ঢাকা ০৮:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে বাংলাদেশ নৌবাহিনী Logo সিরাজদিখানে গাঁজাগাছসহ আটক, পুলিশের হাতে মাদক ব্যবসায়ী Logo লাখাইয়ে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo প্রতিটি ক্লাসে পাঁচ মিনিট নৈতিক শিক্ষা দিন: আমিনুল হক Logo গণভোট থেকে সরকার সরে যাওয়ায় জনগণ আহত হয়েছে: হাসনাত আবদুল্লাহ Logo ভাঙ্গায় বাসের ধাক্কায় ৫ নিহত, বিক্ষোভে ৪ বাস ও পিকআপে আগুন Logo খাল পুনঃখনন শেষে অব্যয়িত অর্থ কোষাগারে ফেরত দিল সালথা প্রশাসন Logo কাশিয়ানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামীর সামনে প্রাণ গেল স্ত্রীর Logo বসতভিটা থেকে উচ্ছেদচেষ্টার অভিযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন Logo টানা বর্ষণে কেশবপুরে জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

মহেশপুরে নকশা জালিয়াতি

রাস্তা দখল করে ভবন নির্মাণ, প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৮৬ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌরসভায় ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে এই জালিয়াতি করা হয়েছে। তদন্তে নকশা জালিয়াতির প্রমাণ মিললেও পৌর কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারণে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো নির্বাহী প্রকৌশলী সোহেল রানার বিরুদ্ধে নির্মাণ কাজে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২১ সালে মহেশপুর পৌরসভার পশু হাসপাতাল পাড়ায় সাহাবুদ্দিন মহুরি ও তার স্ত্রীর কাছ থেকে ৪.৪৫ শতক জমি কেনেন রাজিয়া খাতুন নামের এক নারী। দলিল অনুযায়ী, এই জমিতে ৭ ফুট প্রশস্ত একটি রাস্তা সংরক্ষিত থাকার কথা ছিল।
অভিযোগ উঠেছে, সাহাবুদ্দিন মহুরি পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সোহেল রানাকে ঘুষ দিয়ে দলিলে উল্লেখিত রাস্তার তথ্য গোপন করে নকশা অনুমোদন করিয়ে নেন। এরপর তারা ৭ ফুট রাস্তার ৪ ফুট দখল করে ভবন নির্মাণ শুরু করেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী রাজিয়া খাতুন পৌরসভায় অভিযোগ জানালে তদন্তে নকশা জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হয়।
রাজিয়া খাতুন জানান, তিনি বারবার পৌরসভায় অভিযোগ দিয়েছেন, কিন্তু কোনো ফল পাননি। কয়েকবার সালিশি বৈঠক হলেও রাস্তার অংশ অপসারণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি। তার অভিযোগ, নির্বাহী প্রকৌশলী ঘুষ নিয়ে ভবন অপসারণ করছেন না, বরং অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কাজ করার অনুমতি দিয়েছেন।
রাস্তা দখল করে ভবন নির্মাণের বিষয়ে অভিযুক্ত সাহাবুদ্দিন মহুরিকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী সোহেল রানা বলেন, “কাজ তো হওয়ার কথা না। আমরা বিষয়টি দেখছি।” তার এই বক্তব্যকে অস্পষ্ট বলে মনে করছেন অনেকে।
এ প্রসঙ্গে মহেশপুর পৌরসভার প্রশাসক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “ভবন নির্মাণের বিষয়ে এর আগে একটি সালিশি বৈঠক করা হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত দ্রুতই বাস্তবায়ন করা হবে। আর যেহেতু ভবন নির্মাণ নিয়ে অভিযোগ আছে, তাই এখন ভবন নির্মাণ করতে পারবেন না। কাজ বন্ধের বিষয়টি আমি দেখছি।”
পৌর প্রশাসকের আশ্বাসের পরও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, তদন্তে জালিয়াতির প্রমাণ মেলার পরও কেন এতদিন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং কেন একজন অভিযুক্ত প্রকৌশলী এখনো স্বপদে বহাল আছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মহেশপুরে নকশা জালিয়াতি

রাস্তা দখল করে ভবন নির্মাণ, প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ

আপডেট সময় :

ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌরসভায় ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে এই জালিয়াতি করা হয়েছে। তদন্তে নকশা জালিয়াতির প্রমাণ মিললেও পৌর কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারণে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো নির্বাহী প্রকৌশলী সোহেল রানার বিরুদ্ধে নির্মাণ কাজে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২১ সালে মহেশপুর পৌরসভার পশু হাসপাতাল পাড়ায় সাহাবুদ্দিন মহুরি ও তার স্ত্রীর কাছ থেকে ৪.৪৫ শতক জমি কেনেন রাজিয়া খাতুন নামের এক নারী। দলিল অনুযায়ী, এই জমিতে ৭ ফুট প্রশস্ত একটি রাস্তা সংরক্ষিত থাকার কথা ছিল।
অভিযোগ উঠেছে, সাহাবুদ্দিন মহুরি পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সোহেল রানাকে ঘুষ দিয়ে দলিলে উল্লেখিত রাস্তার তথ্য গোপন করে নকশা অনুমোদন করিয়ে নেন। এরপর তারা ৭ ফুট রাস্তার ৪ ফুট দখল করে ভবন নির্মাণ শুরু করেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী রাজিয়া খাতুন পৌরসভায় অভিযোগ জানালে তদন্তে নকশা জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হয়।
রাজিয়া খাতুন জানান, তিনি বারবার পৌরসভায় অভিযোগ দিয়েছেন, কিন্তু কোনো ফল পাননি। কয়েকবার সালিশি বৈঠক হলেও রাস্তার অংশ অপসারণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি। তার অভিযোগ, নির্বাহী প্রকৌশলী ঘুষ নিয়ে ভবন অপসারণ করছেন না, বরং অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কাজ করার অনুমতি দিয়েছেন।
রাস্তা দখল করে ভবন নির্মাণের বিষয়ে অভিযুক্ত সাহাবুদ্দিন মহুরিকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী সোহেল রানা বলেন, “কাজ তো হওয়ার কথা না। আমরা বিষয়টি দেখছি।” তার এই বক্তব্যকে অস্পষ্ট বলে মনে করছেন অনেকে।
এ প্রসঙ্গে মহেশপুর পৌরসভার প্রশাসক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “ভবন নির্মাণের বিষয়ে এর আগে একটি সালিশি বৈঠক করা হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত দ্রুতই বাস্তবায়ন করা হবে। আর যেহেতু ভবন নির্মাণ নিয়ে অভিযোগ আছে, তাই এখন ভবন নির্মাণ করতে পারবেন না। কাজ বন্ধের বিষয়টি আমি দেখছি।”
পৌর প্রশাসকের আশ্বাসের পরও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, তদন্তে জালিয়াতির প্রমাণ মেলার পরও কেন এতদিন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং কেন একজন অভিযুক্ত প্রকৌশলী এখনো স্বপদে বহাল আছেন।