ঢাকা ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

দেশনেএী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ী বহরে হামলাকারী এজহার ভুক্ত আসামী এখন পৌর যুবদল ওয়ার্ড সাধারণ সন্পাদক

ফেনী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৬২ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফেনীতে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলার এজহার ভুক্ত এক আসামিকে ফেনী পৌর যুবদল কতৃক ৪নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক করা নিয়ে দলীয় অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে নবগঠিত কমিটির ৮ সদস্যের অধিকাংশ সদস্য পদত্যাগ করেছেন।
গতকাল শনিবার পৌর যুবদল ঘোষিত ৮ সদস্যের আংশিক কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া বাকি ৬ জন নেতা একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে দলীয় ওয়ার্ড সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র মতে জানাগেছে , গত ৩০ এপ্রিল ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারীর স্বাক্ষরে ফেনী পৌর যুবদল কতৃক ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে গাজী এনামুল হক সুজনকে সাধারণ সম্পাদক করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
সুএ মতে আরও জানা গেছে, ২০১৭ সালে ফেনীর মহিপাল এলাকায় খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিদের তালিকায় এই কমিটির নাম গাজী এনামুল হক সুজনের নাম রয়েছে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর যমুনা হাই ডিলাক্স পরিবহনের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিলনের দায়ের করা মামলায় তিনি ২৫ নম্বর আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন বলেও মামলার এজহার সুএে জানা যায় । নেত্রীর ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির নেতৃত্বে কাজ করা সম্ভব নয় এই যুক্তিতে কমিটির ছয় সদস্য পদত্যাগ করেন। তারা এটাও দাবী করেন যে, পৌর যুবদল সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবুল ও সাধারণ সন্পাদক একজন হামলা মামলার এজহার ভুক্ত আসামীকে দলীয় কোন ক্ষমতা বলে ৫ই আগষ্ট পরবর্তী দলে অনুপ্রবেশ কারীকে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ জনিত কোন কাজে অংশ গ্রহন করে নাই বা জড়িত নহে এহেন প্রত্যায়ণ পএ প্রদান করে তাহা আৃমাদের বোধগম্য নহে। এটা অনৈতিক কর্মকান্ডের ইঙ্গিত বহন করে বলেও অভিযোগ করেন । এছাড়া তারা সুদীর্ঘ কাল পারিবারিকভাবেই অন্য দলীয় সমর্থক বলেও এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে ।
স্হানীয় দলীয় নেতাদের এই অভিযোগ অস্বীকার করে গাজী এনামুল হক সুজন দাবি করেছেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতেই পরিকল্পিতভাবে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু বলেন, সুজন দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত কর্মী এবং তাকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি দলের উচ্চপর্যায়ের নেতারা জানেন।
অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারী জানান, মনোনয়নের সময় সুজনের মামলার বিষয়টি তাদের আদৌ জানা ছিল না। বিষয়টি সামনে আসার পর উক্ত ওয়ার্ড কমিটির অন্যান্ন সদস্যরা পদত্যাগ করেছেন। তিনি বলেন, বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে পরবর্তী সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, তৎকালীন পুলিশ সুপারসহ ১৭৮ জনকে আসামি করে দায়ের করা মামলাটি ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর ফেনী সদর আমলি আদালত গ্রহণ করে। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তাধীন মামলার এক আসামিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোয় স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

দেশনেএী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ী বহরে হামলাকারী এজহার ভুক্ত আসামী এখন পৌর যুবদল ওয়ার্ড সাধারণ সন্পাদক

আপডেট সময় :

ফেনীতে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলার এজহার ভুক্ত এক আসামিকে ফেনী পৌর যুবদল কতৃক ৪নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক করা নিয়ে দলীয় অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে নবগঠিত কমিটির ৮ সদস্যের অধিকাংশ সদস্য পদত্যাগ করেছেন।
গতকাল শনিবার পৌর যুবদল ঘোষিত ৮ সদস্যের আংশিক কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া বাকি ৬ জন নেতা একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে দলীয় ওয়ার্ড সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র মতে জানাগেছে , গত ৩০ এপ্রিল ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারীর স্বাক্ষরে ফেনী পৌর যুবদল কতৃক ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে গাজী এনামুল হক সুজনকে সাধারণ সম্পাদক করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
সুএ মতে আরও জানা গেছে, ২০১৭ সালে ফেনীর মহিপাল এলাকায় খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিদের তালিকায় এই কমিটির নাম গাজী এনামুল হক সুজনের নাম রয়েছে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর যমুনা হাই ডিলাক্স পরিবহনের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিলনের দায়ের করা মামলায় তিনি ২৫ নম্বর আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন বলেও মামলার এজহার সুএে জানা যায় । নেত্রীর ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির নেতৃত্বে কাজ করা সম্ভব নয় এই যুক্তিতে কমিটির ছয় সদস্য পদত্যাগ করেন। তারা এটাও দাবী করেন যে, পৌর যুবদল সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবুল ও সাধারণ সন্পাদক একজন হামলা মামলার এজহার ভুক্ত আসামীকে দলীয় কোন ক্ষমতা বলে ৫ই আগষ্ট পরবর্তী দলে অনুপ্রবেশ কারীকে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ জনিত কোন কাজে অংশ গ্রহন করে নাই বা জড়িত নহে এহেন প্রত্যায়ণ পএ প্রদান করে তাহা আৃমাদের বোধগম্য নহে। এটা অনৈতিক কর্মকান্ডের ইঙ্গিত বহন করে বলেও অভিযোগ করেন । এছাড়া তারা সুদীর্ঘ কাল পারিবারিকভাবেই অন্য দলীয় সমর্থক বলেও এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে ।
স্হানীয় দলীয় নেতাদের এই অভিযোগ অস্বীকার করে গাজী এনামুল হক সুজন দাবি করেছেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতেই পরিকল্পিতভাবে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু বলেন, সুজন দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত কর্মী এবং তাকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি দলের উচ্চপর্যায়ের নেতারা জানেন।
অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারী জানান, মনোনয়নের সময় সুজনের মামলার বিষয়টি তাদের আদৌ জানা ছিল না। বিষয়টি সামনে আসার পর উক্ত ওয়ার্ড কমিটির অন্যান্ন সদস্যরা পদত্যাগ করেছেন। তিনি বলেন, বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে পরবর্তী সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, তৎকালীন পুলিশ সুপারসহ ১৭৮ জনকে আসামি করে দায়ের করা মামলাটি ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর ফেনী সদর আমলি আদালত গ্রহণ করে। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তাধীন মামলার এক আসামিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোয় স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।