রামু ও নাইক্ষ্যংছড়িতে বানভাসিদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ
- আপডেট সময় : ১৮ বার পড়া হয়েছে
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, পাহাড়ধস ও নদীভাঙনে কক্সবাজারের রামু এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। বসতঘর, সড়ক ও সেতুর ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি কৃষিজমি ও মৌসুমি ফলেরও ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দুই উপজেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত এবং উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
জানা গেছে, দুর্যোগের শুরু থেকেই দুই উপজেলার প্রশাসন মাঠপর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন, খাদ্য সহায়তা বিতরণ, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসে একাধিক বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাইশারী ইউনিয়নের থুইলা অংপাড়ার গর্জন খালের ওপর নির্মিত সেতু ধসে পড়ায় শতাধিক পরিবার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সোনাইছড়ি, দোছড়ি, বাইশারী ও ঘুমধুম ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এনামুন হাসানের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছে। ব্র্যাকের সহযোগিতায় বাইশারী ইউনিয়নে ৫০ জন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। সদর ইউনিয়নের ৪০টি পরিবারের মাঝেও শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। মারমাপাড়াসহ অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাতেও সহায়তা কার্যক্রম চলছে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রতিটি ইউনিয়নে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে।
অন্যদিকে রামু উপজেলায়ও ভারী বর্ষণে বিভিন্ন ইউনিয়নে নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা ও বসতঘরের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে বাঁকখালী নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ বিতরণ, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে সতর্ক করা এবং ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে শুকনো খাবার ও জরুরি সহায়তাও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রশাসনের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ শুনছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি বরাদ্দ নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তাৎক্ষণিক ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ, নদীভাঙন রোধ, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতুর দ্রুত পুনর্নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

















