টেকনাফে ইউপি মেম্বারের শিশুকে অপহরণচেষ্টা, বাবাকে মারধর
- আপডেট সময় : ১৯ বার পড়া হয়েছে
অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন, এলাকায় তীব্র ক্ষোভ কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য বেলাল উদ্দিনের ছোট মেয়েকে অপহরণের চেষ্টা এবং তা প্রতিহত করতে গিয়ে তার ওপর হামলার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৬ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে বেলাল উদ্দিনের তৃতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত মেয়েকে লক্ষ্য করে একদল দুর্বৃত্ত অপহরণের চেষ্টা চালায়। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তিনি বাধা দিলে হামলাকারীরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয় এবং হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করা হয়।ভুক্তভোগী বেলাল উদ্দিন বলেন, “আমার মেয়েকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। আমি বাধা দিলে তারা আমাকে মারধর করে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই এবং আইনগত ব্যবস্থা নেব।” ঘটনার পরপরই হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজার এলাকাসহ আশপাশের জনসাধারণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) বিকাল ৪টায় মৌলভীবাজার স্টেশন এলাকায় স্থানীয় জনসাধারণ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়ে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।এদিকে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আলী আকবর পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমান উল্লাহ বলেন, “এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।”গাউসিয়া কমপ্লেক্স মৌলভীবাজারের পরিচালক ইমাম হোসাইন বলেন, “শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া জরুরি।”
মাওলানা নুরুল আলম ফারুকী বলেন, “এ ধরনের অপরাধ মানবিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী। সমাজ থেকে এদের নির্মূল করতে হবে।”
মৌলভীবাজার দক্ষিণ পাড়া পরিবারের পক্ষ থেকে কামাল উদ্দিন বলেন, “আমরা এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং দ্রুত বিচার দাবি করছি।”
জমিরিয়া আলিম মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা শামসুল হক বলেন, “আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না হলে এ ধরনের ঘটনা বাড়তে থাকবে। তাই দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।”এলাকাবাসীর অভিযোগ, এ ধরনের ঘটনা জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি এবং এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা—দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।














