ঢাকা ১১:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

‘কিশোরীকে ধর্ষণকারী ও সালিশীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না’

নরসিংদী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ২২৮ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেছেন, কিশোরীকে ধর্ষণকারী এবং সালিশীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সকলকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি গত শুক্রবার ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী এলাকার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের কোতালিরচর গ্রামের কতিপয় নরপশু কর্তৃক কিশোরীকে ধর্ষণ করে হত্যার ঘটনা পরিদর্শন করতে গিয়ে একথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ধর্ষণকারীদের মধ্যে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে রিমান্ডে নেওয়া হবে এবং পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহত কিশোরীর লাশ নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পোষ্টমটেম করা হচ্ছে। রিপোর্ট পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক আরো বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং নিহত কিশোরীর পিতা-মাতার সাথে কথা বলেছি। তারা ঘটনা থানাকে অবহিত করেনি। যার ফলে এ ঘটনা ঘটেছে। থানাকে অবহিত করলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতো না। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি বলেন, এ ঘটনায় ৯ জনকে আসামী করে নরসিংদী সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ধর্ষকদের মধ্যে এবাদুল্লাহ ও গাফফার নামে দুইজনকে এবং সালিশীদের মধ্যে মহিষাশুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতি ও সাবেক মেম্বার আহম্মদ আলী দেওয়ান, তার ছেলে ইমরান দেওয়ান, ধর্ষক নূরার চাচাত ভাই মোহাম্মদ আইয়ুবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকীদেরকে অতিদ্রæত গ্রেপ্তার করা হবে। তিনি জানান আমাদের একটি টিম নরসিংদীর বাইরে কাজ করছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের অচিরেই গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশী তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে ডিআইজি বলেন, আমি এক সময় ডিবিতে কাজ করতাম বর্তমানে ঢাকা রেঞ্জে ডিআইজি হিসেবে নিয়োজিত আছি। আপনারা সবাই আমার পরিচিত। আপনারা আমাকে সহযোগিতা করবেন। কোন ধর্ষণকারী বা সালিশী যেই হউক না কেন কেউ ছাড় পাবে না। সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। এ সময় ডিআইজির সাথে ছিলেন নরসিংদী পুলিশ সুপার মো: আব্দুল্লাহ-আল-ফারুক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: কলিমুল্লাহ ও নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এআরএম আল-মামুন।
উল্লেখ্য যে, গত ১৫ দিন আগে নূরার নেতৃত্বে ৬ জন বখাটে কিশোরী আমেনাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। এই ঘটনায় স্থানীয় সাবেক মেম্বার আহম্মদ আলী দেওয়ান বিচার করার দায়িত্ব নেন। তবে অভিযোগ উঠেছে তিনি অপরাধীদের সাথে রফাদফা করে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং কোনো বিচার না করেই ঘটনাটি ধামাচাপা দেন। পাশাপাশি ধর্ষিতার পরিবারকে গ্রাম ছাড়তে চাপ প্রয়োগ করা হয়। ঘটনার বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ১৫ দিন পর বখাটে চক্রটি কিশোরী আমেনাকে তার বাবার সামনে থেকেই ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে তাকে পুনরায় গণধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করে মহিষাশুড়া ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দীর একটি সরিষা খেতে ফেলে রাখে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

‘কিশোরীকে ধর্ষণকারী ও সালিশীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না’

আপডেট সময় :

ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেছেন, কিশোরীকে ধর্ষণকারী এবং সালিশীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সকলকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি গত শুক্রবার ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী এলাকার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের কোতালিরচর গ্রামের কতিপয় নরপশু কর্তৃক কিশোরীকে ধর্ষণ করে হত্যার ঘটনা পরিদর্শন করতে গিয়ে একথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ধর্ষণকারীদের মধ্যে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে রিমান্ডে নেওয়া হবে এবং পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহত কিশোরীর লাশ নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পোষ্টমটেম করা হচ্ছে। রিপোর্ট পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক আরো বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং নিহত কিশোরীর পিতা-মাতার সাথে কথা বলেছি। তারা ঘটনা থানাকে অবহিত করেনি। যার ফলে এ ঘটনা ঘটেছে। থানাকে অবহিত করলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতো না। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি বলেন, এ ঘটনায় ৯ জনকে আসামী করে নরসিংদী সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ধর্ষকদের মধ্যে এবাদুল্লাহ ও গাফফার নামে দুইজনকে এবং সালিশীদের মধ্যে মহিষাশুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতি ও সাবেক মেম্বার আহম্মদ আলী দেওয়ান, তার ছেলে ইমরান দেওয়ান, ধর্ষক নূরার চাচাত ভাই মোহাম্মদ আইয়ুবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকীদেরকে অতিদ্রæত গ্রেপ্তার করা হবে। তিনি জানান আমাদের একটি টিম নরসিংদীর বাইরে কাজ করছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের অচিরেই গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশী তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে ডিআইজি বলেন, আমি এক সময় ডিবিতে কাজ করতাম বর্তমানে ঢাকা রেঞ্জে ডিআইজি হিসেবে নিয়োজিত আছি। আপনারা সবাই আমার পরিচিত। আপনারা আমাকে সহযোগিতা করবেন। কোন ধর্ষণকারী বা সালিশী যেই হউক না কেন কেউ ছাড় পাবে না। সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। এ সময় ডিআইজির সাথে ছিলেন নরসিংদী পুলিশ সুপার মো: আব্দুল্লাহ-আল-ফারুক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: কলিমুল্লাহ ও নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এআরএম আল-মামুন।
উল্লেখ্য যে, গত ১৫ দিন আগে নূরার নেতৃত্বে ৬ জন বখাটে কিশোরী আমেনাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। এই ঘটনায় স্থানীয় সাবেক মেম্বার আহম্মদ আলী দেওয়ান বিচার করার দায়িত্ব নেন। তবে অভিযোগ উঠেছে তিনি অপরাধীদের সাথে রফাদফা করে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং কোনো বিচার না করেই ঘটনাটি ধামাচাপা দেন। পাশাপাশি ধর্ষিতার পরিবারকে গ্রাম ছাড়তে চাপ প্রয়োগ করা হয়। ঘটনার বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ১৫ দিন পর বখাটে চক্রটি কিশোরী আমেনাকে তার বাবার সামনে থেকেই ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে তাকে পুনরায় গণধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করে মহিষাশুড়া ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দীর একটি সরিষা খেতে ফেলে রাখে।