ঢাকা ০৭:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও ঝুঁকির সাঁকো

মুক্তিযোদ্ধার আর্তনাদে কাঁপছে বড়হাতিয়া

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১৬ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল বড়হাতিয়া ইউনিয়নের উত্তর বড়হাতিয়া মছনের হাট এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ একটি ঝুলন্ত সাঁকোই ভরসা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারসহ অর্ধশত পরিবারের কয়েকশ মানুষের। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এ সাঁকো দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে তাদের।
গতকাল সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, বড়হাতিয়ার পাহাড়ি এলাকা থেকে নেমে আসা নেইক্ষ্যংছড়ি খাল পার হলেই এসব পরিবারের বসবাস। কিন্তু নিরাপদ সেতু না থাকায় স্থানীয়রা নিজেরাই একটি অস্থায়ী ঝুলন্ত সাঁকো তৈরি করে চলাচল করছেন। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন অনেকে।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পাহাড়ি ঢলে খালের পানি বেড়ে গেলে সাঁকোটি তলিয়ে যায়, ফলে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে খালপাড়ের মানুষজন। তখন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন বাসিন্দারা।
খালপাড়ে বসবাসকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রেখে দেশের জন্য লড়েছি। অথচ স্বাধীনতার এত বছর পরও একটি ব্রিজ পেলাম না। পরিবারসহ অন্তত ৫০টি পরিবার এখানে মানবেতর জীবনযাপন করছে।”
তিনি আরও জানান, এই এলাকার স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন ৩৫ ফুট প্রশস্ত খালটি ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয়। বর্ষাকালে তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারে না। অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রেও দেখা দেয় চরম দুর্ভোগ।
স্থানীয়রা জানান, এলাকাটি দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। একটি সেতু নির্মাণ হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই উন্নত হবে না, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলোরও প্রাপ্য সম্মান নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি লায়লা বরপাড়া, উত্তরপাড়া, টুনারপাড়া ও মছনের হাট এলাকার বহু কৃষক নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল বশর বলেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছি। দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণ হলে আমাদের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব হবে।
এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নাহিদ আহমেদ জাকির বলেন, জনদূর্ভোগ নিযে একটি লিখিত আবেদন পেয়েছি। তিনি বলেন, সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই জনদূর্ভোগ লাগবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেতু নির্মানের উদ্যোগ গ্রহন করা হবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও ঝুঁকির সাঁকো

মুক্তিযোদ্ধার আর্তনাদে কাঁপছে বড়হাতিয়া

আপডেট সময় :

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল বড়হাতিয়া ইউনিয়নের উত্তর বড়হাতিয়া মছনের হাট এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ একটি ঝুলন্ত সাঁকোই ভরসা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারসহ অর্ধশত পরিবারের কয়েকশ মানুষের। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এ সাঁকো দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে তাদের।
গতকাল সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, বড়হাতিয়ার পাহাড়ি এলাকা থেকে নেমে আসা নেইক্ষ্যংছড়ি খাল পার হলেই এসব পরিবারের বসবাস। কিন্তু নিরাপদ সেতু না থাকায় স্থানীয়রা নিজেরাই একটি অস্থায়ী ঝুলন্ত সাঁকো তৈরি করে চলাচল করছেন। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন অনেকে।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পাহাড়ি ঢলে খালের পানি বেড়ে গেলে সাঁকোটি তলিয়ে যায়, ফলে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে খালপাড়ের মানুষজন। তখন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন বাসিন্দারা।
খালপাড়ে বসবাসকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রেখে দেশের জন্য লড়েছি। অথচ স্বাধীনতার এত বছর পরও একটি ব্রিজ পেলাম না। পরিবারসহ অন্তত ৫০টি পরিবার এখানে মানবেতর জীবনযাপন করছে।”
তিনি আরও জানান, এই এলাকার স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন ৩৫ ফুট প্রশস্ত খালটি ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয়। বর্ষাকালে তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারে না। অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রেও দেখা দেয় চরম দুর্ভোগ।
স্থানীয়রা জানান, এলাকাটি দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। একটি সেতু নির্মাণ হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই উন্নত হবে না, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলোরও প্রাপ্য সম্মান নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি লায়লা বরপাড়া, উত্তরপাড়া, টুনারপাড়া ও মছনের হাট এলাকার বহু কৃষক নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল বশর বলেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছি। দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণ হলে আমাদের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব হবে।
এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নাহিদ আহমেদ জাকির বলেন, জনদূর্ভোগ নিযে একটি লিখিত আবেদন পেয়েছি। তিনি বলেন, সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই জনদূর্ভোগ লাগবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেতু নির্মানের উদ্যোগ গ্রহন করা হবে।