নানান অনিয়মে চলছে দাগনভূঞা দাদনার খালের পুনঃখনন
- আপডেট সময় : ৩৮ বার পড়া হয়েছে
* খালে অবৈধ দোকান ও কালভার্ট অপসারণ না করার অভিযোগ
* অবৈধ স্থাপনা মালিকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে
* অপ্রতুল পুনঃখনন ব্যয়

দুষনে দখলে অস্তিত্বহীন প্রায় ২০০ বছর পূরনো দাগনভূঞা দাদনা খালের অস্তিত্ব ফিরিয়ে আনতে সরকার ঘোষিত খাল খননের কর্মসূচি হিসেবে খালের পুনঃখনন ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলেও অনিয়মের মাধ্যমেই খাল পূর্ণ খননের কাজ শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়রা জানান, খালের কোথায় কম, কোথায় বেশি প্রশস্থ রেখে ও দখলকৃত জায়গা উদ্ধার না করেই খাল খনন করা হচ্ছে। খালের কোথায় কম গভীরতা ও কোথায়ও বেশি গভীরতা রাখার কথাও বলেছেন স্থানীয়রা।

গত ২৮ জানুয়ারী দাগনভুঞা উপজেলা, পৌর ও যৌথ বাহিনীর উদ্যোগে দাদনা খালের দাগনভূঞা অংশের দুই পাশে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করার পর পৌরসভার নির্ধারিত সীমানায় স্থাপনার নিচের অংশ উচ্ছেদ করলেও উপরের দিকের উচ্ছেদ থমকে গেছে।
অবৈধ স্থাপনার সীমানা ও উপরের অংশ উচ্ছেদের বিষয়ে কয়েকজন ভবন মালিকের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমরা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার থেকে এক মাস সময় নিয়েছি কিন্তু ১ মাস অতিবাহিত হলেও উচ্ছেদ তৎপরতা নিয়ে গড়ি মসি লক্ষ করা যাচ্ছে।
যারা পৌরসভার নির্দেশ অনুযায়ী নিজ উদ্যোগে স্থাপনা উচ্ছেদ করেছেন তাদের দাবি, ঠিকাদারের মাধ্যমে টাকা পয়সার লেন দেন করে অনেক ভবন মালিক অবৈধ স্থাপনা রেখে দেয়ার পরিকল্পনা করছে।

