ঢাকা ১০:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

শেরপুরে নিঃসঙ্গ বৃদ্ধের আত্মহত্যা, ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৪২ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বগুড়ার শেরপুরে আব্দুল হামিদ (৮০) নামে এক বৃদ্ধ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের মহিপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ির পেছনে একটি ইউক্যালিপ্টাস গাছ থেকে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে শেরপুর থানা পুলিশ।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাতের খাবার খেয়ে নিজ ঘরেই ছিলেন আব্দুল হামিদ। এরপর রাতের কোনো একসময় পরিবারের সবার অগোচরে বাড়ির পেছনে থাকা একটি ইউক্যালিপ্টাস গাছের ডালে রশি বেঁধে গলায় ফাঁস দেন তিনি।
বুধবার সকালে এক প্রতিবেশী নারী বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় গাছে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে চিৎকার করেন। পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে শেরপুর থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অনেক আগেই আব্দুল হামিদের স্ত্রী মারা গেছেন। মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তারা শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করেন। আর ছেলেরা কর্মসূত্রে ঢাকায় থাকায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে একাকী জীবনযাপন করছিলেন।
এছাড়াও একটি দুর্ঘটনায় তাঁর পা ভেঙে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারতেন না। বার্ধক্যজনিত নানা রোগেও ভুগছিলেন তিনি। অভাব-অনটনের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের পর্যাপ্ত খোঁজখবর না পাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে শেরপুর থানার ওসি এসএম মঈনুদ্দিন বলেন, লাশ ময়না তদন্তের জন্য বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।
স্থানীয়দের ধারণা, দীর্ঘদিনের নিঃসঙ্গতা, শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক হতাশা থেকেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারেন। তবে এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শেরপুরে নিঃসঙ্গ বৃদ্ধের আত্মহত্যা, ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

আপডেট সময় :

বগুড়ার শেরপুরে আব্দুল হামিদ (৮০) নামে এক বৃদ্ধ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের মহিপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ির পেছনে একটি ইউক্যালিপ্টাস গাছ থেকে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে শেরপুর থানা পুলিশ।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাতের খাবার খেয়ে নিজ ঘরেই ছিলেন আব্দুল হামিদ। এরপর রাতের কোনো একসময় পরিবারের সবার অগোচরে বাড়ির পেছনে থাকা একটি ইউক্যালিপ্টাস গাছের ডালে রশি বেঁধে গলায় ফাঁস দেন তিনি।
বুধবার সকালে এক প্রতিবেশী নারী বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় গাছে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে চিৎকার করেন। পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে শেরপুর থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অনেক আগেই আব্দুল হামিদের স্ত্রী মারা গেছেন। মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তারা শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করেন। আর ছেলেরা কর্মসূত্রে ঢাকায় থাকায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে একাকী জীবনযাপন করছিলেন।
এছাড়াও একটি দুর্ঘটনায় তাঁর পা ভেঙে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারতেন না। বার্ধক্যজনিত নানা রোগেও ভুগছিলেন তিনি। অভাব-অনটনের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের পর্যাপ্ত খোঁজখবর না পাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে শেরপুর থানার ওসি এসএম মঈনুদ্দিন বলেন, লাশ ময়না তদন্তের জন্য বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।
স্থানীয়দের ধারণা, দীর্ঘদিনের নিঃসঙ্গতা, শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক হতাশা থেকেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারেন। তবে এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।