ঢাকা ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬

রাজনৈতিতে নতুন সংস্কৃতির বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

মহিউদ্দিন তুষার
  • আপডেট সময় : ৩৪ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের প্রতি সৌজন্য, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা-এই তিন ক্ষেত্রেই নতুন বার্তা দিচ্ছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে সংসদ ভবনে নিজের কক্ষে ডেকে বৈঠক, বৈঠক শেষে তাকে নিজ কক্ষ পর্যন্ত এগিয়ে দেওয়া, সংসদ অধিবেশনে নিয়মিত উপস্থিত থেকে বিরোধী দলের বক্তব্য ধৈর্যসহকারে শোনা এবং সচিবালয়ে সময়নিষ্ঠ উপস্থিতির মাধ্যমে তিনি দায়িত্বশীল নেতৃত্বের এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
সংসদ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে নিয়ে নিজের কক্ষে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকটি প্রায় ১৭ থেকে ১৮ মিনিট স্থায়ী হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী কক্ষ থেকে বের হয়ে বিরোধী দলীয় নেতাকে তার নিজ কক্ষ পর্যন্ত এগিয়ে দেন। সংসদীয় রাজনীতিতে এমন সৌজন্যমূলক আচরণকে অনেকেই ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সংসদ অধিবেশন চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আচরণও বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। তিনি অধিবেশনে যথাসময়ে উপস্থিত থাকছেন, প্রায় প্রতিটি সংসদ সদস্যের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনছেন এবং বিরোধী দলের সদস্যরা সরকারি দলের বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চকণ্ঠে বক্তব্য দিলেও কিংবা হট্টগোল সৃষ্টি হলেও তিনি সংযম ও ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছেন। বিরোধিতার মুখেও নির্বিকার ও নীরব থেকে সংসদীয় শালীনতা বজায় রাখার এই চিত্রকে অনেকেই গণতান্ত্রিক সহনশীলতার দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করছেন।
এদিকে প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রীর সময়নিষ্ঠতা ও সক্রিয় উপস্থিতি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সচিবালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, তিনি নিজে অনেক সময় আগে উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা করেন। এর ফলে সচিব থেকে শুরু করে মন্ত্রী পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যেও সময়মতো উপস্থিত থাকার একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন পর সচিবালয়ে এমন শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা অনেকের কাছেই নজিরবিহীন। শুধু নির্ধারিত কর্মসূচি নয়, পূর্বঘোষণা বা আনুষ্ঠানিক নোটিশ ছাড়াই বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করে প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনের কাজে গতি আনতে চেয়েছেন বলেও জানা গেছে। আকস্মিক এসব পরিদর্শনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা বেড়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। সচিবালয়ে কর্মপরিবেশ, উপস্থিতি, ফাইল নিষ্পত্তি ও দাপ্তরিক গতিশীলতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এ উদ্যোগ ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন অনেকে।
মানবিক আচরণেও আলাদা করে প্রশংসিত হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়, কর্মক্ষেত্রে থাকা নিরাপত্তা সদস্যদের খোঁজখবর নেওয়া, এমনকি নিজ দলের ছোট-বড় নেতাকর্মীদের দেখে ডেকে কথা বলা ও তাদের খোঁজ নেওয়ার মতো আচরণ রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেও এমন মানবিক ও সহজ যোগাযোগমূলক আচরণ সাধারণত মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করে এবং দলীয় কাঠামোর ভেতরেও ইতিবাচক বার্তা দেয়।
বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, একটি দেশের সরকারপ্রধান যখন বিরোধী দলের প্রতি সম্মান, সংসদে ধৈর্য ও সহনশীলতা, প্রশাসনে শৃঙ্খলা এবং মাঠপর্যায়ে মানবিক আচরণ সবকিছুর সমন্বয় ঘটান, তখন তা শুধু ব্যক্তিগত রাজনৈতিক শৈলী নয়; বরং একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভিত্তি হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। বিশেষ করে সংসদকেন্দ্রিক রাজনীতিতে বিরোধী দলকে সম্মান দেখানো, মতপার্থক্যকে সংঘাতে না নিয়ে সংলাপ ও সৌজন্যের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
রাজনৈতিক অঙ্গনের সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে মুখোমুখি অবস্থান, উত্তেজনা ও অনাস্থার যে সংস্কৃতি দৃশ্যমান ছিল, তার বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক আচরণ একটি ভিন্ন ধারা নির্দেশ করছে। বিরোধী দলের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় সৌজন্য, প্রশাসনে কঠোর সময়শৃঙ্খলা এবং কর্মক্ষেত্রে মানবিক উপস্থিতি এই সমন্বিত নেতৃত্ব জনগণের মধ্যেও ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
সামগ্রিকভাবে, বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য বৈঠক থেকে শুরু করে সংসদে সংযত আচরণ, সচিবালয়ে সময়নিষ্ঠ উপস্থিতি, আকস্মিক দপ্তর পরিদর্শন এবং কর্মরত সদস্যদের সঙ্গে মানবিক যোগাযোগ সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখন দায়িত্বশীল, সংযমী ও অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্বের এক নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছেন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

