কিত তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে দেশের দৈনিক গড় বাষ্পীভবন ১.৫০ থেকে ৩.৫০ মিলিমিটার এবং গড় সূর্যকিরণকাল ৩ ঘণ্টা ৫০ মিনিট থেকে ৫ ঘণ্টা ৫০ মিনিটের মধ্যে থাকবে। শীতের এই তীব্রতা আগামী এক সপ্তাহ পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে। চলতি জানুয়ারি মাসেই দেশের কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। সেই সঙ্গে মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আগামী কয়েক দিন দেশের অনেক স্থানে সূর্যের দেখা মেলা ভার হতে পারে। ফলে দিনের বেলায়ও শীতের অনুভূতি বেশি থাকবে। শৈত্যপ্রবাহ শুরু হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে দেশে দুই থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ এবং এক থেকে দুটি মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সময় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে আসার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ ও নদী অববাহিকার অঞ্চলগুলোতে শীতের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি অনুভূত হতে পারে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা অনেক সময় দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান কমে আসবে, যার ফলে দেশজুড়ে শীতের তীব্র অনুভূতি আরও বাড়বে।