ফুলবাড়িতে ধরলার স্রোতে কালভার্ট ধস, দুর্ভোগে ৫ শতাধিক পরিবার
- আপডেট সময় : ১৫ বার পড়া হয়েছে
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের চর গোরকমন্ডল এলাকায় ধরলা নদীর তীব্র স্রোতে একটি কালভার্ট ধসে গেছে। এতে জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক প্রায় ৫০ ফুট ভেঙে বিশাল নালায় পরিণত হওয়ায় পাঁচ শতাধিক পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গত ২৯ জুন সোমবার গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটলেও, পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
জানা গেছে, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে ধরলা নদীর পানি বেড়ে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়। নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়লে প্রবল স্রোতে চর গোরকমন্ডল এলাকার কালভার্টটি ধসে যায়। সেই সঙ্গে কালভার্টের দুই পাশের প্রায় ৫০ ফুট রাস্তাও ভেঙে গিয়ে বিশাল নালায় পরিণত হয়। ফুলবাড়ী উপজেলার আনন্দবাজার থেকে চর গোরকমন্ডল এলাকায় যাতায়াতের এটিই অন্যতম প্রধান সড়ক। সড়ক ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করছেন, এতে সময় ও যাতায়াত ব্যয় দুটোই বেড়েছে।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মাইদুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী চর গোরকমন্ডল এলাকায় ধরলা নদীর তীরে একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিভাগ কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলের তীব্র স্রোতে কালভার্ট ও সড়কটি ভেঙে যায়। এখন কোমরসমান পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।”
ওই এলাকার শাহিনা বেগম জানান, পাঁচ দিন ধরে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এলাকায় তিনটি আবাসনসহ পাঁচ শতাধিক পরিবারের বসবাস। তাই দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ অথবা অন্তত বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা প্রয়োজন। স্থানীয় স্কুলশিক্ষার্থী নাঈম সরকার বলেন, “এটিই চর গোরকমন্ডল থেকে ফুলবাড়ী উপজেলা সদরে যাতায়াতের প্রধান সড়ক। পাঁচ দিন আগে রাস্তাটি ভেঙে গেলেও আজও বিকল্প পথের ব্যবস্থা করা হয়নি। ছাত্রছাত্রী ও এলাকাবাসী ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা অংশ দিয়ে পানিতে ভিজে পারাপার করছে।”
নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাছেন আলী বলেন, কালভার্ট ধসের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা এবং স্থায়ীভাবে একটি সেতুসহ সড়ক পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো সিরাজুদ্দৌলা জানান, ধরলার স্রোতে চর গোরকমন্ডল এলাকায় একটি কালভার্ট ধসে পড়ে প্রায় ৫০ ফুট সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। চলমান বন্যায় সেখানে তাৎক্ষণিক কিছু করার নেই। উপর মহলে জানানো হয়েছে, বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই বড় পরিসরে একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলারা আকতার বলেন, “ওই এলাকায় একটি ছোট কালভার্ট ছিল, যা কয়েকদিন আগে পানির স্রোতে ভেঙে গেছে বলে জানতে পেরেছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আপাতত এলাকাবাসীর যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”















