অসময়ে পদ্মার ভাঙনে বিলীন কৃষি জমি, ভাঙন আতংকে কয়েকশো পরিবার
- আপডেট সময় : ২৩ বার পড়া হয়েছে
‘ আমার বাপের একশো বিঘা জমি ছিল, এখন আমাদের ছয় ভাইয়ের ছয় বিঘা জমি আছে। এই এক বিঘা জমি দিয়েই আমাদের সংসার চলে সন্তান মানুষ করতে হয়। ধানের থর বের হয়েছে এই ক্ষেত নদীতে গেলে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাবো।’ একটানে কথাগুলো বলছিলেন জুলহাস সরদার।
রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের মুন্সি বাজার এলাকায় অসময়ে ফের নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিনের ভাঙনে ধানের জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙন আতংকে রয়েছে বেথুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ কবরস্থান, ঈদগাহসহ কয়েকশ বাড়িঘর।
২২ এপ্রিল সকালে গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের মুন্সিবাজারে সরেজমিনে পদ্মা নদীর ভাঙন কবলিত স্থানে গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দেবগ্রাম ইউনিয়নের মুন্সিবাজার এলাকার ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড পদ্মা নদীর পাড়ের প্রায় ৫০ ফুট এলাকায় দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। গত কয়েকদিনের ভাঙনে হাবিজল সরদারের ধানের ক্ষেত বিলীন হয়ে গেছে। প্রায় তিন কাঠা জমি ধানসহ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন আতংকে রয়েছে পেয়াজ ক্ষেতসহ অন্যান্য আবাদি জমি।
প্রতিবছর ভাঙন শুরু হলে দৌড়ঝাপ শুরু করে স্থানীয়রা এরপর সরকারী জিওব্যাগ ফেলা হয় ততক্ষণে ৫০/৬০ বিঘা জমি চলে যায় পদ্মার বুকে। এভাবেই মানচিত্র থেকে আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকা। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক দল পরিবর্তন হয় আর নতুন করে শুরু হয় আশার বানী। আর আস্তে আস্তে কিছু পরিবার ভিটামাটি শুন্য হয়ে এলাকা ছাড়ে।
এদিকে দৌলতদিয়া ঘাট আধুনিকায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া প্রান্তে ৬ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী নদীর তীর প্রতিরক্ষার কথা থাকলেও প্রায় ৭ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি প্রকল্পটি। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন অব্যাহত থাকলেও দেবগ্রাম ইউনিয়নে ভাঙন রোধেও নেওয়া হয়নি যথাযথ পদক্ষেপ।
গত কয়েকদিনের ভাঙনে প্রায় ১০ বিঘা কৃষি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে স্কুল, কবরস্থান, ঈদগাহসহ কয়েকশ বাড়িঘর।ভাঙন দেখতে স্থানীয়রা নদীর পারে ভিড় জমিয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে শত শত পরিবার নদীর পারে এখন দিন কাটাচ্ছে। জমিতে লাগানো পাট কাঁচা অবস্থায় কেটে নিচ্ছেন কৃষকরা।
স্থানীয় বাসিন্দা সমাজ সেবক জামাল মুন্সি বলেন, এখানে অসময়ে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে কৃষি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। আমাদের দাবি আপাতত জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িক ভাবে নদী ভাঙন রোধ করতে হবে। এখানে ৪টি প্রাইমারি স্কুল, ৪টি মসজিদ আছে। এই নদী ভাঙন বন্ধ না করা গেলে সব ভেঙে যাবে। ২৫ বছর ধরে নদী এখানে ভাঙছে।
একই এলাকার আবদুল হামিদ মৃধা, মজিদ ব্যাপারীসহ কয়েকজন কৃষক বলেন, প্রায় ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে এখানে নদী ভাঙন হচ্ছে। কিন্তু ভাঙন ঠেকাতে কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। যখন যে এমপি হয় সে আশ্বাস দেয়। কিন্তু বাস্তবায়ন হয় না। ভাঙনে এই এলাকার শত শত বিঘা কৃষি জমি বিলীন হয়েছে। ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা নেই। নতুন করে আবার ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে ঝুঁকিতে রয়েছে শতাধিক বসতবাড়ি, স্কুল, মসজিদ, বাজার। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস বলেন, অসময়ে নদী ভাঙনে ফসলের ক্ষতি হবে। ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়ে তাদের সাথে নিয়ে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিবো।
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ তাজমিনুর রহমান বলেন, বিষয়টি শুনেছি ইতিমধ্যেই একটা টিম সেখানে পাঠানো হয়েছে। তারা দেখে আসলে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। তবে ভাঙন এলাকার আশেপাশে স্থাপনা স্কুল কলেজ মসজিদ মাদ্রাসা থাকলে জরুরি ভিত্তিতে সেখানে কাজ করা হয়।


















