ঢাকা ০৩:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

সুবর্ণচরে পাওনা টাকার জেরে মামলার ফাঁদে সাব-ঠিকাদার

সুবর্ণচর (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৮০ বার পড়া হয়েছে

oppo_2

দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে উল্টো দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন মোহাম্মদ ছালেহ উদ্দিন নামের এক সাব-ঠিকাদার। সঠিক ও ন্যায়বিচারের দাবিতে আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি মঙ্গলবার দুপুরে সুবর্ণচর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ছালেহ উদ্দিন অভিযোগ করেন, উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্যপুকুর উত্তর কচ্ছপিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আলম রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাকে হয়রানি করছেন। ভুক্তভোগী ছালেহ উদ্দিন একই এলাকার এস.এস কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী।
তিনি বলেন, মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে পুকুর খনন ও এক লাখ ঘনফুট বালি সরবরাহের কাজে জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন তিনি। কাজের জন্য অগ্রিম ৩০ লাখ টাকা প্রদান করা হলেও জাহাঙ্গীর মাত্র ৫৪ হাজার ৯২৩ ঘনফুট বালি সরবরাহ করে প্রায় ১০ লাখ টাকার কাজ সম্পন্ন করেন। পরে চলমান কাজের টাকা নিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ছালেহ উদ্দিন আরও বলেন, তার মালিকানাধীন এস.এস কর্পোরেশনের স্বাক্ষর করা ডি-লিমিটেড বিল প্যাড জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়েছে। পরে পাওনা টাকা ফেরত চাইলে ২০২৩ সালের জুন মাসে মাইজদী শহরের একটি ভুয়া ঠিকানা ও কথিত বৈঠক দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা দায়ের করা হয়।
তিনি দাবি করেন, “চুক্তি অনুযায়ী কোনো কাজ সম্পন্ন হয়নি। বরং আমার পাওনা টাকা না দিয়ে বাঁচার জন্য জাহাঙ্গীর একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। এছাড়া টাকা পাওনার বিষয়ে কোনো শালিসনামা বা বৈধ কাগজপত্র কখনো আদালতে উপস্থাপন করতে পারেননি।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, সামাজিকভাবে টাকা দাবি করতে গেলে তার বিরুদ্ধে মানিচুট মামলা, বাড়িতে হামলার মামলা এবং শালিসনামা সংক্রান্ত আরও তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি ভুয়া ঠিকানায় উকিল নোটিশ ও রেজিস্টার্ড ডাক পাঠিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ছালেহ উদ্দিন বলেন, “চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নীতিমালা অনুযায়ী যে মানিচুট মামলা করা হয়েছে, সেটির আওতায় আমি পড়ি না। আমি একজন সাধারণ সাব-ঠিকাদার, আমার কোনো ঠিকাদারি লাইসেন্স নেই।”
তিনি আরও জানান, তার পাওনা ২২ লাখ টাকা আদায়ের জন্য জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলার বিষয়ে পিবিআই তদন্তে পাওনা টাকার সত্যতা মিলেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ছালেহ উদ্দিন অভিযোগ করেন, “স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর জাহাঙ্গীর পলাতক থাকলেও মামলার কারণে আমি সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও হয়রানির শিকার হচ্ছি।” এ সময় তিনি এ হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সুবর্ণচরে পাওনা টাকার জেরে মামলার ফাঁদে সাব-ঠিকাদার

আপডেট সময় :

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে উল্টো দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন মোহাম্মদ ছালেহ উদ্দিন নামের এক সাব-ঠিকাদার। সঠিক ও ন্যায়বিচারের দাবিতে আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি মঙ্গলবার দুপুরে সুবর্ণচর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ছালেহ উদ্দিন অভিযোগ করেন, উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্যপুকুর উত্তর কচ্ছপিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আলম রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাকে হয়রানি করছেন। ভুক্তভোগী ছালেহ উদ্দিন একই এলাকার এস.এস কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী।
তিনি বলেন, মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে পুকুর খনন ও এক লাখ ঘনফুট বালি সরবরাহের কাজে জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন তিনি। কাজের জন্য অগ্রিম ৩০ লাখ টাকা প্রদান করা হলেও জাহাঙ্গীর মাত্র ৫৪ হাজার ৯২৩ ঘনফুট বালি সরবরাহ করে প্রায় ১০ লাখ টাকার কাজ সম্পন্ন করেন। পরে চলমান কাজের টাকা নিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ছালেহ উদ্দিন আরও বলেন, তার মালিকানাধীন এস.এস কর্পোরেশনের স্বাক্ষর করা ডি-লিমিটেড বিল প্যাড জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়েছে। পরে পাওনা টাকা ফেরত চাইলে ২০২৩ সালের জুন মাসে মাইজদী শহরের একটি ভুয়া ঠিকানা ও কথিত বৈঠক দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা দায়ের করা হয়।
তিনি দাবি করেন, “চুক্তি অনুযায়ী কোনো কাজ সম্পন্ন হয়নি। বরং আমার পাওনা টাকা না দিয়ে বাঁচার জন্য জাহাঙ্গীর একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। এছাড়া টাকা পাওনার বিষয়ে কোনো শালিসনামা বা বৈধ কাগজপত্র কখনো আদালতে উপস্থাপন করতে পারেননি।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, সামাজিকভাবে টাকা দাবি করতে গেলে তার বিরুদ্ধে মানিচুট মামলা, বাড়িতে হামলার মামলা এবং শালিসনামা সংক্রান্ত আরও তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি ভুয়া ঠিকানায় উকিল নোটিশ ও রেজিস্টার্ড ডাক পাঠিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ছালেহ উদ্দিন বলেন, “চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নীতিমালা অনুযায়ী যে মানিচুট মামলা করা হয়েছে, সেটির আওতায় আমি পড়ি না। আমি একজন সাধারণ সাব-ঠিকাদার, আমার কোনো ঠিকাদারি লাইসেন্স নেই।”
তিনি আরও জানান, তার পাওনা ২২ লাখ টাকা আদায়ের জন্য জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলার বিষয়ে পিবিআই তদন্তে পাওনা টাকার সত্যতা মিলেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ছালেহ উদ্দিন অভিযোগ করেন, “স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর জাহাঙ্গীর পলাতক থাকলেও মামলার কারণে আমি সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও হয়রানির শিকার হচ্ছি।” এ সময় তিনি এ হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।