প্রকল্প ও বরাদ্দ জনসম্মুখে প্রকাশ
স্বচ্ছতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন এমপি কাজল
- আপডেট সময় : ৩৭ বার পড়া হয়েছে
কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল তাঁর নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রকল্প গ্রহণ ও বরাদ্দ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করে তিনি ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সচেতন মহলের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। বিষয়টি শুধু একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমপি কাজলের বরাদ্দকৃত বিভিন্ন প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হলে তা দ্রুতই জনমনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। অনেকেই মনে করছেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এভাবে একজন সংসদ সদস্যের সরাসরি বরাদ্দ ও প্রকল্পের তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা বিরল উদ্যোগ। এর ফলে সাধারণ মানুষ জানতে পারছে—কোথায়, কী পরিমাণ বরাদ্দ এসেছে এবং সেই অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হবে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, তিনি প্রথম পর্যায়ে টিআর প্রকল্পে ৩০ লাখ টাকা, এলজিইডির মাধ্যমে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা, কাবিখা প্রকল্পে ২৫ লাখ টাকা, পাশাপাশি ২০ টন গম ও ২০ টন চাল বরাদ্দ দিয়েছেন। এছাড়া শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় একশতাধিক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যা স্থানীয় অবকাঠামো ও মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পরিবেশ সংগঠন ( বেলা) কক্সবাজার জেলা কমিটির সভাপতি ইব্রাহিম খলিল মামুন বলেন, “এই ধরনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এতে জনগণ সরাসরি জানতে পারছে কী বরাদ্দ এসেছে এবং তা কোথায় ব্যয় হবে। এটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি কার্যকর উপায়।”
খুরুশকুল এলাকার বাসিন্দা নুরুল আলম, জনপ্রতিনিধি জাহে আলম এবং এনজিও কর্মী জাকির হোসাইন একযোগে বলেন,
“আগে বরাদ্দের বিষয়ে আমরা তেমন কিছু জানতাম না। এখন সবকিছু খোলামেলা হওয়ায় আমরা আশ্বস্ত। এতে অনিয়মের সুযোগ কমবে এবং উন্নয়ন কাজের মান বাড়বে।”
জেলা শিক্ষক সমিতির নেতা মাস্টার এনামুল হক বলেন, “অতীতে বরাদ্দের ক্ষেত্রে নানা অভিযোগ ছিল। কিন্তু এখন যেভাবে তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে, তা সত্যিই আশাব্যঞ্জক। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও সরাসরি উপকৃত হবে এবং কোনো অনিয়ম হলে তা সহজেই ধরা পড়বে।”
বিশ্লেষকদের মতে, এ উদ্যোগ কেবল একটি এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি সারা দেশের জন্য একটি উদাহরণ হতে পারে। সরকারি বরাদ্দের তথ্য উন্মুক্ত হলে দুর্নীতি কমে, জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ে এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে গুণগত মান নিশ্চিত হয়।
এমপির বক্তব্য এ বিষয়ে সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান রহমান কাজল বলেন, “আমি সবসময়ই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে কাজ করেছি। বর্তমান ও ভবিষ্যতে সকল বরাদ্দ কীভাবে দেওয়া হচ্ছে তা জনগণকে জানানো হবে। এতে মানুষ সচেতন হবে এবং উন্নয়ন কাজের মান নিশ্চিত হবে।
জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার এই উদ্যোগ কক্সবাজারে নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে শুধু উন্নয়ন নয়, জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণও বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।













