ঢাকা ০১:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬

মায়ানমার থেকে আসা গুলিতে আহত স্কুলছাত্রী, টেকনাফে উত্তেজনা

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ২৫০ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড লম্বাবিল তেচ্চিব্রীজ এলাকায় মায়ানমার থেকে ছুটে আসা গুলিতে হুজাইফা সোলতানা আপনান (৯) নামে এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। বর্তমানে সে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জানুয়ারি দিনগত রাত থেকে নাফ নদী সংলগ্ন হোয়াইক্যং বিজিবি পোস্টের বিপরীতে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মুহুর্মুহ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে মায়ানমার দিক থেকে ছোড়া একটি গুলি বাংলাদেশের ভেতরে প্রায় দেড় কিলোমিটার অতিক্রম করে শিশুটির মাথায় আঘাত হানে। এতে সে গুরুতর আহত হয়ে পড়ে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে রেফার করা হয়।
আহত শিশুর পরিচয়—
নাম: হুজাইফা সোলতানা আপনান (৯), পিতা: জসিম উদ্দিন (৩৫), মাতা: সুমাইয়া আক্তার (২৫), ঠিকানা: লম্বাবিল তেচ্চিব্রীজ, ৩নং ওয়ার্ড, হোয়াইক্যং ইউনিয়ন, টেকনাফ, কক্সবাজার। সে লম্বাবিল হাজী মোহাম্মদ হোচন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
স্থানীয়রা জানান, সকাল থেকে সীমান্ত এলাকায় বৃষ্টির মতো গুলি এসে ঘরবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় পড়তে থাকে, এতে গাছপালাসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তাদের অভিযোগ, মায়ানমারের আরাকান আর্মি ড্রোনের মাধ্যমেও হামলা চালিয়েছে।
এলাকাবাসী আরও জানান, এটি প্রথম ঘটনা নয়। আজ থেকে প্রায় এক মাস আগেও একই লম্বাবিল এলাকায় মায়ানমার দিক থেকে ছুটে আসা একটি গুলি এক নারী বাসিন্দার পায়ে লাগে। ধারাবাহিকভাবে এমন ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের দাবি, হোয়াইক্যং সীমান্তবর্তী অচরডিয়া ও বিলাইচ্চরডিয়া এলাকায় মায়ানমারের রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপ—আরসা, আরসু, আলেকিন ও নবী হোচন গ্রুপের সদস্যরা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে অবস্থান করে আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। সংঘর্ষ চলাকালে আরাকান আর্মি বাংলাদেশ সীমান্তে এসে গুলিবর্ষণ করে, যার ফলেই এসব হতাহতের ঘটনা ঘটছে।
শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সকাল থেকে টেকনাফ–কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে। তারা সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের চলাচল বন্ধ এবং গুলিবিদ্ধ শিশুর পরিবারের বিষয়ে দ্রুত সমাধানের দাবি জানান। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে বিজিবির একটি গাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাবেক সংসদ সদস্য শাহাজান চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারি, হোয়াইক্যং মডেল ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহ জালালসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও এপিবিএনের যৌথ তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
এদিকে, হোয়াইক্যং থানা পুলিশের এসআই খোকনসহ পুলিশের একটি দল বিজিবির সহযোগিতায় আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িত প্রায় ৫০ জন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে আটক করেছে।
ঘটনাটি সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষায় জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি আরও জোরালো করেছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মায়ানমার থেকে আসা গুলিতে আহত স্কুলছাত্রী, টেকনাফে উত্তেজনা

আপডেট সময় :

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড লম্বাবিল তেচ্চিব্রীজ এলাকায় মায়ানমার থেকে ছুটে আসা গুলিতে হুজাইফা সোলতানা আপনান (৯) নামে এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। বর্তমানে সে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জানুয়ারি দিনগত রাত থেকে নাফ নদী সংলগ্ন হোয়াইক্যং বিজিবি পোস্টের বিপরীতে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মুহুর্মুহ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে মায়ানমার দিক থেকে ছোড়া একটি গুলি বাংলাদেশের ভেতরে প্রায় দেড় কিলোমিটার অতিক্রম করে শিশুটির মাথায় আঘাত হানে। এতে সে গুরুতর আহত হয়ে পড়ে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে রেফার করা হয়।
আহত শিশুর পরিচয়—
নাম: হুজাইফা সোলতানা আপনান (৯), পিতা: জসিম উদ্দিন (৩৫), মাতা: সুমাইয়া আক্তার (২৫), ঠিকানা: লম্বাবিল তেচ্চিব্রীজ, ৩নং ওয়ার্ড, হোয়াইক্যং ইউনিয়ন, টেকনাফ, কক্সবাজার। সে লম্বাবিল হাজী মোহাম্মদ হোচন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
স্থানীয়রা জানান, সকাল থেকে সীমান্ত এলাকায় বৃষ্টির মতো গুলি এসে ঘরবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় পড়তে থাকে, এতে গাছপালাসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তাদের অভিযোগ, মায়ানমারের আরাকান আর্মি ড্রোনের মাধ্যমেও হামলা চালিয়েছে।
এলাকাবাসী আরও জানান, এটি প্রথম ঘটনা নয়। আজ থেকে প্রায় এক মাস আগেও একই লম্বাবিল এলাকায় মায়ানমার দিক থেকে ছুটে আসা একটি গুলি এক নারী বাসিন্দার পায়ে লাগে। ধারাবাহিকভাবে এমন ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের দাবি, হোয়াইক্যং সীমান্তবর্তী অচরডিয়া ও বিলাইচ্চরডিয়া এলাকায় মায়ানমারের রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপ—আরসা, আরসু, আলেকিন ও নবী হোচন গ্রুপের সদস্যরা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে অবস্থান করে আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। সংঘর্ষ চলাকালে আরাকান আর্মি বাংলাদেশ সীমান্তে এসে গুলিবর্ষণ করে, যার ফলেই এসব হতাহতের ঘটনা ঘটছে।
শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সকাল থেকে টেকনাফ–কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে। তারা সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের চলাচল বন্ধ এবং গুলিবিদ্ধ শিশুর পরিবারের বিষয়ে দ্রুত সমাধানের দাবি জানান। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে বিজিবির একটি গাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাবেক সংসদ সদস্য শাহাজান চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারি, হোয়াইক্যং মডেল ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহ জালালসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও এপিবিএনের যৌথ তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
এদিকে, হোয়াইক্যং থানা পুলিশের এসআই খোকনসহ পুলিশের একটি দল বিজিবির সহযোগিতায় আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িত প্রায় ৫০ জন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে আটক করেছে।
ঘটনাটি সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষায় জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি আরও জোরালো করেছে।