প্রবল স্রোতে সাগরদাঁড়িতে সাঁকো ধস, দুর্ভোগ
নৌকাই ভরসা ২০ গ্রামের মানুষের, সেতুর দাবি
- আপডেট সময় : ২২ বার পড়া হয়েছে
যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি এলাকায় কপোতাক্ষ নদের ওপর নির্মিত সাগরদাঁড়ি-শার্শা সংযোগকারী কাঠ ও বাঁশের সাঁকোটি গতকাল শনিবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে প্রবল স্রোতের তোড়ে ধসে পড়েছে। টানা ভারী বৃষ্টির কারণে নদীতে সৃষ্ট তীব্র স্রোতের চাপ সহ্য করতে না পেরে প্রায় ১৮০ ফুট দীর্ঘ সাঁকোটি ভেঙে যায়। এই আকস্মিক ধসে নদের দুই পাড়ের প্রায় ২০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষের দৈনন্দিন যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রমতে, এই সাঁকোটি সাতক্ষীরা জেলার শার্শা উপজেলার শার্শা, সানতলা, কৃষ্ণনগর, পাঁচপাড়া, সেনেরগাতী, সরুলিয়া, ধানদিয়া ও কুঠিরঘাটাসহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষ এবং যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি, কোমরপোল, চিংড়া, বগা, নেহালপুর, মহাদেবপুর, রেজাকাটিসহ প্রায় ২০টি গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, বাজারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে একমাত্র সহজ যোগাযোগের মাধ্যম ছিল।
সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ার পর নদের দুই পাড়ের মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার করতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে। সাগরদাঁড়ি মাইকেল মধুসূদন ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দাস এবং সাগরদাঁড়ি আবু শারাফ সাদেক কারিগরি ও বাণিজ্য মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শ্যামল কুমার ঘোষ জানান, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় নদের ওপারের শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পার হয়ে প্রতিদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসতে হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আরও জানান, নদের ওপারের অধিকাংশ মানুষ কেনাকাটা, ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংকিং ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজের জন্য সাগরদাঁড়ি বাজারের ওপর নির্ভরশীল। সাঁকোটি ধসে পড়ায় বাজারকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, ২০১১ সালে সাগরদাঁড়ি বাজার কমিটির উদ্যোগে দুই পাড়ের মানুষের আর্থিক সহযোগিতা ও বাঁশ সংগ্রহের মাধ্যমে প্রায় ১৮০ ফুট দীর্ঘ একটি সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে এটিই যোগাযোগের একমাত্র ভরসা হয়ে আছে। তবে প্রতি বছর বর্ষা ও নদীর প্রবল স্রোতে সাঁকো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হাজারো মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হয়।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি, কপোতাক্ষ নদের ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হোক। বারবার অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণের পরিবর্তে দ্রুত একটি টেকসই সেতু নির্মাণ করা হলে যশোরের কেশবপুর ও সাতক্ষীরার শার্শাসহ দুই জেলার মানুষের যাতায়াত, শিক্ষা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে। এলাকাবাসী অবিলম্বে কপোতাক্ষ নদের ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


















