শেরপুরে ধান ব্যবসায়ী হত্যা, দুই ভাতিজা গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ১১৫ বার পড়া হয়েছে
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় ধান ব্যবসায়ী আব্দুল হামিদ মণ্ডল হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। জমি নিয়ে বিরোধ ও সন্দেহের জেরে আপন দুই ভাতিজা মিলে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে তাদের চাচাকে। ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ অভিযানে নেমে হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের ফেরদৌসের ছেলে রাকিবুল হাসান সিয়াম (১৬) এবং একই গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে আতিক হাসান (২১)। তারা নিহত আব্দুল হামিদ মণ্ডলের আপন ভাতিজা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত আব্দুল হামিদ মণ্ডল (৪৫) ভবানীপুর ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মমতাজ মণ্ডলের ছেলে এবং পেশায় একজন ধান ব্যবসায়ী ছিলেন। প্রতিদিনের মতো শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে তিনি বাজারের উদ্দেশ্যে ধানের টাকা সংগ্রহে বের হন। তবে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।
রাতভর স্বজন ও প্রতিবেশীরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরদিন শনিবার (১১ জানুয়ারি) সকালে স্থানীয়রা জামালপুর গ্রামের রাস্তার পাশের একটি জমিতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে শেরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
পুলিশ জানায়, নিহতের জানাজা শেষে এক ভাতিজার অস্বাভাবিক আচরণ ও কাঁপতে থাকা শরীর পুলিশের সন্দেহের জন্ম দেয়। এরপর তথ্যপ্রযুক্তি ও জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে দুই ভাতিজাকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার দায় স্বীকার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও চাচার প্রতি সন্দেহ থেকেই তারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। পরিকল্পিতভাবে চাচাকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ইব্রাহীম আলী জানান, খুনের ঘটনায় প্রাথমিক অবস্থায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রক্তের সম্পর্কের এমন নির্মম পরিণতিতে হতবাক স্থানীয়রা। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানো হবে।









