গোপালগঞ্জে বেপরোয়া গতি কেড়ে নিল তিনটি তাজা প্রাণ
- আপডেট সময় : ২১ বার পড়া হয়েছে
গোপালগঞ্জে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতের দাবিতে নতুন করে উদ্বেগ।
আরেকটি রক্তাক্ত রাত। আরেকটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। মুহূর্তের মধ্যেই নিভে গেল তিনটি সম্ভাবনাময় জীবনের প্রদীপ। গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কে দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন তিন যুবক। গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিবাগত রাতে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চামটা বেদেপল্লী এলাকার সামনে ঘটে যাওয়া এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে নিহতদের পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মাঝে। একই সঙ্গে আবারও সামনে এসেছে সড়কে বেপরোয়া গতি, অসচেতন চালনা এবং নিরাপত্তাহীনতার নির্মম চিত্র।
গোপালগঞ্জ সদর থানাধীন বৌলতলী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন—মুকসুদপুর উপজেলার সিন্দিয়াঘাট এলাকার অসিত কুন্ডুর ছেলে অচিন্ত্য কুন্ডু (২৫), মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার পূর্ব নাগরদী গ্রামের মনিন্দ্রনাথ বাড়ৈর ছেলে উজ্জ্বল বাড়ৈ (৩৫) এবং একই উপজেলার গোয়ালকান্দি গ্রামের শাহীন বেপারীর ছেলে ফয়সাল বেপারী (২০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অচিন্ত্য কুন্ডু ও উজ্জ্বল বাড়ৈ একটি মোটরসাইকেলে গোপালগঞ্জ শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। একই সময় বিপরীত দিক থেকে টেকেরহাটের দিকে যাচ্ছিলেন ফয়সাল বেপারী। চামটা বেদেপল্লী এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাত কারণে দুটি মোটরসাইকেলের মধ্যে প্রচণ্ড মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের বিকট শব্দে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে দেখেন, সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে আছেন তিন আরোহী এবং দুমড়ে-মুচড়ে গেছে মোটরসাইকেল দুটি।
দুর্ঘটনার তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান অচিন্ত্য কুন্ডু। গুরুতর আহত অবস্থায় উজ্জ্বল বাড়ৈ ও ফয়সাল বেপারীকে উদ্ধার করে প্রথমে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ফয়সাল বেপারীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। কিন্তু মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ে হেরে ঢাকায় নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। অপরদিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন উজ্জ্বল বাড়ৈ।
খবর পেয়ে বৌলতলী তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল দুটি জব্দ করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিনটি মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৌলতলী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. আমিনুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে এটি মুখোমুখি সংঘর্ষজনিত দুর্ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে মোটরসাইকেলের অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন অমান্যের প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ফলে প্রায়ই ঘটছে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। তারা সড়কে নিয়মিত পুলিশি নজরদারি, গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিটি সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে লুকিয়ে থাকে একটি পরিবারের অসীম কান্না, স্বপ্নভঙ্গ আর আজীবনের শূন্যতা। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের অসতর্কতা কিংবা বেপরোয়া গতি কেড়ে নিতে পারে বহু বছরের লালিত স্বপ্ন। তাই নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে চালকদের দায়িত্বশীল আচরণ, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারির কোনো বিকল্প নেই। কারণ, একটি দুর্ঘটনা শুধু একজন মানুষকে নয়—ধ্বংস করে দেয় একটি পরিবার, ভেঙে দেয় অসংখ্য স্বপ্ন।

















