টানা বৃষ্টিতে পাটকেলঘাটায় প্লাবিত হাজারো বিঘা মৎস্যঘের
- আপডেট সময় : ১৯ বার পড়া হয়েছে
টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা এলাকার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে পাঁচটি ইউনিয়নের অন্তত ৩৫টি বিলের হাজার হাজার বিঘা মৎস্যঘের তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমন ধানের জমি ও সবজিখেত। প্রবল পানির চাপে ভেঙে পড়েছে শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি। মহাসড়কের একটি অংশেও পানি উঠে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের শাঁকদহ ব্রিজের পশ্চিম পাশে সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানির চাপ আরও বাড়লে যে কোনো সময় এ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পাটকেলঘাটা এলাকার শত শত কাঁচা ও পাকা সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। নিচু এলাকায় বসবাসকারী অনেক পরিবারের বাড়িতে দুই থেকে তিন ফুট পানি উঠেছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অনেকে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সাইক্লোন শেল্টারে অবস্থান নিয়েছেন।
পাটকেলঘাটা থানার ধানদিয়া, নগরঘাটা, সরুলিয়া, কুমিরা ও খলিষখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন বিলে ব্যাপক হারে মাছের চাষ হয়। এর মধ্যে নগরঘাটা বিল, আসাননগর, কাপাসডাঙ্গা, মিঠাবাড়ী, শাঁকদহ, যুগীপুকুরিয়া, তৈলকুপী, চোমরখালী ও দলুয়াগাছা বিল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শাঁকদহ এলাকার মৎস্যচাষি মুনছুর আলী ও সিরাজুল সরদার জানান, ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তারা মাছ চাষ করেছিলেন। পাশাপাশি মাছের খাদ্যের দোকানেও তাদের বকেয়া রয়েছে। কিন্তু ঘের তলিয়ে যাওয়ায় বাগদা, গলদা ও বিভিন্ন প্রজাতির সাদা মাছ ভেসে গেছে। ফলে ঋণ পরিশোধ ও সংসার চালানো নিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ বছর রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়াও ছিল। গত শনিবার থেকে টানা তিন দিন অনেক গ্রামে বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। তবে প্লাবিত এলাকায় মাছ ধরার দৃশ্যও দেখা গেছে। অনেককে সড়কের ওপর জাল ফেলে মাছ ধরতে দেখা যায়। এতে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে যান চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে। ইজিবাইক ও মোটরভ্যান চললেও যাত্রী ছিল খুবই কম।
















