ঢাকা ১১:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

পদ্মায় রাতের আঁধারে প্রভাবশালীদের অবৈধভাবে বালু তোলার উৎসব

সাইফুর রহমান পারভেজ, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)
  • আপডেট সময় : ৩২ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ও দৌলতদিয়া ইউনিয়ন এলাকায় পদ্মা নদীতে একাধিক কাটার মেশিন (ড্রেজার) দিয়ে রাতের আঁধারে মাটি কেটে বিক্রি করছে প্রভাবশালী একটি মহল। এভাবে অবৈধ পন্থায় বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীরবর্তী ভূমি ক্ষয় এবং মিঠা পানির মাছের বিলুপ্তি ঘটছে। এতে স্থানীয় আবাদি জমি, বসতবাড়িও হুমকির মুখে পড়েছে।
গত সোমবার (৪ মে) ভোরে গিয়ে দেখা যায়, কলা বাগান এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কেটে বাল্কহেডে তুলা হচ্ছে। এবং এই বাল্কহেড দৌলতদিয়া সহ মানিকগঞ্জ, পাবনা ও ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় চলে যাচ্ছে। এ ছাড়া এ সময় পদ্মা নদীতে দুটি কাটার মেশিন (ড্রেজার) রয়েছে। পাশেই নোঙর করা রয়েছে বেশ কয়েকটি বাল্কহেড। কাটার মেশিনের সঙ্গে নোঙর করা অবস্থায় বালু তোলা হচ্ছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এভাবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০/৭০ বাল্কহেড অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। এতে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৭/৮ লাখ ফুট বালু বিভিন্ন জেলায় টোকেনের মাধ্যমে চলে যাচ্ছে। এবং তারা সতর্ক রয়েছে কেউ যেন ছবি তুলতে না পারে।
এর আগে গত ২১ তারিখ মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২ টা থেকে ভোর পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন। সেই অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মুনতাসির হাসান খান। সে সময় দশজনকে আটক করে প্রত্যেককে তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে উপজেলা প্রশাসন। এখনো খনন যন্ত্র এবং বাল্কহেড প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বালু উত্তোলনে নাম আসে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার। তিনি দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় ৫ আগষ্টের পর থেকেই ঘাটে বালু উত্তোলন করে আসছিলেন।
এবিষয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বললে তারা জানান, যেদিন বাল্কহেড সহ দশজন ধরা পড়ছে তার একদিন পর থেকেই সেই ক্ষতি পোষানোর জন্য দ্বিগুণ গতিতে বালু উত্তোলন করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে কথা বলার ক্ষমতা নেই। তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছেন। এর সাথে অনেকেই জড়িত।
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে স্থানীয় কৃষক বলেন, রাতের অন্ধকারে প্রতিদিন নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আগে একটি কাটার মেশিন থাকলেও এখন দুটি মেশিন ব্যাবহার করা,হচ্ছে। এগুলো নদীতে যে সকল বাহিনী রয়েছে কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশ জানে। তাদের সামনেই রাত আটটা নয়টা থেকে শুরু করে ভোর ছয়টা সাতটা পর্যন্ত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
তিনি আরি বলেন, ‘এভাবে প্রতিনিয়ত পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন হলে নদীভাঙনের কবলে পড়বে এলাকা। এতে শত শত হেক্টর আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মুনতাসির হাসান খান বলেন, পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোন সুযোগ নেই। এভাবে কেউ বালু উত্তোলন করলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। গত কিছুদিন আগে সারারাত পদ্মা নদীতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তখন আমি দশজনকে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে এবং সেই জব্দ করা কাটার মেশিন ও বাল্কহেড এখানো প্রশাসনের হাতে রয়েছে। তাছাড়া অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে আশেপাশের বাড়িঘর ও চাষযোগ্য ভূমি যেমন ঝুঁকিতে থাকে তেমনি সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পদ্মায় রাতের আঁধারে প্রভাবশালীদের অবৈধভাবে বালু তোলার উৎসব

আপডেট সময় :

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ও দৌলতদিয়া ইউনিয়ন এলাকায় পদ্মা নদীতে একাধিক কাটার মেশিন (ড্রেজার) দিয়ে রাতের আঁধারে মাটি কেটে বিক্রি করছে প্রভাবশালী একটি মহল। এভাবে অবৈধ পন্থায় বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীরবর্তী ভূমি ক্ষয় এবং মিঠা পানির মাছের বিলুপ্তি ঘটছে। এতে স্থানীয় আবাদি জমি, বসতবাড়িও হুমকির মুখে পড়েছে।
গত সোমবার (৪ মে) ভোরে গিয়ে দেখা যায়, কলা বাগান এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কেটে বাল্কহেডে তুলা হচ্ছে। এবং এই বাল্কহেড দৌলতদিয়া সহ মানিকগঞ্জ, পাবনা ও ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় চলে যাচ্ছে। এ ছাড়া এ সময় পদ্মা নদীতে দুটি কাটার মেশিন (ড্রেজার) রয়েছে। পাশেই নোঙর করা রয়েছে বেশ কয়েকটি বাল্কহেড। কাটার মেশিনের সঙ্গে নোঙর করা অবস্থায় বালু তোলা হচ্ছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এভাবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০/৭০ বাল্কহেড অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। এতে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৭/৮ লাখ ফুট বালু বিভিন্ন জেলায় টোকেনের মাধ্যমে চলে যাচ্ছে। এবং তারা সতর্ক রয়েছে কেউ যেন ছবি তুলতে না পারে।
এর আগে গত ২১ তারিখ মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২ টা থেকে ভোর পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন। সেই অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মুনতাসির হাসান খান। সে সময় দশজনকে আটক করে প্রত্যেককে তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে উপজেলা প্রশাসন। এখনো খনন যন্ত্র এবং বাল্কহেড প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বালু উত্তোলনে নাম আসে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার। তিনি দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় ৫ আগষ্টের পর থেকেই ঘাটে বালু উত্তোলন করে আসছিলেন।
এবিষয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বললে তারা জানান, যেদিন বাল্কহেড সহ দশজন ধরা পড়ছে তার একদিন পর থেকেই সেই ক্ষতি পোষানোর জন্য দ্বিগুণ গতিতে বালু উত্তোলন করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে কথা বলার ক্ষমতা নেই। তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছেন। এর সাথে অনেকেই জড়িত।
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে স্থানীয় কৃষক বলেন, রাতের অন্ধকারে প্রতিদিন নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আগে একটি কাটার মেশিন থাকলেও এখন দুটি মেশিন ব্যাবহার করা,হচ্ছে। এগুলো নদীতে যে সকল বাহিনী রয়েছে কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশ জানে। তাদের সামনেই রাত আটটা নয়টা থেকে শুরু করে ভোর ছয়টা সাতটা পর্যন্ত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
তিনি আরি বলেন, ‘এভাবে প্রতিনিয়ত পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন হলে নদীভাঙনের কবলে পড়বে এলাকা। এতে শত শত হেক্টর আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মুনতাসির হাসান খান বলেন, পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোন সুযোগ নেই। এভাবে কেউ বালু উত্তোলন করলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। গত কিছুদিন আগে সারারাত পদ্মা নদীতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তখন আমি দশজনকে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে এবং সেই জব্দ করা কাটার মেশিন ও বাল্কহেড এখানো প্রশাসনের হাতে রয়েছে। তাছাড়া অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে আশেপাশের বাড়িঘর ও চাষযোগ্য ভূমি যেমন ঝুঁকিতে থাকে তেমনি সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারায়।