কাঁঠালিয়ায় তাঁরাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দূর্নীতি অভিযোগ
- আপডেট সময় : ৪৫ বার পড়া হয়েছে
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার তাঁরাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। ওই প্রধান শিক্ষকের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবী জানিয়েছেন ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য ও জমিদাতা সদস্যসহ স্থানীয় লোকজন। গতকাল বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে কাঁঠালিয়া সদরের একটি ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনে তারা অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. দেলোয়ার হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের জমিদাতা অহিদুজ্জামান এনায়েত ও দেলোয়ার হোসেন জমাদ্দারসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।
লিখিত বক্তব্যে দেলোয়ার হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলাম খান ১৯৮৭ সালের ০৩ জানুয়ারি সহকারি শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। যোগদানের পর বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদ গাজির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে বরখাস্ত করান। ১৯৮৮ সালে বিদ্যালয়ে একাধিক সিনিয়র শিক্ষক থাকলেও বিধি ভঙ্গ করে প্রভাব খাটিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককের দায়িত্ব নেন শহীদুল ইসলাম। নিজের চাচাতো ভাইকে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত করাইয়া নিজের মেয়েকে সহকারি গ্রান্থগারিক পদে এবং দুইজন কর্মচারীকে ২০ লাখ টাকার বিনিয়মে নিয়োগ দেন। বিদ্যালয়ের সাধারণ তহবিল ও এফডিআর এর অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দেওয়া সরকারি বই কেজি মুলে বিক্রি করেন। স্কুলের জমির বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, আসবাবপত্রসহ বিদ্যালয়ের পুরাতন ঘর বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করে যাহা দেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সর্বশেষ বিদ্যালয় স্বীকৃতি না থাকায় পুর্বের স্মারক জালিয়াতি (টেম্পারিং) করে এনটিআরসিরি তিনজন শিক্ষকের এমপিও ভুক্তির জন্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে অনলাইনে আবেদন করেন। জালিয়াতির বিষয়টি জেলা অফিসারের তদন্তে প্রমানিত হয়।
এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যালয়ের জমিদাতা অহিদুজ্জামান এনায়েত বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা প্রশাসকসহ শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তে অভিযোগের বিষয় সত্যতা প্রমানিত হলেও অদৃশ্য কারণে তার অপকর্মের কোন বিচার হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলাম খান এ বছরের ১০ মার্চ অবসরে যান। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান সহকারী প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন। বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মকবুল হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় সাবেক প্রধান শিক্ষকের কাছে তার কর্মকালিন সময়ে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইলে তিনি সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেনি।
সকল অভিযোগ অস্বীকার সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলাম জানান, আমি এ বছরের ১০ মার্চ অবসরে যাই। হয়রানী করার জন্য এ ধরনের সংবাদ সম্মেলন করছেন।
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মকবুল হোসেন জানান, সভায় সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলামের কাছে বিদ্যালয়ে তার সময়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়া হয়। তিনি অগোচালোভাবে উপস্থাপন করেন। সঠিকভাবে উপস্থাপন করার জন্য তাকে সময় দেওয়া হয়েছে।

















