ঢাকা ০৫:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

ভূয়া দলিলে মালিকানা দাবি, মন্দিরের গায়ে নাম লেখার অভিযোগ

কক্সবাজার প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৫২ বার পড়া হয়েছে

oplus_1026

দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কক্সবাজারের রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের মধ্য তিতারপাড়াস্থ শ্রীশ্রী সার্বজনীন দুর্গা মন্দির দখলের অভিযোগ তুলেছেন এর প্রতিষ্ঠাতা কাজল দাশসহ মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্যরা। গতকাল বুধবার (৮ জুলাই) স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে তারা এই অভিযোগ জানান।
মন্দির কমিটির সদস্যরা বলেন, ১৯৮০ সালে কাজল দাশের নেতৃত্বে সমাজের সবাই মিলে এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিশেষ করে অত্র ওয়ার্ডের প্রবীণ মুরব্বি নুরুল আলম সিকদার, রাধাকান্ত দাশ এবং মন্দির কমিটির উপদেষ্টা বিধান দাশও এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, প্রথমে এটি মাটি দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল এবং কাজল দাশ দীর্ঘ সময় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি বিদেশে চলে যাওয়ার সময় একটি কমিটি গঠন করে দিয়ে যান, যার মাধ্যমে দীর্ঘদিন মন্দির পরিচালিত হয়।
কয়েক বছর আগে সমাজের কয়েকটি পরিবারের মধ্যে মন্দিরকে কেন্দ্র করে বিরোধ দেখা দিলে অত্র ওয়ার্ডের মেম্বার শাকিল সিকদার ও সমাজসেবক নাছির উদ্দিন সোহেল সিকদার উভয় পক্ষকে ডেকে মীমাংসা করে দেন। ওই মীমাংসা সভায় সর্বসম্মতিক্রমে শাকিল সিকদারকে আহ্বায়ক করে ১৩ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
মন্দির কমিটির সদস্যরা আরও জানান, ওই কমিটির আহ্বায়ক শাকিল সিকদার, নাছির উদ্দিন সোহেল সিকদার এবং প্রতিষ্ঠাতা কাজল দাশ মন্দিরের জন্য ৫ শতক জমি ক্রয় করে পরে তা মন্দিরের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। জমি ক্রয় ও পাকা ভবন নির্মাণে নাছির উদ্দিন সোহেল সিকদার ও শাকিল সিকদার অর্থ সহায়তা করেন এবং এখনও তারা নিঃস্বার্থভাবে সহযোগিতা করে আসছেন।
তাদের অভিযোগ, বিতর্কিত সুধির দাশ, রাখাল দাশ, স্বপন দাশ, প্রদীপ দাশ ও সজিব দাশ জনৈক কার্তিক চন্দ্র দাশের ওয়ারিশদের কাছ থেকে মাত্র সাড়ে ৮ কড়া জমি ক্রয়ের নামে একটি ভূয়া দলিল সৃষ্টি করে মন্দিরের মালিকানা দাবি করছেন। অথচ তারা যে জমি ক্রয়ের দাবি করছেন, সেটি অন্যত্র ভোগদখলে রয়েছে। এছাড়া কাজল দাশদের মাধ্যমে মন্দিরের নামে জমি দান ও রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হওয়ার অনেক পরে ওই কথিত দলিলটি তৈরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
মন্দির পরিচালনা কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাজল দাশ জানান, সম্প্রতি ওই যুবকরা মন্দিরের কর্তৃত্ব নেওয়ার উদ্দেশ্যে রাতের অন্ধকারে মন্দিরের সামনের অংশে নিজেদের নাম লিখে দেন। সেখানে প্রদীপ দাশকে সভাপতি, বিশ্বজিৎ দাশকে সাধারণ সম্পাদক এবং মদন দাশকে অর্থ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো দাশপাড়ায় কৌতূহল ও সমালোচনার ঝড় বইছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ভূয়া দলিলে মালিকানা দাবি, মন্দিরের গায়ে নাম লেখার অভিযোগ

আপডেট সময় :

কক্সবাজারের রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের মধ্য তিতারপাড়াস্থ শ্রীশ্রী সার্বজনীন দুর্গা মন্দির দখলের অভিযোগ তুলেছেন এর প্রতিষ্ঠাতা কাজল দাশসহ মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্যরা। গতকাল বুধবার (৮ জুলাই) স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে তারা এই অভিযোগ জানান।
মন্দির কমিটির সদস্যরা বলেন, ১৯৮০ সালে কাজল দাশের নেতৃত্বে সমাজের সবাই মিলে এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিশেষ করে অত্র ওয়ার্ডের প্রবীণ মুরব্বি নুরুল আলম সিকদার, রাধাকান্ত দাশ এবং মন্দির কমিটির উপদেষ্টা বিধান দাশও এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, প্রথমে এটি মাটি দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল এবং কাজল দাশ দীর্ঘ সময় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি বিদেশে চলে যাওয়ার সময় একটি কমিটি গঠন করে দিয়ে যান, যার মাধ্যমে দীর্ঘদিন মন্দির পরিচালিত হয়।
কয়েক বছর আগে সমাজের কয়েকটি পরিবারের মধ্যে মন্দিরকে কেন্দ্র করে বিরোধ দেখা দিলে অত্র ওয়ার্ডের মেম্বার শাকিল সিকদার ও সমাজসেবক নাছির উদ্দিন সোহেল সিকদার উভয় পক্ষকে ডেকে মীমাংসা করে দেন। ওই মীমাংসা সভায় সর্বসম্মতিক্রমে শাকিল সিকদারকে আহ্বায়ক করে ১৩ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
মন্দির কমিটির সদস্যরা আরও জানান, ওই কমিটির আহ্বায়ক শাকিল সিকদার, নাছির উদ্দিন সোহেল সিকদার এবং প্রতিষ্ঠাতা কাজল দাশ মন্দিরের জন্য ৫ শতক জমি ক্রয় করে পরে তা মন্দিরের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। জমি ক্রয় ও পাকা ভবন নির্মাণে নাছির উদ্দিন সোহেল সিকদার ও শাকিল সিকদার অর্থ সহায়তা করেন এবং এখনও তারা নিঃস্বার্থভাবে সহযোগিতা করে আসছেন।
তাদের অভিযোগ, বিতর্কিত সুধির দাশ, রাখাল দাশ, স্বপন দাশ, প্রদীপ দাশ ও সজিব দাশ জনৈক কার্তিক চন্দ্র দাশের ওয়ারিশদের কাছ থেকে মাত্র সাড়ে ৮ কড়া জমি ক্রয়ের নামে একটি ভূয়া দলিল সৃষ্টি করে মন্দিরের মালিকানা দাবি করছেন। অথচ তারা যে জমি ক্রয়ের দাবি করছেন, সেটি অন্যত্র ভোগদখলে রয়েছে। এছাড়া কাজল দাশদের মাধ্যমে মন্দিরের নামে জমি দান ও রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হওয়ার অনেক পরে ওই কথিত দলিলটি তৈরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
মন্দির পরিচালনা কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাজল দাশ জানান, সম্প্রতি ওই যুবকরা মন্দিরের কর্তৃত্ব নেওয়ার উদ্দেশ্যে রাতের অন্ধকারে মন্দিরের সামনের অংশে নিজেদের নাম লিখে দেন। সেখানে প্রদীপ দাশকে সভাপতি, বিশ্বজিৎ দাশকে সাধারণ সম্পাদক এবং মদন দাশকে অর্থ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো দাশপাড়ায় কৌতূহল ও সমালোচনার ঝড় বইছে।