ঢাকা ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬

আনিকা ক্লিনিকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ, সীলগালার নির্দেশ

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৮১ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজ সাতক্ষীরার শ্যামনগরে আনিকা প্রাইভেট ক্লিনিকে অভিজান চালিয়ে সিভিল সার্জনের নির্দেশে ক্লিনিকটিকে সীলগালা করে দেয় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জনাব ডা.মোঃ জিয়াউর রহমান। অভিজান পরিচালনাকালে তার সাথে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের R.M.O ডা. তারিকুল ইসলাম, ডা. সাকির রহমান, শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মোঃ খালেদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
আনিকা প্রাইভেট ক্লিনিকের বিরুদ্ধে প্রায় সময় নানা অনিয়ম, হয়রানি ও প্রতারণার অভিযোগ উঠে এসেছে। গত কয়েক দিন আগে এই ক্লিনিকে রোগী ও রোগীর স্বজনদের মারধরের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করে রোগীর স্বজনরা। সে ঘটনায় সিভিল সার্জনের তত্ত্বাবধানে তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে গতকাল এক বিষ খাওয়া রোগী সরকারী হাসপাতালে ঢোকার মুখে আনিকা ক্লিনিকের দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে সরকারি হাসপাতালে না গিয়ে এই আনিকা ক্লিনিকে আসে। পরে ক্লিনিকে সঠিক চিকিৎসা দিতে ব্যার্থ হলে বিষ খাওয়া রোগীটি মারা যায়। ডা. মোঃ আনিছুর রহমান তখন বিষয়টি গোপন রেখে রোগীর স্বজনদের বলেন “রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক এখন সাতক্ষীরা সদরে আইসিইউতে নিতে হবে।” এরপরই দ্রুত একটি এম্বুলেন্স ডেকে সেখান থেকে রোগী সহ পালিয়ে যায়। এ ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সাতক্ষীরা জেলার বর্তমান সিভিল সার্জন ডা. মোঃ আঃ সালাম বিষয়টি জানতে পেরে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জনাব ডা. মোঃ জিয়াউর রহমানকে ক্লিনিকটিকে সীলগালা করার নির্দেশ দেন। অভিজানকালে ক্লিনিকটিতে ১২ জন রোগী পাওয়া যায়। যার বেশির ভাগই সিজারের রোগী। পরে সব রোগীদের সরকারী হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় এবং উপস্থিত সকলের সামনেই প্রতিষ্ঠানটি সীলগালা করা হয়।
এদিকে সরজমিনে খোঁজ খবর নিয়ে দেখা যায় প্রায়ই চিকিৎসার নামে রোগীদের জিম্মি করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়া, রোগীদের সাথে দুর্ব্যবহার, মারধর করা, মৃত রোগীকে এম্বুলেন্স করে সদরে পাঠানোর পথিমধ্যে মৃত ঘোষনা করার মত ঘটনা ঘটে থাকে এই আনিকা প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। মাত্র ৩ জন অনভিজ্ঞ নার্স, দুইজন প্রতিষ্ঠান কেয়ারটেকার, ১ জন ডাক্তার দিয়ে এই ক্লিনিকটি পরিচালনা করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, শ্যামনগর উপজেলায় সরকারী হাসপাতালের কোলঘেষে গড়ে উঠেছে একাধিক প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিনই চিকিৎসা নিতে আসছে শত-শত রোগী। ফলে চিকিৎসা সেবার নামে এসব প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তুলেছে এক ভয়াবহ সিন্ডিকেট। প্রতিদিন এসব প্রতিষ্ঠানের নামেও উঠে আসছে নানান রকম অভিযোগ। প্রতিষ্ঠানগুলোতে রোগী হয়রানি ও প্রতারণা হয়ে উঠেছে নিত্য নৈমিত্তিক সাধারণ ঘটনা।
কখনো উপজেলা সরকারী হাসপাতালের গেট থেকে কখনো হাসপাতালের ভিতর থেকে ছলচাতুরী করে রোগী এনে এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক প্যাথলজী প্রতিষ্ঠানে ভর্তি অথবা নানা রোগের পরীক্ষা বা টেষ্ট করানো হয়। এরপরই শুরু হয় হয়রানি ও প্রতারণার মাধ্যমে সুকৌশলে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়া। চাহিদা অনুযায়ী টাকা না পেলে রোগী ও রোগীর স্বজনদের সাথে দুর্ব্যবহার, কোন কোন ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা হাতাহাতি/মারামারির পর্যায়ে পৌছায়।
তেমনই একটি প্রতিষ্ঠান “আনিকা প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার”। যার স্বত্বাধিকারী শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (সরকারী হাসপাতাল) এর মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত ৩৩ তম বিসিএস ব্যাচের (এম.বি.বি.এস) ডা. মোঃ আনিছুর রহমান।
স্থানীয়দের ও ভুক্তভোগী রোগীদের দাবী প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয়ার পর পুনরায় যেন চালু না হয়।
কারন এর আগেও একাধিক বার এই আনিকা প্রাইভেট ক্লিনিক বন্ধ হলেও মাস আসতে না আসতেই কোন এক অদৃশ্য শক্তিবলে আবারো খুলে যায় ক্লিনিকটি এবং একই ঘটনার বারবার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে স্থানীয়দের দাবি ক্লিন একটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