‘দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় ফেনীতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী ১৬ মার্চ খান খনন অর্মসূচি উদ্বোধন উদ্বোধন করেন। দাগনভূঞা উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের মীরেবপুল এলাকা থেকে শুরু করা হয় দাদনায় খাল পুনঃখনন কাজ। জিয়াউর রহমানের নীতি অনুসরণ করে, সরকার বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করে। যার প্রথম ধাপে ৬ মাসে ১ হাজার ২০০ রিমি খনন করার কথা রয়েছে। তারই অংশ হিসেবে ফেনীতেও খাল খনন কর্মসূচির শুরু করা হয়েছে। ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন খননের এ কাজটি বাস্তবায়ন করছেন। উদ্বোধনের অনেক দিন পর খাল খননের কাজ শুরু করা হলেও সঠিকভাবে খনন করা হচ্ছে না অভিযোগ স্থানীয়দের। এ নিয়ে তাদের মাঝে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
দাগনভূঞা দুধমুখা বাজারের এক প্রভাব শালীর দোকান ঘর রেখে দিয়ে খাল শুরু করে কাটার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় জামশেদ বলেন, একদিকে খাল চড়া একদিকে কম, দেলায়ার নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, মীরগঞ্জের সাইডে কোথাও গভীরতা কম একটু কোথাও একটু বেশি।
দুধমুখা এলাকার বয়োবৃদ্ধ এক ব্যক্তি বলেন, এ খালটাকে সংস্কার করতে যেয়ে যে জায়গাগুলো থেকে খালে পানি আসবে সেসব জায়গা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যেমন এখানে একটা পোল আছে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সামনে চকিদারের পোলও বন্ধা করে দেয়া হয়েছে।
খালের পাশে মানুষ অল্পঅল্প জমি কিনে খাল দখল করে রেখেছ। কাকে কি বলবো। এখন সরকারও কি করবে, পাবিলিকও কি করবে। বাড়ি ঘর
দোকান পাটতো করে ফেলছে। কার পোল আপনি ভাঙবেন। প্রতোতটা বাড়ির সামেন পোল আছে।
বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, খালটি পরিত্যক্ত খালে পরিণত হয়েছে। যে যেখান দিয়ে পারছে দখল করছে। বর্ষা চলে আসছে এখনও এ দিকে খনন শুরু হয়নি। বর্ষা আসলেতো আর খনন সম্ভব নয়। এবং খনন করতে যেয়ে অনেক জায়গায় অবৈধ দোকান রেখে দিয়ে খাল শুরু করে খনন করা হচ্ছে।
খাল খনন কাজের ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। খালের অর্ধেকের বেশি ভরাট করে নির্মিত ব্যক্তিগত কিছু কালভার্ট ও খাল দখল করে অবৈধ কিছু দোকান উচ্ছেদ না করেই যেনতেনভাবে খনন কাজ শেষ করে যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে ওইসকল কালভার্ট ও দোকান রক্ষায় ঠিকাদার টাকা নিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এবং খালে পানি প্রবাহে বাঁধা সৃষ্টি হয় এমন কালভার্ট ও দোকান ভেঙে ফেলার দাবী স্থানীয়দের। তারা বলেন খাল দখল করে নির্মিত কালভার্ট ও দোকানঘরের কারনে পানি প্রবাহে বাঁধা সৃষ্টি হয় যার ফলে বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। তাই দ্রুত এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবী জানান এলাকাবাসী।
এই সকল অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্ঠা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
অবৈধ দখলদারদের দখলে থাকা খালের অংশ উদ্ধার করে সরকার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করবে ও জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সুচারু ভাবে করবে এমনটিই আশা করছেন স্থানীয়রা।
এবিষয়ে দাগনভূঞা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শহিদুল ইসলাম বলেন, দোকানগুলো জেলা পরিষদ থেকে বরাদ্দ নেয়া। আমরা জেলা পরিষদকে অনুরোধ করেছি যাতে দোকানগুলোর বরাদ্দ বাতিল করা হয়। আর কালভার্টগুলো ভেঙে ফেলার আগে বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু এ মুহূর্তে বিএডিসিতে কালভার্ট করারমতো কোন বরাদ্দ নেই। বরাদ্দ আসলে কালভার্ট ভাঙা হবে।
কৃষি সেচ সুবিধা ও গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করার লক্ষেই এই খাল খনন কর্মসূচি বলে জানা গেছে। খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধনকালে দাগনভূঞার কৃতি সন্তান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, প্রতিটি খালের সীমানা নির্ধারণ করার পর দখল মুক্ত করা হবে। খালগুগোতে যদি দখল মুক্ত করা যায় তাহলে তা কৃষি অর্থনীতিসহ দেশের সামগ্রিম অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি জানান। খালগুলো কোথায় কম প্রস্থ ও কোথায় বেশি গ্রন্থের কারণ জানতে চাইলে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন ফেনী (ক্ষুদ্রসেড) জোন, ফেনীর সহকারী প্রকৌশলী মো. কামরুল হাসান বলেন, সার্ভেয়ারের মাধ্যমে খালের প্রকৃত জয়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। খালের কোথায়াও ২৫ ফুট ও কোথায় ৩০ ফুট প্রশস্ততা রয়েছে। খালের যে মাপ রয়েছে আময়া সেভাবে খনন করে যাচ্ছি। আমরা ব্যক্তিমালিকানা জায়গায় যেতে পারছি না, কারণ আমাদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার কোন সুযোগ নেই। আমরা খালটিকে ১২ থেকে ১৩ ফুট গভীর করছি, যাতে এখানে পর্যাপ্ত পানি জমা থাকে। যাতে অতিরিক্ত বন্যা ও ফ্লাসপ্ল্যাট হয় আমলে পানিগুলো যেন দ্রুত নদীতে চলে যেতে পারে। আর বিভিন্ন অভিযোগ যে আসছে আমরা শাখা খালগুলোর মুখ বন্ধ করে দিচ্ছি সেসকল অগ্নিযোগ সত্য নয়। আমরা কোন শাখা খালের মুখ বন্ধ কররো না। শাখা খালের পানি যেন এই খালে নির্বিঘ্নে আসতে পারে আমায় সে ব্যবস্থা করবো। আর কিছু দোকান জেলা পরিষদ থেকে বরাদ্দ নেয়া। আমরা জেলা পরিষদকে আবেদন করেছি যাতে দোকানগুলোর বরাদ্দ বাতিল করা হয়। আর কালভার্টগুলো ভেঙে ফেলার আগে বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু এ মুহূর্তে বিএডিসিতে কালভার্ট করারমতো কোন বরাদ্দ নেই। বরাদ্দ আসলে কালভার্ট ভাঙা হবে। আর ঠিকাদারের বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ রয়েছে সেগুলো আমার তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহিদুল ইসলাম বলেন, এটার সঠিক তথ্য বিএডিসি দিতে পারবে। কারণ এখানে কিছু ট্যাকনিকেল ব্যাপার আছে। তারাই টেন্ডার দিয়েছেন, ঠিকাদর নিয়োগ দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে এ ট্যাকনিকেল বিষেয়ে বিএডিসি ভালো উত্তর দিতে পারবে। অন্য কিছু বিষয়ে আমরা তদারকি করছি। আমরা বিএডিসির সাথে কথা বলবো। যদি কোন অভিযোগ থেকে থাকে আমরা ব্যবস্থা নেবো।














