ঢাকা ০৬:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

সপ্তাহজুড়ে জ্বালানি নেই ফিলিং স্টেশনে, চরম দুর্ভোগে ইসলামপুরবাসী

ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১৮ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় টানা এক সপ্তাহ ধরে তীব্র জ্বালানি সংকট বিরাজ করছে। উপজেলার অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্র ঝর্ণা ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঝর্ণা ফিলিং স্টেশনটিতে তেল নেই লেখা সাইনবোর্ড ঝুলছে। দীর্ঘ সময় ধরে জ্বালানি না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে রাইড শেয়ারিং ও ডেলিভারি কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে তাদের দৈনিক আয় মারাত্মকভাবে কমে গেছে। জরুরি প্রয়োজনে, বিশেষ করে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
শিক্ষকদের অভিযোগ, অনেকেই মোটরসাইকেল বা অটোরিকশার মাধ্যমে দূরবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে সময়মতো ক্লাসে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়েছে।
কৃষকরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সময়মতো ডিজেল সরবরাহ না পেলে কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে, যা সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এক ক্ষুব্ধ চালক বলেন, কয়েক দিন ধরে পাম্পে ঘুরছি, কিন্তু তেলের কোনো দেখা নেই। গাড়ি চালাতে না পারলে আয় বন্ধ হয়ে যায়, সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।
মোটরসাইকেল চালকরাও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তারা জানান, জ্বালানির অভাবে কর্মস্থলে যাওয়া ও দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
বিভিন্ন খাদ্যপণ্য ও ওষুধ কোম্পানির মাঠকর্মীরাও বিপাকে পড়েছেন। তারা নিয়মিত অর্ডার সংগ্রহ করতে পারছেন না এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ হচ্ছেন।
ভুক্তভোগীদের আক্ষেপ, তেল না থাকলে চাকা ঘোরে না, আর চাকা না ঘুরলে জীবন থেমে যায়। তারা দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
ঝর্ণা ফিলিং স্টেশনের স্টাফ জানায়, ডিপো থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ না পাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির উন্নতি হবে না বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংকট নিরসনে সরকারকে কার্যকর ও জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সপ্তাহজুড়ে জ্বালানি নেই ফিলিং স্টেশনে, চরম দুর্ভোগে ইসলামপুরবাসী

আপডেট সময় :

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় টানা এক সপ্তাহ ধরে তীব্র জ্বালানি সংকট বিরাজ করছে। উপজেলার অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্র ঝর্ণা ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঝর্ণা ফিলিং স্টেশনটিতে তেল নেই লেখা সাইনবোর্ড ঝুলছে। দীর্ঘ সময় ধরে জ্বালানি না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে রাইড শেয়ারিং ও ডেলিভারি কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে তাদের দৈনিক আয় মারাত্মকভাবে কমে গেছে। জরুরি প্রয়োজনে, বিশেষ করে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
শিক্ষকদের অভিযোগ, অনেকেই মোটরসাইকেল বা অটোরিকশার মাধ্যমে দূরবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে সময়মতো ক্লাসে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়েছে।
কৃষকরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সময়মতো ডিজেল সরবরাহ না পেলে কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে, যা সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এক ক্ষুব্ধ চালক বলেন, কয়েক দিন ধরে পাম্পে ঘুরছি, কিন্তু তেলের কোনো দেখা নেই। গাড়ি চালাতে না পারলে আয় বন্ধ হয়ে যায়, সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।
মোটরসাইকেল চালকরাও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তারা জানান, জ্বালানির অভাবে কর্মস্থলে যাওয়া ও দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
বিভিন্ন খাদ্যপণ্য ও ওষুধ কোম্পানির মাঠকর্মীরাও বিপাকে পড়েছেন। তারা নিয়মিত অর্ডার সংগ্রহ করতে পারছেন না এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ হচ্ছেন।
ভুক্তভোগীদের আক্ষেপ, তেল না থাকলে চাকা ঘোরে না, আর চাকা না ঘুরলে জীবন থেমে যায়। তারা দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
ঝর্ণা ফিলিং স্টেশনের স্টাফ জানায়, ডিপো থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ না পাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির উন্নতি হবে না বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংকট নিরসনে সরকারকে কার্যকর ও জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।