ঢাকা ০১:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬

কটিয়াদীতে ভুল চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপত্র পরিবর্তন, প্রতারণার অভিযোগ

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ২৫৯ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশানে ওষুধ ব্যবসায়ীর জালিয়াতির কারণে চুন্নু মিয়া(৪৮) নামে এক হৃদরোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় রোগী ওষুধ ব্যবসায়ী গোপাল চন্দ্র সূত্রধরের নামে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বরাবরে গত ৪ জানুয়ারী ২০২৬ তারিখ একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জানা যায়, উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের গনেরগাঁও গ্রামের দরিদ্র চুন্নু মিয়া বুকে চাপ অনুভব করলে গত বছর ২ নভেম্বর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে টিকেট কেটে ডাক্তার দেখান। ডাক্তার শারিয়ার নাজিম পরীক্ষা নিরীক্ষা করে হৃদরোগ সনাক্ত করে ওষুধ লিখে দেন। রোগী চুন্নু মিয়া ডাক্তারের প্রেসক্রিপশান নিয়ে কটিয়াদী পুরাতন বাজার গুরুদেব ফার্মেসীতে ওষুধ কিনতে যান। ওষুধ ব্যবসায়ী গোপাল চন্দ্র সূত্রধরকে প্রেসক্রিপশান দেখিয়ে ওষুধ দিতে বলেন। প্রেসক্রিপশান দেখে ওষুধ না দিয়ে ডাক্তারের লেখা ওষুধ কলম দিয়ে কেটে সেই প্রেসক্রিপশানের উল্টা পৃষ্ঠায় তার দোকানে যে সব ওষুধ আছে মনমত লিখে রোগী চুন্নু মিয়াকে সেগুলো নিয়মমত খেতে বলেন। চুন্নু মিয়া প্রায় একমাস সেই ওষুধ সেবন করেন। তাতে শরীরে নানা রকম পার্শ্বপতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিষয়টি গত ৪ জানুয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তারকে অবহিত করেন। ডাক্তার চুন্নুমিয়াকে প্রেসক্রিপশান অনুযায়ী ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেন।
চুন্নু মিয়া বলেন, আমি লেখাপড়া জানি না। ব্যবস্থাপত্র গুরুদেব ফার্মেসীতে নিয়ে গেলে দোকান মালিক ডাক্তারের লেখা কেটে নিজে ওষুধ লেখেন। সেগুলো খেতে বলেন। আমি তার দোকান থেকে প্রায় দুই হাজার টাকার ওষুধ নেই। আমি প্রতারক গোপাল চন্দ্র সূত্রধরের বিচার চাই।
এ ব্যাপারে গোলাপ চন্দ্র সূত্রধরের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি বিকম পাশ। ৪০ বছর যাবত ওষুধের ব্যবসা করি। ওষুধ সেবন করে রোগী অনেকটা সুস্থ্য হয়েছে। এখন অন্যকারো প্ররোচনায় আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশান কেটে আপনি ওষুধ লেখতে পারেন কি না? জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমার অন্যায় হয়েছে।
কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সৈয়দ মোঃ শাহরিয়ার বলেন, এ ঘটনায় আবাসিক মেডিকেল অফিসারকে সভাপতি করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কটিয়াদীতে ভুল চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপত্র পরিবর্তন, প্রতারণার অভিযোগ

আপডেট সময় :

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশানে ওষুধ ব্যবসায়ীর জালিয়াতির কারণে চুন্নু মিয়া(৪৮) নামে এক হৃদরোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় রোগী ওষুধ ব্যবসায়ী গোপাল চন্দ্র সূত্রধরের নামে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বরাবরে গত ৪ জানুয়ারী ২০২৬ তারিখ একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জানা যায়, উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের গনেরগাঁও গ্রামের দরিদ্র চুন্নু মিয়া বুকে চাপ অনুভব করলে গত বছর ২ নভেম্বর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে টিকেট কেটে ডাক্তার দেখান। ডাক্তার শারিয়ার নাজিম পরীক্ষা নিরীক্ষা করে হৃদরোগ সনাক্ত করে ওষুধ লিখে দেন। রোগী চুন্নু মিয়া ডাক্তারের প্রেসক্রিপশান নিয়ে কটিয়াদী পুরাতন বাজার গুরুদেব ফার্মেসীতে ওষুধ কিনতে যান। ওষুধ ব্যবসায়ী গোপাল চন্দ্র সূত্রধরকে প্রেসক্রিপশান দেখিয়ে ওষুধ দিতে বলেন। প্রেসক্রিপশান দেখে ওষুধ না দিয়ে ডাক্তারের লেখা ওষুধ কলম দিয়ে কেটে সেই প্রেসক্রিপশানের উল্টা পৃষ্ঠায় তার দোকানে যে সব ওষুধ আছে মনমত লিখে রোগী চুন্নু মিয়াকে সেগুলো নিয়মমত খেতে বলেন। চুন্নু মিয়া প্রায় একমাস সেই ওষুধ সেবন করেন। তাতে শরীরে নানা রকম পার্শ্বপতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিষয়টি গত ৪ জানুয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তারকে অবহিত করেন। ডাক্তার চুন্নুমিয়াকে প্রেসক্রিপশান অনুযায়ী ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেন।
চুন্নু মিয়া বলেন, আমি লেখাপড়া জানি না। ব্যবস্থাপত্র গুরুদেব ফার্মেসীতে নিয়ে গেলে দোকান মালিক ডাক্তারের লেখা কেটে নিজে ওষুধ লেখেন। সেগুলো খেতে বলেন। আমি তার দোকান থেকে প্রায় দুই হাজার টাকার ওষুধ নেই। আমি প্রতারক গোপাল চন্দ্র সূত্রধরের বিচার চাই।
এ ব্যাপারে গোলাপ চন্দ্র সূত্রধরের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি বিকম পাশ। ৪০ বছর যাবত ওষুধের ব্যবসা করি। ওষুধ সেবন করে রোগী অনেকটা সুস্থ্য হয়েছে। এখন অন্যকারো প্ররোচনায় আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশান কেটে আপনি ওষুধ লেখতে পারেন কি না? জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমার অন্যায় হয়েছে।
কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সৈয়দ মোঃ শাহরিয়ার বলেন, এ ঘটনায় আবাসিক মেডিকেল অফিসারকে সভাপতি করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।