রাজনৈতিতে নতুন সংস্কৃতির বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় :

জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের প্রতি সৌজন্য, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা-এই তিন ক্ষেত্রেই নতুন বার্তা দিচ্ছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে সংসদ ভবনে নিজের কক্ষে ডেকে বৈঠক, বৈঠক শেষে তাকে নিজ কক্ষ পর্যন্ত এগিয়ে দেওয়া, সংসদ অধিবেশনে নিয়মিত উপস্থিত থেকে বিরোধী দলের বক্তব্য ধৈর্যসহকারে শোনা এবং সচিবালয়ে সময়নিষ্ঠ উপস্থিতির মাধ্যমে তিনি দায়িত্বশীল নেতৃত্বের এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
সংসদ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে নিয়ে নিজের কক্ষে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকটি প্রায় ১৭ থেকে ১৮ মিনিট স্থায়ী হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী কক্ষ থেকে বের হয়ে বিরোধী দলীয় নেতাকে তার নিজ কক্ষ পর্যন্ত এগিয়ে দেন। সংসদীয় রাজনীতিতে এমন সৌজন্যমূলক আচরণকে অনেকেই ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সংসদ অধিবেশন চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আচরণও বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। তিনি অধিবেশনে যথাসময়ে উপস্থিত থাকছেন, প্রায় প্রতিটি সংসদ সদস্যের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনছেন এবং বিরোধী দলের সদস্যরা সরকারি দলের বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চকণ্ঠে বক্তব্য দিলেও কিংবা হট্টগোল সৃষ্টি হলেও তিনি সংযম ও ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছেন। বিরোধিতার মুখেও নির্বিকার ও নীরব থেকে সংসদীয় শালীনতা বজায় রাখার এই চিত্রকে অনেকেই গণতান্ত্রিক সহনশীলতার দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করছেন।
এদিকে প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রীর সময়নিষ্ঠতা ও সক্রিয় উপস্থিতি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সচিবালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, তিনি নিজে অনেক সময় আগে উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা করেন। এর ফলে সচিব থেকে শুরু করে মন্ত্রী পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যেও সময়মতো উপস্থিত থাকার একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন পর সচিবালয়ে এমন শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা অনেকের কাছেই নজিরবিহীন। শুধু নির্ধারিত কর্মসূচি নয়, পূর্বঘোষণা বা আনুষ্ঠানিক নোটিশ ছাড়াই বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করে প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনের কাজে গতি আনতে চেয়েছেন বলেও জানা গেছে। আকস্মিক এসব পরিদর্শনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা বেড়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। সচিবালয়ে কর্মপরিবেশ, উপস্থিতি, ফাইল নিষ্পত্তি ও দাপ্তরিক গতিশীলতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এ উদ্যোগ ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন অনেকে।
মানবিক আচরণেও আলাদা করে প্রশংসিত হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়, কর্মক্ষেত্রে থাকা নিরাপত্তা সদস্যদের খোঁজখবর নেওয়া, এমনকি নিজ দলের ছোট-বড় নেতাকর্মীদের দেখে ডেকে কথা বলা ও তাদের খোঁজ নেওয়ার মতো আচরণ রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেও এমন মানবিক ও সহজ যোগাযোগমূলক আচরণ সাধারণত মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করে এবং দলীয় কাঠামোর ভেতরেও ইতিবাচক বার্তা দেয়।
বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, একটি দেশের সরকারপ্রধান যখন বিরোধী দলের প্রতি সম্মান, সংসদে ধৈর্য ও সহনশীলতা, প্রশাসনে শৃঙ্খলা এবং মাঠপর্যায়ে মানবিক আচরণ সবকিছুর সমন্বয় ঘটান, তখন তা শুধু ব্যক্তিগত রাজনৈতিক শৈলী নয়; বরং একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভিত্তি হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। বিশেষ করে সংসদকেন্দ্রিক রাজনীতিতে বিরোধী দলকে সম্মান দেখানো, মতপার্থক্যকে সংঘাতে না নিয়ে সংলাপ ও সৌজন্যের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
রাজনৈতিক অঙ্গনের সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে মুখোমুখি অবস্থান, উত্তেজনা ও অনাস্থার যে সংস্কৃতি দৃশ্যমান ছিল, তার বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক আচরণ একটি ভিন্ন ধারা নির্দেশ করছে। বিরোধী দলের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় সৌজন্য, প্রশাসনে কঠোর সময়শৃঙ্খলা এবং কর্মক্ষেত্রে মানবিক উপস্থিতি এই সমন্বিত নেতৃত্ব জনগণের মধ্যেও ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
সামগ্রিকভাবে, বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য বৈঠক থেকে শুরু করে সংসদে সংযত আচরণ, সচিবালয়ে সময়নিষ্ঠ উপস্থিতি, আকস্মিক দপ্তর পরিদর্শন এবং কর্মরত সদস্যদের সঙ্গে মানবিক যোগাযোগ সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখন দায়িত্বশীল, সংযমী ও অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্বের এক নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছেন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।