ঢাকা ০৭:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

ডিমলায় তিস্তার চর দখল করে বালু-মাটি লুটের মহোৎসব

নৌপুলিশের বিরুদ্ধে ‘চাঁদাবাজীর’ অভিযোগ

ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১৯ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদীর চর ও ফসলি জমি থেকে অবাধে বালু ও মাটি উত্তোলনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ চক্রের দৌরাত্ম্য। সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে চলছে এই অবৈধ বাণিজ্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের চোখের সামনেই এ কার্যক্রম চললেও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের তেলির বাজার সংলগ্ন গয়িং বাঁধ, ঝুনাগাছ চাপানীর ছাতুনামা, ভেন্ডাবাড়ি, দক্ষিণ সোনাখালি এলাকা এবং খালিশা চাপানীর বাইশপুকুরসহ বিভিন্ন স্থানে নদীর চর ও কৃষিজমি থেকে দিন-রাত বালু ও মাটি কেটে ট্রাক্টর-ট্রলিতে করে বিক্রি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়ন পরিষদের পেছনে ইঞ্জিনচালিত মেশিন দিয়ে পুকুর থেকেও বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একাধিক সংঘবদ্ধ চক্র এ কাজে জড়িত থাকলেও প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। মাঝেমধ্যে প্রশাসনের অভিযান পরিচালিত হলেও তা সাময়িক; কিছুদিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় শুরু হয় বালু উত্তোলন। শুধু টেপাখড়িবাড়ি নয়, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, খগাখড়িবাড়ি, পূর্ব-পশ্চিম ছাতনাই ও নাউতারা ইউনিয়নেও একই চিত্র বিরাজ করছে।
এদিকে প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক্টর-ট্রলি চলাচলের ফলে গ্রামীণ সড়কগুলো ভেঙে বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে ধুলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে, আর বর্ষা মৌসুমে এসব সড়ক সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ডালিয়ায় অবস্থিত নৌ পুলিশের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিটি ট্রলি বা ট্রাক্টর থেকে ৫০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করে তারা এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে বাধা না দিয়ে বরং সহায়তা করছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে বালুবাহী ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচল স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে। কাদামাটি ও ধুলাবালির কারণে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি, পাশাপাশি বিকট শব্দদূষণে বিঘ্নিত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। চলমান এসএসসি পরীক্ষার সময়েও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযুক্তদের কেউ কেউ বালু উত্তোলনের বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও বৈধ অনুমতির বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। ট্রাক্টর চালকদের দাবি, তারা কেবল শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তারা জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, নদী বা ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। ইতিপূর্বে অভিযান চালিয়ে ট্রলি জব্দ করা হয়েছে এবং এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এলাকাবাসীর দাবি, কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে তিস্তার চরাঞ্চল ও কৃষিজমি ধ্বংসের পাশাপাশি পরিবেশ ও জনজীবনে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ডিমলায় তিস্তার চর দখল করে বালু-মাটি লুটের মহোৎসব

নৌপুলিশের বিরুদ্ধে ‘চাঁদাবাজীর’ অভিযোগ

আপডেট সময় :

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদীর চর ও ফসলি জমি থেকে অবাধে বালু ও মাটি উত্তোলনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ চক্রের দৌরাত্ম্য। সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে চলছে এই অবৈধ বাণিজ্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের চোখের সামনেই এ কার্যক্রম চললেও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের তেলির বাজার সংলগ্ন গয়িং বাঁধ, ঝুনাগাছ চাপানীর ছাতুনামা, ভেন্ডাবাড়ি, দক্ষিণ সোনাখালি এলাকা এবং খালিশা চাপানীর বাইশপুকুরসহ বিভিন্ন স্থানে নদীর চর ও কৃষিজমি থেকে দিন-রাত বালু ও মাটি কেটে ট্রাক্টর-ট্রলিতে করে বিক্রি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়ন পরিষদের পেছনে ইঞ্জিনচালিত মেশিন দিয়ে পুকুর থেকেও বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একাধিক সংঘবদ্ধ চক্র এ কাজে জড়িত থাকলেও প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। মাঝেমধ্যে প্রশাসনের অভিযান পরিচালিত হলেও তা সাময়িক; কিছুদিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় শুরু হয় বালু উত্তোলন। শুধু টেপাখড়িবাড়ি নয়, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, খগাখড়িবাড়ি, পূর্ব-পশ্চিম ছাতনাই ও নাউতারা ইউনিয়নেও একই চিত্র বিরাজ করছে।
এদিকে প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক্টর-ট্রলি চলাচলের ফলে গ্রামীণ সড়কগুলো ভেঙে বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে ধুলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে, আর বর্ষা মৌসুমে এসব সড়ক সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ডালিয়ায় অবস্থিত নৌ পুলিশের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিটি ট্রলি বা ট্রাক্টর থেকে ৫০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করে তারা এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে বাধা না দিয়ে বরং সহায়তা করছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে বালুবাহী ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচল স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে। কাদামাটি ও ধুলাবালির কারণে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি, পাশাপাশি বিকট শব্দদূষণে বিঘ্নিত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। চলমান এসএসসি পরীক্ষার সময়েও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযুক্তদের কেউ কেউ বালু উত্তোলনের বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও বৈধ অনুমতির বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। ট্রাক্টর চালকদের দাবি, তারা কেবল শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তারা জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, নদী বা ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। ইতিপূর্বে অভিযান চালিয়ে ট্রলি জব্দ করা হয়েছে এবং এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এলাকাবাসীর দাবি, কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে তিস্তার চরাঞ্চল ও কৃষিজমি ধ্বংসের পাশাপাশি পরিবেশ ও জনজীবনে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে।