ঢাকা ০৯:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

ডিমলায় অ্যাপসের মাধ্যমে ধান ক্রয় শুরু, কৃষকের দোরগোড়ায় ন্যায্য মূল্য

ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৪২ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে সারা দেশের মতো নীলফামারীর ডিমলা উপজেলাতেও কৃষকের ঘরে উঠতে শুরু করবে নতুন ধান। কয়েক দিন পরেই ধান কাটা-মাড়াই কাজে ব্যস্ত সময় পার করবে মাঠের চাষিরা। এমন সময়ে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এগিয়ে এসেছে উপজেলা খাদ্য বিভাগ। ডিজিটাল পদ্ধতিতে মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ১১ মে পর্যন্ত।
উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বোরো চাষিরা এখন ঘরে বসেই নিজেদের মোবাইল ফোন দিয়ে আবেদন করতে পারছেন। আবেদন করতে প্রয়োজন শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর। তবে একজন কৃষক একটি জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে একাধিক আবেদন করতে পারবেন না, ফলে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।
ডিমলা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মামুনার রশিদ বলেন, কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ নিশ্চিত করে বাজার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, চলতি মৌসুমে ১ হাজার ২০৮ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রতি মণ ধানের সরকারি মূল্য ধরা হয়েছে ১,৪৪০ টাকা। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে আবেদন পাওয়া না গেলে আবেদনের সময়সীমা আরো বৃদ্ধি করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ক্রয়কৃত ধানের মূল্য সরাসরি কৃষকের ব্যাংক হিসাবে পরিশোধ করা হবে। কৃষকরা মাত্র ১০ টাকায় তফসিলভুক্ত সরকারি ব্যাংকে হিসাব খুলতে পারবে,এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মীর হাসান আল বান্না জানান, চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এবং রসায়নিক সার পর্যাপ্ত পরিমান সরবরাহ ও স্বাভাবিক থাকায় ডিমলায় ইরি-বোরো চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। তিনি বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যেও সেচের চাপ কম ছিল, ফলে উৎপাদন ব্যয়ও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। কৃষকরা সরাসরি সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে পারছেন—এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
ধান ক্রয় কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, অ্যাপসে আবেদনকারীদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে ৪০৩ জন কৃষক নির্বাচন করা হবে। নির্বাচিত কৃষকরা সরকার নির্ধারিত মূল্যে সরাসরি ধান বিক্রি করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, এই পদ্ধতিতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং অনিয়ম-দুর্নীতির সুযোগ হ্রাস পাবে। এতে সরকারের খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রম আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক হবে।
স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এ উদ্যোগ ইতোমধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তারা আশা করছেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ন্যায্য মূল্যে ধান বিক্রি নিশ্চিত হবে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও হয়রানি থেকে মুক্তি মিলবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ডিমলায় অ্যাপসের মাধ্যমে ধান ক্রয় শুরু, কৃষকের দোরগোড়ায় ন্যায্য মূল্য

আপডেট সময় :

চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে সারা দেশের মতো নীলফামারীর ডিমলা উপজেলাতেও কৃষকের ঘরে উঠতে শুরু করবে নতুন ধান। কয়েক দিন পরেই ধান কাটা-মাড়াই কাজে ব্যস্ত সময় পার করবে মাঠের চাষিরা। এমন সময়ে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এগিয়ে এসেছে উপজেলা খাদ্য বিভাগ। ডিজিটাল পদ্ধতিতে মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ১১ মে পর্যন্ত।
উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বোরো চাষিরা এখন ঘরে বসেই নিজেদের মোবাইল ফোন দিয়ে আবেদন করতে পারছেন। আবেদন করতে প্রয়োজন শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর। তবে একজন কৃষক একটি জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে একাধিক আবেদন করতে পারবেন না, ফলে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।
ডিমলা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মামুনার রশিদ বলেন, কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ নিশ্চিত করে বাজার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, চলতি মৌসুমে ১ হাজার ২০৮ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রতি মণ ধানের সরকারি মূল্য ধরা হয়েছে ১,৪৪০ টাকা। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে আবেদন পাওয়া না গেলে আবেদনের সময়সীমা আরো বৃদ্ধি করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ক্রয়কৃত ধানের মূল্য সরাসরি কৃষকের ব্যাংক হিসাবে পরিশোধ করা হবে। কৃষকরা মাত্র ১০ টাকায় তফসিলভুক্ত সরকারি ব্যাংকে হিসাব খুলতে পারবে,এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মীর হাসান আল বান্না জানান, চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এবং রসায়নিক সার পর্যাপ্ত পরিমান সরবরাহ ও স্বাভাবিক থাকায় ডিমলায় ইরি-বোরো চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। তিনি বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যেও সেচের চাপ কম ছিল, ফলে উৎপাদন ব্যয়ও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। কৃষকরা সরাসরি সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে পারছেন—এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
ধান ক্রয় কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, অ্যাপসে আবেদনকারীদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে ৪০৩ জন কৃষক নির্বাচন করা হবে। নির্বাচিত কৃষকরা সরকার নির্ধারিত মূল্যে সরাসরি ধান বিক্রি করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, এই পদ্ধতিতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং অনিয়ম-দুর্নীতির সুযোগ হ্রাস পাবে। এতে সরকারের খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রম আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক হবে।
স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এ উদ্যোগ ইতোমধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তারা আশা করছেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ন্যায্য মূল্যে ধান বিক্রি নিশ্চিত হবে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও হয়রানি থেকে মুক্তি মিলবে।