ঢাকা ০৬:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

গোলাপগঞ্জে সুরমা ডাইকের রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন

গোলাপগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৮৬ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সিলেটের গোলাপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চৌঘরী (প্রাত্তন বাজার) এলাকায় সুরমা ডাইকের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়েছে। নদীর তীব্র স্রোত ও অব্যাহত ভাঙনের কারণে সড়কের বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে কয়েকটি গ্রাম ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়তে পারে। একই সঙ্গে হুমকির মুখে রয়েছে কৈলাশ গ্যাসকূপসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সুরমা নদীর ভাঙন চললেও সম্প্রতি পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে চৌঘরী (প্রাত্তন বাজার) সংলগ্ন সুরমা ডাইক বা ডহরের রোডের মাঝখানে বিশাল গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই ভাঙনের পরিমাণ বাড়ছে এবং রাস্তার বিভিন্ন অংশ ধসে নদীতে চলে যাচ্ছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের মাঝ বরাবর বড় বড় ফাটল ও গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কোনো কোনো অংশে রাস্তার নিচের মাটি সরে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বাঁশ ও গাছের ডাল দিয়ে অস্থায়ীভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ চিহ্নিত করলেও তা কোনো স্থায়ী সমাধান নয় বলে জানিয়েছেন। তাদের মতে, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এদিকে রাণাপিং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের পিছনের সড়কেও ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর ভাঙনে সড়কের বড় অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি, চৌঘরী বাজার, স্থানীয় মসজিদ, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা এবং অসংখ্য বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়বে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বর্ষা মৌসুম শুরু হলে নদীর পানি বৃদ্ধি পাবে এবং তখন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। দ্রুত সংস্কার ও নদীভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকা হুমকির মুখে পড়বে।
এলাকার সচেতন মহল অবিলম্বে পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, ভাঙনরোধী ব্লক স্থাপন এবং ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আসন্ন বর্ষায় ভয়াবহ দুর্যোগের সৃষ্টি হতে পারে এবং কয়েকটি গ্রামের মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে।
এ বিষয়ে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ-কে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

গোলাপগঞ্জে সুরমা ডাইকের রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন

আপডেট সময় :

সিলেটের গোলাপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চৌঘরী (প্রাত্তন বাজার) এলাকায় সুরমা ডাইকের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়েছে। নদীর তীব্র স্রোত ও অব্যাহত ভাঙনের কারণে সড়কের বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে কয়েকটি গ্রাম ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়তে পারে। একই সঙ্গে হুমকির মুখে রয়েছে কৈলাশ গ্যাসকূপসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সুরমা নদীর ভাঙন চললেও সম্প্রতি পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে চৌঘরী (প্রাত্তন বাজার) সংলগ্ন সুরমা ডাইক বা ডহরের রোডের মাঝখানে বিশাল গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই ভাঙনের পরিমাণ বাড়ছে এবং রাস্তার বিভিন্ন অংশ ধসে নদীতে চলে যাচ্ছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের মাঝ বরাবর বড় বড় ফাটল ও গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কোনো কোনো অংশে রাস্তার নিচের মাটি সরে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বাঁশ ও গাছের ডাল দিয়ে অস্থায়ীভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ চিহ্নিত করলেও তা কোনো স্থায়ী সমাধান নয় বলে জানিয়েছেন। তাদের মতে, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এদিকে রাণাপিং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের পিছনের সড়কেও ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর ভাঙনে সড়কের বড় অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি, চৌঘরী বাজার, স্থানীয় মসজিদ, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা এবং অসংখ্য বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়বে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বর্ষা মৌসুম শুরু হলে নদীর পানি বৃদ্ধি পাবে এবং তখন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। দ্রুত সংস্কার ও নদীভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকা হুমকির মুখে পড়বে।
এলাকার সচেতন মহল অবিলম্বে পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, ভাঙনরোধী ব্লক স্থাপন এবং ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আসন্ন বর্ষায় ভয়াবহ দুর্যোগের সৃষ্টি হতে পারে এবং কয়েকটি গ্রামের মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে।
এ বিষয়ে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ-কে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।