ঢাকা ১২:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

এবারও সিন্ডিকেটের কব্জায় ঢাকার পশুর হাটগুলো

হালিম মোহাম্মদ
  • আপডেট সময় : ২৮ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর পশুর হাট নিয়ে তৈরি হওয়া অসম প্রতিযোগিতা এখনও নিরসন হয়নি। পশুর হাটের ইজারার বিরোধে ইতোমধ্যে আহত হয়েছে বেশকজন। এবার দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট সদস্যদের প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে হাট ইজারার প্রক্রিয়া চলছে, ফলে দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েই গেছে। প্রতিবারই হাটের ইজারা পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে কিছু প্রভাবশালী মহল। এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও কোরবানির পশুর হাট নিয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক চক্র ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তৎপরতা আগেই বৃদ্ধি পাওয়ায় সহিংসতা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানীতে ২৭টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এরই মধ্যে ১৯টি হাটের ইজারা সম্পন্ন করেছে সংস্থা দুটি। বাকি আটটি হাটের কোনোটিতে কাঙ্ক্ষিত দর পাওয়া যায়নি, আবার কোনোটিতে কেউ দরপত্র দাখিল করেনি। ফলে এসব হাট ইজারায় পুনঃদরপত্র আহ্বান করেছে ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি।
জানা গেছে, বিশেষ করে ঢাকার বসিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ইজারা নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্বের খবর পাওয়া গেছে। কোরবানির এক মাস আগে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যাকাণ্ডে এ অস্থিরতা আরও তীব্র হয়েছে। নিহতের বড় ভাইয়ের দাবি, কোরবানির হাটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে কেন্দ্র করেই টিটনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি জানান, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি ও নিউমার্কেট এলাকায় প্রভাব বিস্তার এবং পশুর হাটের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যেই তার ভাইকে হত্যা করে শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলাল। তবে গণমাধ্যমে দেওয়া এক অনলাইন সাক্ষাৎকারে অভিযুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমামুল হাসান ওরফে পিচ্চি হেলাল টিটন হত্যার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৭ এপ্রিল যাত্রাবাড়ী, পোস্তগোলা ও শ্যামপুর এলাকার হাটের দরপত্র সংগ্রহ করতে এলে শ্যামপুর থানা জামায়াতের আমির মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও তার কর্মীদের সাথে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নগর ভবনের সম্পত্তি বিভাগে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করতে হয়। পশুর হাটকেন্দ্রিক সম্ভাব্য সংঘর্ষ বা সহিংসতার আশঙ্কা নিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার সরওয়ার হোসেন বলেন, গরুর হাট ঘিরে সম্ভাব্য সংঘর্ষ বা সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর। সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হচ্ছে। আমরা আশা করি, কোনো ধরনের সমস্যা হবে না।
এদিকে কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পশু প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তবর্তী এলাকায় হাটের ইজারা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পশু প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করছে। সীমান্ত দিয়ে পশু প্রবেশ রোধে বিজিবিকে সার্বক্ষণিক নজর রাখতে বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংস্থাগুলো জানিয়েছে, কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বরদাশত করা হবে না। এদিকে অনলাইনে পশু কেনাবেচার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের খাজনা বা হাসিল দিতে হবে না। কোরবানির পশুর ট্রাকে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর অবস্থানে থাকবে সরকার। এরই মধ্যে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গতকাল বৃহস্পতিবার হাট পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, কোরবানির পশু আনা-নেওয়ার সময় সড়কে চাঁদাবাজি রোধে সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে এবং কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাটগুলোর নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি র‌্যাব ও সেনাবাহিনীও মাঠে থাকবে। ইজারাদারদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক (ভলান্টিয়ার) দল থাকবে, তারা হাট ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করবে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানীতে পশুর হাটের ইজারা প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলকভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতাকেই ইজারা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এছাড়াও সাধারণ মানুষের সুবিধা এবং ঈদযাত্রায় যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সেসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই রাজধানীতে পশুর হাটের স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। পাশাপাশি হাট ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং নগরবাসীর ভোগান্তি কমাতে সিটি করপোরেশন আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছে ডিএনসিসি।
এ বিষয়ে অপরাধ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, পশুর হাট ইজারা কিংবা চাঁদাবাজির সঙ্গে অর্থ জড়িত। যখনই অর্থ জড়িত থাকবে, তখনই শীর্ষ সন্ত্রাসীর মতো অপরাধীরা এসব বিষয় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করবে। অপরাধের ক্ষেত্রে আমরা যেটি দেখতে পাই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে বলতে শোনা যায় তালিকা হবে, ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, ছাড় পাবে না ইত্যাদি। প্রকৃত অর্থে অপরাধ বন্ধের জন্য যে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, সেটির ঘাটতি রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একার পক্ষে এসব নিয়ন্ত্রণ করা অনেক ক্ষেত্রে অসম্ভব। ফলে সরকারের সর্বোচ্চ নির্দেশ ও সহযোগিতা এসব বিষয় সমাধান করতে হবে এবং যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকবে, তাদের কোনো ছাড়া না দিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।
এদিকে পশুর হাটের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বড় বড় হাটগুলোতে জালিয়াতি রোধে পুলিশের বিশেষ নজরদারি থাকবে এবং প্রয়োজনে বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। হাটে জাল নোট শনাক্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় মেশিন সরবরাহের পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকেও সক্রিয় থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া যত্রতত্র হাট বসানো ঠেকাতে মোবাইল কোর্ট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত টহল জোরদার করা হবে। অতীতে সড়কের ওপর হাট বসানোর ফলে সৃষ্ট যানজট ও জনদুর্ভোগের অভিজ্ঞতা থেকে এবার আগেভাগেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগকে সমন্বিতভাবে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। যাতে কোনোভাবেই যাত্রা পথে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি না হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

