ঢাকা ১১:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

আজ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস, নতুন করে শপথ নেয়ার দিন

অবিস্মরণীয় সেই দিন

আবদুল্লাহ ফেরদৌস
  • আপডেট সময় : ৩৬ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজ ২৬ মার্চ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। আমাদের নতুন করে দেশ গড়ার তাগিদ দিচ্ছে দিবসটি। আজ নতুন করে শপথ নেয়ার দিন। এই দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। সেটা ছিলো জাতির জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। অবিস্মরণীয় একটি দিন।
বাংলাদেশের এই মুক্তিযুদ্ধের নেপথ্যে ছিল এই ভূখন্ডের বাংলাভাষীদের দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, মুক্তির স্বপ্ন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের আঘাতে অবহেলিত ও নিপীড়িত হতে থাকে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়-এ সবই ছিল স্বাধীনতা যুদ্ধের পথে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালের এই দিনে রাত ২টা ১৫ মিনিটে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। বন্দরনগরী চট্টগ্রামে তাঁর অধীনস্থ বাঙালি সেনাদের সংগঠিত করে তিনি এই সশস্ত্র বিদ্রোহের সূচনা করেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেই রাতে ঠিক ওই মুহুর্তেই তিনি ব্যাটালিয়ন থেকে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন। স্বাধীনতার প্রথম বার্ষিকীতে ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ তৎকালীন দৈনিক বাংলায় জিয়াউর রহমানের একটি বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। ‘বার্থ অব অ্যা নেশন’ (একটি জাতির জন্ম) শীর্ষক সেই নিবন্ধটি যখন প্রকাশিত হয়, সেসময় মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর উপপ্রধান ছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালের ২৬ মার্চ সাপ্তাহিক বিচিত্রায় নিবন্ধটি আবারও প্রকাশিত হয়। জিয়াউর রহমান লিখেছিলেন- সময়টা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেনাদের মধ্যে বাঙালি অফিসার, জেসিও (জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার) ও জওয়ানদের (সাধারণ সৈনিক) ডেকে তাদের সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নিতে নির্দেশ দিই। সবাই একযোগে সেই আদেশ স্বতঃস্ফূর্তভাবে মেনে নেন। এরপর জিয়াউর রহমান তাদেরকে নিয়ে বন্দর নগরীর উপকণ্ঠ কালুরঘাট এলাকায় চলে যান। বাঙালি বেতার কর্মীরা সেখানে ততক্ষণে একটি অস্থায়ী ও গোপন ‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র’ স্থাপন করেছিলেন। সেই কেন্দ্র থেকেই জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। সেটা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে প্রচারিত হয়। এর পর সকালেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকায় নিরস্ত্র বাঙালির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমান জেড ফোর্স নামে একটি সশস্ত্র মুক্তিবাহিনীর নেতৃত্ব দেন এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। তার নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনী পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ বিজয় অর্জন করে। আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের সূচনা পর্বটি ছিলো এমনই।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

আজ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস, নতুন করে শপথ নেয়ার দিন

অবিস্মরণীয় সেই দিন

আপডেট সময় :

আজ ২৬ মার্চ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। আমাদের নতুন করে দেশ গড়ার তাগিদ দিচ্ছে দিবসটি। আজ নতুন করে শপথ নেয়ার দিন। এই দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। সেটা ছিলো জাতির জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। অবিস্মরণীয় একটি দিন।
বাংলাদেশের এই মুক্তিযুদ্ধের নেপথ্যে ছিল এই ভূখন্ডের বাংলাভাষীদের দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, মুক্তির স্বপ্ন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের আঘাতে অবহেলিত ও নিপীড়িত হতে থাকে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়-এ সবই ছিল স্বাধীনতা যুদ্ধের পথে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালের এই দিনে রাত ২টা ১৫ মিনিটে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। বন্দরনগরী চট্টগ্রামে তাঁর অধীনস্থ বাঙালি সেনাদের সংগঠিত করে তিনি এই সশস্ত্র বিদ্রোহের সূচনা করেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেই রাতে ঠিক ওই মুহুর্তেই তিনি ব্যাটালিয়ন থেকে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন। স্বাধীনতার প্রথম বার্ষিকীতে ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ তৎকালীন দৈনিক বাংলায় জিয়াউর রহমানের একটি বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। ‘বার্থ অব অ্যা নেশন’ (একটি জাতির জন্ম) শীর্ষক সেই নিবন্ধটি যখন প্রকাশিত হয়, সেসময় মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর উপপ্রধান ছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালের ২৬ মার্চ সাপ্তাহিক বিচিত্রায় নিবন্ধটি আবারও প্রকাশিত হয়। জিয়াউর রহমান লিখেছিলেন- সময়টা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেনাদের মধ্যে বাঙালি অফিসার, জেসিও (জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার) ও জওয়ানদের (সাধারণ সৈনিক) ডেকে তাদের সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নিতে নির্দেশ দিই। সবাই একযোগে সেই আদেশ স্বতঃস্ফূর্তভাবে মেনে নেন। এরপর জিয়াউর রহমান তাদেরকে নিয়ে বন্দর নগরীর উপকণ্ঠ কালুরঘাট এলাকায় চলে যান। বাঙালি বেতার কর্মীরা সেখানে ততক্ষণে একটি অস্থায়ী ও গোপন ‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র’ স্থাপন করেছিলেন। সেই কেন্দ্র থেকেই জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। সেটা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে প্রচারিত হয়। এর পর সকালেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকায় নিরস্ত্র বাঙালির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমান জেড ফোর্স নামে একটি সশস্ত্র মুক্তিবাহিনীর নেতৃত্ব দেন এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। তার নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনী পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ বিজয় অর্জন করে। আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের সূচনা পর্বটি ছিলো এমনই।