ঢাকা ১০:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

রামগতি আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

সবুজ পাতার ফাঁকে স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা

রামগতি (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৩৩ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় অঞ্চল রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় এবার আমের বাম্পার ফলনের জোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। গ্রামাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনা ও বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে কাঁচা আম, যা কৃষকদের মনে জাগিয়েছে নতুন আশার সঞ্চার।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ছোট-বড় নানা প্রজাতির আমগাছে ভরপুর ফলন। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে আমের গুটি দ্রুত বড় হয়ে ‘কড়ালি’ অবস্থায় পৌঁছেছে। ঘন সবুজ পাতার আড়ালে ঝুলে থাকা কাঁচা আমের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য মুগ্ধ করছে পথচারী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের।
কমলনগর উপজেলার চর কাদিরা এলাকার আমচাষী কামাল হোসেন বলেন, “এবার বাগানে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি আম ধরেছে। বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে গত কয়েক বছরের তুলনায় ভালো লাভের আশা করছি।”
অন্যদিকে রামগতি উপজেলার চর গাজী ইউনিয়নের শনিরোড এলাকার কৃষক মিঠু দাস জানান, ধানের পাশাপাশি আম এখন এ অঞ্চলের সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসলে পরিণত হচ্ছে। তিনি বলেন, “বর্তমান আবহাওয়া আম চাষের জন্য অত্যন্ত অনুকূল। প্রায় প্রতিটি গাছেই যেভাবে আম এসেছে, তাতে বাম্পার ফলনের আশা করছি।”
গ্রামীণ জনপদে ইতোমধ্যে কাঁচা আমকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অনেক পরিবারে শুরু হয়েছে আমের আচার তৈরির ধুম। গরমে কাঁচা আমের শরবত, আম ভর্তা ও অন্যান্য মুখরোচক খাবারও হয়ে উঠেছে জনপ্রিয়। স্থানীয়রা জানান, আম পাকার মৌসুমে দুধ-ভাতের সঙ্গে পাকা আম খাওয়ার ঐতিহ্য ঘিরে তাদের রয়েছে বিশেষ আগ্রহ।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহ আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং শিলাবৃষ্টি বা কালবৈশাখীর মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ অঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ আম উৎপাদন হতে পারে। এতে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহের সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
কমলনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ইকতারুল ইসলাম জানান, “আম চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে সরকারি সহায়তার অংশ হিসেবে সার, ওষুধ ও কীটনাশক প্রদান করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ মৌসুমে আমের ফলন আশানুরূপ হবে বলে আমরা আশা করছি।”
সব মিলিয়ে, অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের পরিশ্রমে রামগতি-কমলনগরে এবার আমের মৌসুম ঘিরে তৈরি হয়েছে আশাবাদের এক উজ্জ্বল চিত্র।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

রামগতি আমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

সবুজ পাতার ফাঁকে স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা

আপডেট সময় :

লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় অঞ্চল রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় এবার আমের বাম্পার ফলনের জোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। গ্রামাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনা ও বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে কাঁচা আম, যা কৃষকদের মনে জাগিয়েছে নতুন আশার সঞ্চার।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ছোট-বড় নানা প্রজাতির আমগাছে ভরপুর ফলন। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে আমের গুটি দ্রুত বড় হয়ে ‘কড়ালি’ অবস্থায় পৌঁছেছে। ঘন সবুজ পাতার আড়ালে ঝুলে থাকা কাঁচা আমের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য মুগ্ধ করছে পথচারী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের।
কমলনগর উপজেলার চর কাদিরা এলাকার আমচাষী কামাল হোসেন বলেন, “এবার বাগানে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি আম ধরেছে। বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে গত কয়েক বছরের তুলনায় ভালো লাভের আশা করছি।”
অন্যদিকে রামগতি উপজেলার চর গাজী ইউনিয়নের শনিরোড এলাকার কৃষক মিঠু দাস জানান, ধানের পাশাপাশি আম এখন এ অঞ্চলের সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসলে পরিণত হচ্ছে। তিনি বলেন, “বর্তমান আবহাওয়া আম চাষের জন্য অত্যন্ত অনুকূল। প্রায় প্রতিটি গাছেই যেভাবে আম এসেছে, তাতে বাম্পার ফলনের আশা করছি।”
গ্রামীণ জনপদে ইতোমধ্যে কাঁচা আমকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অনেক পরিবারে শুরু হয়েছে আমের আচার তৈরির ধুম। গরমে কাঁচা আমের শরবত, আম ভর্তা ও অন্যান্য মুখরোচক খাবারও হয়ে উঠেছে জনপ্রিয়। স্থানীয়রা জানান, আম পাকার মৌসুমে দুধ-ভাতের সঙ্গে পাকা আম খাওয়ার ঐতিহ্য ঘিরে তাদের রয়েছে বিশেষ আগ্রহ।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহ আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং শিলাবৃষ্টি বা কালবৈশাখীর মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ অঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ আম উৎপাদন হতে পারে। এতে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহের সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
কমলনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ইকতারুল ইসলাম জানান, “আম চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে সরকারি সহায়তার অংশ হিসেবে সার, ওষুধ ও কীটনাশক প্রদান করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ মৌসুমে আমের ফলন আশানুরূপ হবে বলে আমরা আশা করছি।”
সব মিলিয়ে, অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের পরিশ্রমে রামগতি-কমলনগরে এবার আমের মৌসুম ঘিরে তৈরি হয়েছে আশাবাদের এক উজ্জ্বল চিত্র।