ঢাকা ০২:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬

ত্রিশালে বিলুপ্তির পথে খেজুর গাছ, ভুলছে রসের স্বাদ

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৯৩ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ময়মনসিংহের ত্রিশালে শীতের আগমনের শুরুতেই গ্রামীণ সংস্কৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ হতো। তখন চারপাশে খেজুর গাছ হতে রস সংগ্রহের ধুম দেখা যেতো । সেই চিরচেনা গ্রামীণ জনপদের ঘরে ঘরে খেজুর রসের সমারোহ আজ বিলুপ্তির পথে ।
গ্রামে এখন শহুরে ছোঁয়া। শহরায়নের আগ্রাসনে প্রকৃতির ঐতিহ্য খেজুর গাছ হারিয়ে যাচ্ছে। দিন যত যাচ্ছে খেজুর গাছও তত কমছে।
সরেজমিনে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোনো কোনো জায়গায় কিছু কিছু খেজুর গাছ রয়েছে। যেসব স্থানে এক সময় রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে অসংখ্য খেজুর গাছ ছিল সেসব স্থানে এখন নেই খেজুর গাছ। গ্রামের কোনো কোনো সড়কের পাশে কিছু গাছ থাকলেও তাতে তেমন রস হয় না।
উপজেলার আমিরাবাড়ী ইউনিয়ন থেকে কবি আরিফুল হক এরশাদ বলেন, আগে ভোর সকালে রাস্তার পাশে কাঁচা খেজুরের রস নিয়ে বিক্রেতারা সারিবদ্ধ ভাবে বসে থাকতো। কিন্তু আধুনিক সংস্কৃতি আসার পর থেকে এ দৃশ্য যেন অতীত হয়ে গেছে।
চৌরাস্তা থেকে নাঈম ইসলাম বলেন, কাকডাকা ভোরে খেজুরের রস, মন মাতানো ঘ্রাণ গ্রামীণ জনপদে বিরল। শীতের সকালে খেজুর রস, মিষ্টি রোদ, কৃষক-কৃষাণির হাসি দারুণ প্রাণশক্তি। বিলুপ্তির পথে গ্রামীণ এই ঐতিহ্য খেজুর গাছ ও দেখা দিয়েছে রসের সংকট।
মোক্ষপুর ইউনিয়ন থেকে এড. মহিউদ্দিন শাহীন বলেন, একসময় গ্রামীণ জনপদে খেজুর রস নিয়ে পায়েস পিঠার উৎসব, গভীর রাতে হাঁড়ি থেকে চুরি করে রস খাওয়া অনেকের শৈশবের স্মৃতি অম্লান হয়ে আছে আজো। গ্রামীণ মেঠোপথ আর খেজুর গাছের সারি আর গাছে রসের হাঁড়ি আজ আর দেখা মিলে না। দেখা মিলে না পাখি আর কীট-পতঙ্গের গাছে গাছে ঘুরে রস খাওয়ার দৃশ্য।
এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খেজুর গাছ বিলুপ্তির কারণ হিসেবে জানা গেছে বিভিন্ন কারণে খেজুর গাছ কর্তন, মরে যাওয়া, তদারকির অভাব এবং নতুন চারা রোপণ না করা ইত্যাদি।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া রহমান বলেন “আমরা খেজুর গাছ রোপণে উদ্বুদ্ধ করি, ব্যাপকভাবে প্রচার বা বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেই অমাদের বিভাগের পক্ষ থেকে”। তবে কাঁচা খেজুরের রস খাওয়ার আগে নিপা ভাইরাস হতে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ত্রিশালে বিলুপ্তির পথে খেজুর গাছ, ভুলছে রসের স্বাদ

আপডেট সময় :

ময়মনসিংহের ত্রিশালে শীতের আগমনের শুরুতেই গ্রামীণ সংস্কৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ হতো। তখন চারপাশে খেজুর গাছ হতে রস সংগ্রহের ধুম দেখা যেতো । সেই চিরচেনা গ্রামীণ জনপদের ঘরে ঘরে খেজুর রসের সমারোহ আজ বিলুপ্তির পথে ।
গ্রামে এখন শহুরে ছোঁয়া। শহরায়নের আগ্রাসনে প্রকৃতির ঐতিহ্য খেজুর গাছ হারিয়ে যাচ্ছে। দিন যত যাচ্ছে খেজুর গাছও তত কমছে।
সরেজমিনে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোনো কোনো জায়গায় কিছু কিছু খেজুর গাছ রয়েছে। যেসব স্থানে এক সময় রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে অসংখ্য খেজুর গাছ ছিল সেসব স্থানে এখন নেই খেজুর গাছ। গ্রামের কোনো কোনো সড়কের পাশে কিছু গাছ থাকলেও তাতে তেমন রস হয় না।
উপজেলার আমিরাবাড়ী ইউনিয়ন থেকে কবি আরিফুল হক এরশাদ বলেন, আগে ভোর সকালে রাস্তার পাশে কাঁচা খেজুরের রস নিয়ে বিক্রেতারা সারিবদ্ধ ভাবে বসে থাকতো। কিন্তু আধুনিক সংস্কৃতি আসার পর থেকে এ দৃশ্য যেন অতীত হয়ে গেছে।
চৌরাস্তা থেকে নাঈম ইসলাম বলেন, কাকডাকা ভোরে খেজুরের রস, মন মাতানো ঘ্রাণ গ্রামীণ জনপদে বিরল। শীতের সকালে খেজুর রস, মিষ্টি রোদ, কৃষক-কৃষাণির হাসি দারুণ প্রাণশক্তি। বিলুপ্তির পথে গ্রামীণ এই ঐতিহ্য খেজুর গাছ ও দেখা দিয়েছে রসের সংকট।
মোক্ষপুর ইউনিয়ন থেকে এড. মহিউদ্দিন শাহীন বলেন, একসময় গ্রামীণ জনপদে খেজুর রস নিয়ে পায়েস পিঠার উৎসব, গভীর রাতে হাঁড়ি থেকে চুরি করে রস খাওয়া অনেকের শৈশবের স্মৃতি অম্লান হয়ে আছে আজো। গ্রামীণ মেঠোপথ আর খেজুর গাছের সারি আর গাছে রসের হাঁড়ি আজ আর দেখা মিলে না। দেখা মিলে না পাখি আর কীট-পতঙ্গের গাছে গাছে ঘুরে রস খাওয়ার দৃশ্য।
এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খেজুর গাছ বিলুপ্তির কারণ হিসেবে জানা গেছে বিভিন্ন কারণে খেজুর গাছ কর্তন, মরে যাওয়া, তদারকির অভাব এবং নতুন চারা রোপণ না করা ইত্যাদি।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া রহমান বলেন “আমরা খেজুর গাছ রোপণে উদ্বুদ্ধ করি, ব্যাপকভাবে প্রচার বা বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেই অমাদের বিভাগের পক্ষ থেকে”। তবে কাঁচা খেজুরের রস খাওয়ার আগে নিপা ভাইরাস হতে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।