ঢাকা ১০:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

চুরির অপবাদ সইতে না পেরে যুবকের আত্মহত্যা

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৬৪ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বগুড়ার শেরপুরে মোবাইল চুরির অপবাদ সহ্য করতে না পেরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আমিনুল ইসলাম (৩০) নামের এক যুবক। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা আমেনা খাতুন বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এক নারীকে গ্রেফতার করেছে।
নিহত আমিনুল ইসলাম উপজেলার শাহ-বন্দেগী ইউনিয়নের রহমতপুর গ্রামের তাজমহলের ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ এপ্রিল রহমতপুর গ্রামের আব্দুল মোমিনের স্ত্রী রিক্তা খাতুনের একটি মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়। পরে তিনি আমিনুল ইসলামকে সন্দেহ করেন। অভিযোগ রয়েছে, রিক্তা খাতুন এলাকার কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে আমিনুলের বাড়িতে গিয়ে মোবাইল ফোন ফেরত দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। এ সময় তিনি দাবি করেন, আমিনুল তাদের বাড়ি থেকে যাওয়ার পর থেকেই মোবাইল ফোনটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।
স্থানীয় লোকজনের চাপের মুখে আমিনুল বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। পরে সেদিন বিকেলে স্ত্রীকে দোকানে পাঠিয়ে নিজ ঘরের তীরের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি।
এ সময় তার স্ত্রী ঘরে ফিরে বিষয়টি দেখতে পেয়ে চিৎকার দিলে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রোববার বিকেল ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর নিহতের মা আমেনা খাতুন বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর গত সোমবার দিবাগত রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার ১ নম্বর আসামি রিক্তা খাতুনকে গ্রেফতার করে।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন জানান, মোবাইল চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে অপমান ও মানসিক চাপে আমিনুল আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর একজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

চুরির অপবাদ সইতে না পেরে যুবকের আত্মহত্যা

আপডেট সময় :

বগুড়ার শেরপুরে মোবাইল চুরির অপবাদ সহ্য করতে না পেরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আমিনুল ইসলাম (৩০) নামের এক যুবক। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা আমেনা খাতুন বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এক নারীকে গ্রেফতার করেছে।
নিহত আমিনুল ইসলাম উপজেলার শাহ-বন্দেগী ইউনিয়নের রহমতপুর গ্রামের তাজমহলের ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ এপ্রিল রহমতপুর গ্রামের আব্দুল মোমিনের স্ত্রী রিক্তা খাতুনের একটি মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়। পরে তিনি আমিনুল ইসলামকে সন্দেহ করেন। অভিযোগ রয়েছে, রিক্তা খাতুন এলাকার কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে আমিনুলের বাড়িতে গিয়ে মোবাইল ফোন ফেরত দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। এ সময় তিনি দাবি করেন, আমিনুল তাদের বাড়ি থেকে যাওয়ার পর থেকেই মোবাইল ফোনটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।
স্থানীয় লোকজনের চাপের মুখে আমিনুল বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। পরে সেদিন বিকেলে স্ত্রীকে দোকানে পাঠিয়ে নিজ ঘরের তীরের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি।
এ সময় তার স্ত্রী ঘরে ফিরে বিষয়টি দেখতে পেয়ে চিৎকার দিলে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রোববার বিকেল ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর নিহতের মা আমেনা খাতুন বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর গত সোমবার দিবাগত রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার ১ নম্বর আসামি রিক্তা খাতুনকে গ্রেফতার করে।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন জানান, মোবাইল চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে অপমান ও মানসিক চাপে আমিনুল আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর একজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।