আনিকা ক্লিনিকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ, সীলগালার নির্দেশ

আপডেট সময় :

আজ সাতক্ষীরার শ্যামনগরে আনিকা প্রাইভেট ক্লিনিকে অভিজান চালিয়ে সিভিল সার্জনের নির্দেশে ক্লিনিকটিকে সীলগালা করে দেয় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জনাব ডা.মোঃ জিয়াউর রহমান। অভিজান পরিচালনাকালে তার সাথে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের R.M.O ডা. তারিকুল ইসলাম, ডা. সাকির রহমান, শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মোঃ খালেদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
আনিকা প্রাইভেট ক্লিনিকের বিরুদ্ধে প্রায় সময় নানা অনিয়ম, হয়রানি ও প্রতারণার অভিযোগ উঠে এসেছে। গত কয়েক দিন আগে এই ক্লিনিকে রোগী ও রোগীর স্বজনদের মারধরের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করে রোগীর স্বজনরা। সে ঘটনায় সিভিল সার্জনের তত্ত্বাবধানে তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে গতকাল এক বিষ খাওয়া রোগী সরকারী হাসপাতালে ঢোকার মুখে আনিকা ক্লিনিকের দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে সরকারি হাসপাতালে না গিয়ে এই আনিকা ক্লিনিকে আসে। পরে ক্লিনিকে সঠিক চিকিৎসা দিতে ব্যার্থ হলে বিষ খাওয়া রোগীটি মারা যায়। ডা. মোঃ আনিছুর রহমান তখন বিষয়টি গোপন রেখে রোগীর স্বজনদের বলেন “রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক এখন সাতক্ষীরা সদরে আইসিইউতে নিতে হবে।” এরপরই দ্রুত একটি এম্বুলেন্স ডেকে সেখান থেকে রোগী সহ পালিয়ে যায়। এ ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সাতক্ষীরা জেলার বর্তমান সিভিল সার্জন ডা. মোঃ আঃ সালাম বিষয়টি জানতে পেরে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জনাব ডা. মোঃ জিয়াউর রহমানকে ক্লিনিকটিকে সীলগালা করার নির্দেশ দেন। অভিজানকালে ক্লিনিকটিতে ১২ জন রোগী পাওয়া যায়। যার বেশির ভাগই সিজারের রোগী। পরে সব রোগীদের সরকারী হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় এবং উপস্থিত সকলের সামনেই প্রতিষ্ঠানটি সীলগালা করা হয়।
এদিকে সরজমিনে খোঁজ খবর নিয়ে দেখা যায় প্রায়ই চিকিৎসার নামে রোগীদের জিম্মি করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়া, রোগীদের সাথে দুর্ব্যবহার, মারধর করা, মৃত রোগীকে এম্বুলেন্স করে সদরে পাঠানোর পথিমধ্যে মৃত ঘোষনা করার মত ঘটনা ঘটে থাকে এই আনিকা প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। মাত্র ৩ জন অনভিজ্ঞ নার্স, দুইজন প্রতিষ্ঠান কেয়ারটেকার, ১ জন ডাক্তার দিয়ে এই ক্লিনিকটি পরিচালনা করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, শ্যামনগর উপজেলায় সরকারী হাসপাতালের কোলঘেষে গড়ে উঠেছে একাধিক প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিনই চিকিৎসা নিতে আসছে শত-শত রোগী। ফলে চিকিৎসা সেবার নামে এসব প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তুলেছে এক ভয়াবহ সিন্ডিকেট। প্রতিদিন এসব প্রতিষ্ঠানের নামেও উঠে আসছে নানান রকম অভিযোগ। প্রতিষ্ঠানগুলোতে রোগী হয়রানি ও প্রতারণা হয়ে উঠেছে নিত্য নৈমিত্তিক সাধারণ ঘটনা।
কখনো উপজেলা সরকারী হাসপাতালের গেট থেকে কখনো হাসপাতালের ভিতর থেকে ছলচাতুরী করে রোগী এনে এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক প্যাথলজী প্রতিষ্ঠানে ভর্তি অথবা নানা রোগের পরীক্ষা বা টেষ্ট করানো হয়। এরপরই শুরু হয় হয়রানি ও প্রতারণার মাধ্যমে সুকৌশলে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়া। চাহিদা অনুযায়ী টাকা না পেলে রোগী ও রোগীর স্বজনদের সাথে দুর্ব্যবহার, কোন কোন ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা হাতাহাতি/মারামারির পর্যায়ে পৌছায়।
তেমনই একটি প্রতিষ্ঠান “আনিকা প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার”। যার স্বত্বাধিকারী শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (সরকারী হাসপাতাল) এর মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত ৩৩ তম বিসিএস ব্যাচের (এম.বি.বি.এস) ডা. মোঃ আনিছুর রহমান।
স্থানীয়দের ও ভুক্তভোগী রোগীদের দাবী প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয়ার পর পুনরায় যেন চালু না হয়।
কারন এর আগেও একাধিক বার এই আনিকা প্রাইভেট ক্লিনিক বন্ধ হলেও মাস আসতে না আসতেই কোন এক অদৃশ্য শক্তিবলে আবারো খুলে যায় ক্লিনিকটি এবং একই ঘটনার বারবার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে স্থানীয়দের দাবি ক্লিন একটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হোক।