কুমিল্লায় বিএনপি নেতার বাড়িতে আওয়ামিলীগের হামলা, নারীসহ আহত ৪
- আপডেট সময় : ৭১ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লার সদর উপজেলার ৩ নং দক্ষিণ দূর্গাপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামিলীগের সাধারণ সম্পাদক, ৫ ই আগস্টে ছাত্রজনতার উপর হামলায় এফআইআরভুক্ত আসামি মাসুদ পারভেজের হামলায় উপজেলা মৎসজীবি দলের যুগ্ম আহবায়ক বাবুল হোসেনসহ পরিবারের ৪ জনের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
গত ২১ (এপ্রিল) মাসুদকে গ্রেফতার করতে পুলিশ অভিযানে গেলে সে পালিয়ে যায়। পুলিশ চলে গেলে মাসুদ ও তাঁর ক্যাডার বাহিনী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা বাবুল হোসেনের পরিবারের উপর আতর্কিত হামলা ও ভাংচুর করে।
এতে অন্যান্য আহতরা হলেন বাবুল হোসেনের বাড়িতে বেড়াতে আসা বোনের ছেলে বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক বিল্লাল হোসেন, বাবুল হোসেনের ছেলে আব্দুর রহিম শুভ ও স্ত্রী শাহিনা আক্তার।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, মসুদ পারভেজ স্থানীয় আওয়ামিলীগের নেতা। সে এমপি বাহার ও উপজেলা চেয়ারম্যান টুটুলের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘ ১৭ বছর এলাকায় স্থানীয় বিএনপি ও সাধারণ জনগনের উপর জুলুম নির্যাতন করে আসছে। মানুষের জমি দখল, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও মারধরের শত শত অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
গত ২৪শে জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে মাসুদ পারভেজ ও তার ক্যাডার বাহিনী ছাত্রদের উপর হামলা চালায়। সরকার পতনের পর তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হলে সে পালিয়ে যায়। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকে গত কয়েকমাস ধরে এলাকায় এসে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে আবারো পূর্বের ন্যায় অপকর্ম শুরু করে সে।
খবর পেয়ে পুলিশ তাঁর বাড়িতে অভিযান দিলে সে পালিয়ে যায়। পুলিশের অবর্তমানে আবারো দলবল নিয়ে এসে স্থানীয় বিএনপি নেতা বাবুল হোসেন ও তাঁর পরিবারের উপর আতর্কিত হামলা চালিয়ে কুপিয়ে জখম করে। বাবুল হোসেনের পরিবারের নারী সদস্যদের মারধর ও তাদের শ্লীলতাহানি করে। দেশীয় দা, কুড়াল ও লাঠিসোঁটা দিয়ে তাদের মাথা, শরীরে আঘাত করলে পরিবারের ৪ জন ঘোরতর আহত হয় এবং অন্যান্য সদস্যরাও আঘাতপ্রাপ্ত হোন।
আহতদেরকে স্থানীয় বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদেরকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করা হয়। ৫ দিন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে অভিযুক্ত মাসুদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী পরিবার।
বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার কারনে দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামিলীগের জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বাবুল হোসেনের পরিবার। ক্ষমতার পালাবদল হলেও আওয়ামিলীগের অত্যাচার থেকে রেহাই পাননি তারা। বিএনপি নেতা হয়েও আওয়ামিলীগ দ্বারা এমন অত্যাচারের শিকার হইলে স্থানীয় নিরীহ জনগন মাসুদ ও তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনীর কাছে কতটা অসহায় সেই চিহ্ন ফুটে উঠে।
বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে বাবুল হোসেন বলেন, আমি ছাত্রজীবন থেকে বিএনপির সাথে জড়িত। যে কারনে গত ১৭ বছর আমাকে নির্যাতন নিপীড়ন করা হয়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও বাড়িতে আসতে দেওয়া হতো না। কিন্ত বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরেও এসব জুলুমিকারীরা আমাদের উপর কিভাবে অত্যাচার করে। এখনো কেন আমরা তাদের হাতে মাইর খেয়ে আহত হচ্ছি৷ এমন সন্ত্রাসীদের আইনের আওয়াতায় এনে সঠিক বিচার দাবি করেন এই ভুক্তভোগী।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ঘটনার পর থেকে আসামি পলাতক রয়েছে। মাসুদ পারভেজকে গ্রেফতার করার চেষ্টা চলমান আছে। সে কোন মোবাইল ব্যাবহার করে না, তাই তাকে ট্র্যাক করা যাচ্ছে না। আমরা যত দ্রুত সম্ভব তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।
অভিযুক্ত আসামি আওয়ামিলীগ নেতা মাসুদ পারভেজকে একাধিকবার ফোন করলেও তার ব্যাবহৃত মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।