এবারও সিন্ডিকেটের কব্জায় ঢাকার পশুর হাটগুলো

আপডেট সময় :

রাজধানীর পশুর হাট নিয়ে তৈরি হওয়া অসম প্রতিযোগিতা এখনও নিরসন হয়নি। পশুর হাটের ইজারার বিরোধে ইতোমধ্যে আহত হয়েছে বেশকজন। এবার দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট সদস্যদের প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে হাট ইজারার প্রক্রিয়া চলছে, ফলে দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েই গেছে। প্রতিবারই হাটের ইজারা পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে কিছু প্রভাবশালী মহল। এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও কোরবানির পশুর হাট নিয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক চক্র ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তৎপরতা আগেই বৃদ্ধি পাওয়ায় সহিংসতা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানীতে ২৭টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এরই মধ্যে ১৯টি হাটের ইজারা সম্পন্ন করেছে সংস্থা দুটি। বাকি আটটি হাটের কোনোটিতে কাঙ্ক্ষিত দর পাওয়া যায়নি, আবার কোনোটিতে কেউ দরপত্র দাখিল করেনি। ফলে এসব হাট ইজারায় পুনঃদরপত্র আহ্বান করেছে ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি।
জানা গেছে, বিশেষ করে ঢাকার বসিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ইজারা নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্বের খবর পাওয়া গেছে। কোরবানির এক মাস আগে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যাকাণ্ডে এ অস্থিরতা আরও তীব্র হয়েছে। নিহতের বড় ভাইয়ের দাবি, কোরবানির হাটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে কেন্দ্র করেই টিটনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি জানান, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি ও নিউমার্কেট এলাকায় প্রভাব বিস্তার এবং পশুর হাটের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যেই তার ভাইকে হত্যা করে শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলাল। তবে গণমাধ্যমে দেওয়া এক অনলাইন সাক্ষাৎকারে অভিযুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমামুল হাসান ওরফে পিচ্চি হেলাল টিটন হত্যার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৭ এপ্রিল যাত্রাবাড়ী, পোস্তগোলা ও শ্যামপুর এলাকার হাটের দরপত্র সংগ্রহ করতে এলে শ্যামপুর থানা জামায়াতের আমির মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও তার কর্মীদের সাথে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নগর ভবনের সম্পত্তি বিভাগে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করতে হয়। পশুর হাটকেন্দ্রিক সম্ভাব্য সংঘর্ষ বা সহিংসতার আশঙ্কা নিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার সরওয়ার হোসেন বলেন, গরুর হাট ঘিরে সম্ভাব্য সংঘর্ষ বা সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর। সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হচ্ছে। আমরা আশা করি, কোনো ধরনের সমস্যা হবে না।
এদিকে কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পশু প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তবর্তী এলাকায় হাটের ইজারা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পশু প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করছে। সীমান্ত দিয়ে পশু প্রবেশ রোধে বিজিবিকে সার্বক্ষণিক নজর রাখতে বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংস্থাগুলো জানিয়েছে, কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বরদাশত করা হবে না। এদিকে অনলাইনে পশু কেনাবেচার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের খাজনা বা হাসিল দিতে হবে না। কোরবানির পশুর ট্রাকে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর অবস্থানে থাকবে সরকার। এরই মধ্যে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গতকাল বৃহস্পতিবার হাট পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, কোরবানির পশু আনা-নেওয়ার সময় সড়কে চাঁদাবাজি রোধে সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে এবং কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাটগুলোর নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি র‌্যাব ও সেনাবাহিনীও মাঠে থাকবে। ইজারাদারদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক (ভলান্টিয়ার) দল থাকবে, তারা হাট ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করবে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানীতে পশুর হাটের ইজারা প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলকভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতাকেই ইজারা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এছাড়াও সাধারণ মানুষের সুবিধা এবং ঈদযাত্রায় যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সেসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই রাজধানীতে পশুর হাটের স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। পাশাপাশি হাট ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং নগরবাসীর ভোগান্তি কমাতে সিটি করপোরেশন আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছে ডিএনসিসি।
এ বিষয়ে অপরাধ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, পশুর হাট ইজারা কিংবা চাঁদাবাজির সঙ্গে অর্থ জড়িত। যখনই অর্থ জড়িত থাকবে, তখনই শীর্ষ সন্ত্রাসীর মতো অপরাধীরা এসব বিষয় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করবে। অপরাধের ক্ষেত্রে আমরা যেটি দেখতে পাই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে বলতে শোনা যায় তালিকা হবে, ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, ছাড় পাবে না ইত্যাদি। প্রকৃত অর্থে অপরাধ বন্ধের জন্য যে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, সেটির ঘাটতি রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একার পক্ষে এসব নিয়ন্ত্রণ করা অনেক ক্ষেত্রে অসম্ভব। ফলে সরকারের সর্বোচ্চ নির্দেশ ও সহযোগিতা এসব বিষয় সমাধান করতে হবে এবং যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকবে, তাদের কোনো ছাড়া না দিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।
এদিকে পশুর হাটের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বড় বড় হাটগুলোতে জালিয়াতি রোধে পুলিশের বিশেষ নজরদারি থাকবে এবং প্রয়োজনে বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। হাটে জাল নোট শনাক্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় মেশিন সরবরাহের পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকেও সক্রিয় থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া যত্রতত্র হাট বসানো ঠেকাতে মোবাইল কোর্ট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত টহল জোরদার করা হবে। অতীতে সড়কের ওপর হাট বসানোর ফলে সৃষ্ট যানজট ও জনদুর্ভোগের অভিজ্ঞতা থেকে এবার আগেভাগেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগকে সমন্বিতভাবে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। যাতে কোনোভাবেই যাত্রা পথে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি না হয়।