রোহিঙ্গা ক্যাম্পের তরুণী ইয়াবাসহ আটক
- আপডেট সময় : ৪৮ বার পড়া হয়েছে
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এক তরুণীকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ আটক করেছে পুলিশ। বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের কলসগ্রাম এলাকায় ভোররাতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ১ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা থেকে পটুয়াখালীগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘ সময় ধরে বাসটির যাত্রীদের পরিচয় যাচাই ও সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করা হয়। এক পর্যায়ে আচরণে সন্দেহজনক মনে হওয়ায় জাহিদা বেগম (২০) নামের এক তরুণীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তার কাছে থাকা ব্যাগ ও ব্যক্তিগত সামগ্রী তল্লাশি করে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
আটক জাহিদা বেগমের বাড়ি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বলে জানা গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ ধারণা করছে, তিনি একটি সক্রিয় মাদক পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার বাজারমূল্য কয়েক লাখ টাকা হতে পারে। এসব ইয়াবা দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের উদ্দেশ্যে বহন করা হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। আটক তরুণীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, টেকনাফ সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে ইয়াবা পাচারকারীরা নানা কৌশল ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাদক ছড়িয়ে দিচ্ছে। প্রতিদিন সাধারণ যাত্রীদের বিভিন্ন চেকপোস্টে কঠোর তল্লাশির মুখে পড়তে হলেও, সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা কখনো কখনো প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক পরিবহন করতে সক্ষম হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু সড়কপথ নয়—নদীপথ ও সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা দিয়েও মাদক পাচার অব্যাহত রয়েছে। তাই মাদক নির্মূলে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, চেকপোস্টে আধুনিক স্ক্যানিং ব্যবস্থা চালু এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সচেতন মহলের মতে, তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।














