মুকসুদপুরে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে হামলা, সংবাদ সম্মেলন
- আপডেট সময় : ৪২ বার পড়া হয়েছে
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ননীক্ষীর ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর (গোয়ালগ্রাম) এলাকায় চাঁদাবাজির দাবি, হত্যাচেষ্টা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং পরবর্তীতে মাদক ব্যবসায়ী আখ্যা দিয়ে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, হামলার ঘটনায় মামলা করার পর প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে এবং মামলার তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মাদক ব্যবসার সঙ্গে তাদের নাম জড়ানোর চেষ্টা করছে।
নিজ বাড়িতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আহত ব্যবসায়ী হরিদাস সরকার ও তার স্ত্রী মুক্তা সরকার।
তিনি বলেন, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে কৃষ্ণনগরের ঠাকুরের দোকান এলাকায় মুদি দোকান, বিকাশ, ফ্লেক্সিলোড, কৃষি উপকরণ, বীজ, কীটনাশক ও স্টেশনারি ব্যবসা পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অবস্থানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র তাদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় গত ২ এপ্রিল ২০২৬ রাত সাড়ে ৮টার দিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার স্বামীর ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে নগদ অর্থ ও মালামাল লুটপাট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় মুকসুদপুর থানায় দায়ের করা এজাহারে ১৪ জনকে নামীয় এবং আরও ৫/৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আহত ব্যবসায়ী হরিদাস সরকার বলেন, আমার ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হওয়ার পর থেকেই একটি মহল আমাকে পরিকল্পিতভাবে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে সমাজে) পরিচিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অথচ আমি কখনোই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। আমার বিরুদ্ধে এমন কোনো অভিযোগের সত্যতা নেই। মামলার প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে তদন্তকে ভিন্ন খাতে নেওয়া এবং অভিযুক্তদের রক্ষা করতেই এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে পরিবার নিয়ে জীবনযাপন করছি। কৃষি উপকরণ, বীজ, কীটনাশক, মুদি ও স্টেশনারি পণ্য বিক্রির মাধ্যমে এলাকার মানুষের সেবা করে আসছি। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী চক্র আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে মাদক ব্যবসায়ী বলে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রশাসনের প্রতি হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে মিথ্যা অপপ্রচারকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং প্রকৃত দোষীদের বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে। বিষয়টি বর্তমানে আইনগত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

















