ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট পেশ আজ
- আপডেট সময় : ৩৩ বার পড়া হয়েছে
দেশের অর্থনীতিকে নতুন গতিপথে নেওয়ার লক্ষ্যে আজ জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হচ্ছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট। বিকেল ৩টায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট পেশ করবেন। প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেটকে নতুন সরকারের অর্থনৈতিক দর্শন বাস্তবায়নের প্রথম বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের এটি প্রথম বাজেট। অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিনিয়ন্ত্রণকরণ: সবার জন্য উন্নয়ন স্লোগানকে সামনে রেখে প্রণীত বাজেটে মানবসম্পদ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের ভিত্তি তৈরির রূপরেখাও উঠে আসতে পারে এবারের বাজেটে। ফলে অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণ ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে এই বাজেটের দিকে তাকিয়ে আছে দেশ।
বিগত এক দশকে বাজেটের আকার ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০১১-১২ অর্থবছরে বাজেট ছিল ১ লাখ ৬৩ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা। পরবর্তী বছরগুলোতে তা বাড়তে বাড়তে ২০২২-২৩ অর্থবছরে পৌঁছে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকায়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাজেটের আকার দাঁড়ায় ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল প্রায় ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। সে হিসেবে এবারের প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
এই বিশাল বাজেট বাস্তবায়নে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের দায়িত্ব থাকবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর)। তবে রাজস্ব আয়ের পরও সম্ভাব্য বাজেট ঘাটতি থাকবে প্রায় ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা। এ ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা করছে। বাকি অর্থ আসবে বৈদেশিক ঋণ ও উন্নয়ন সহায়তা থেকে।
প্রস্তাবিত বাজেটে বড় অবকাঠামো উন্নয়নের তুলনায় মানবসম্পদ উন্নয়নকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ২৫ লাখ নাগরিকের জন্য ই-হেলথ কার্ড চালুর ঘোষণা আসতে পারে। এছাড়া বিদেশে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
তরুণ ফ্রিল্যান্সার ও নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিতে বিশেষ প্রণোদনার পরিকল্পনা রয়েছে। বাজেটে ৩০০ কোটি টাকা যুব উন্নয়ন ও সৃজনশীল উদ্যোগে এবং ২২৫ কোটি টাকা উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলে বরাদ্দের প্রস্তাব থাকতে পারে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে। সাধারণ মানুষের চাপ কমাতে করমুক্ত আয়সীমা ধাপে ধাপে বাড়ানোর ঘোষণা আসতে পারে। জ্বালানি তেল, ভোজ্যতেলসহ কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে শুল্ক ও কর কমানোর প্রস্তাবও থাকতে পারে। তবে উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের ওপর সারচার্জ বা অতিরিক্ত কর বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে দেশের মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯.৪২ শতাংশ। সরকার আগামী অর্থবছরে তা ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এত বড় বাজেট বাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই কঠোর বাজার মনিটরিং, কার্যকর মুদ্রানীতি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করতে আগামী বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা ধাপে ধাপে বাড়ানোর ঘোষণা দিতে পারেন অর্থমন্ত্রী। এছাড়া জ্বালানি তেল ও ভোজ্যতেলের উৎসে কর কমানোসহ বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে শুল্ক-কর কমানোর প্রস্তাব আসতে পারে। তবে, ধনীক শ্রেণির ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা বা সারচার্জ বাড়তে পারে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনৈতিক বিভাগ জানিয়েছে, নতুন সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই কল্যাণমুখী বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে। সরকারের আশা, এই বাজেট দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করে নতুন প্রবৃদ্ধির গতি তৈরি করবে।


















