অগ্রাধিকার পাচ্ছে রামিসা হত্যার রায় কার্যকর
- আপডেট সময় : ৪১ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স (যাবতীয় নথি) হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিচারিক আদালত থেকে এ নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন হতে যাচ্ছে রামিসা হত্যা রায় কার্যকর প্রক্রিয়া। প্রয়োজনে শুনানির জন্য একটি পৃথক বেঞ্চ গঠন করা হবে। সেই বেঞ্চেই দ্রুততার সঙ্গে এই মামলার ডেথ রেফারেন্স শুনানি করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ও অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
এদিকে শিশু রামিসা হত্যা মামলায় আদালক প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরের প্রক্রিয়া অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত আগ্রসর হচ্ছে। প্রয়োজনে শিশু সহিংসতার ঘটনায় হওয়া রায়গুলো সালে ধারাবাহিকতায় না গিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য একটি পৃথক বেঞ্চ গঠন করা হবে। সেই বেঞ্চেই দ্রুততার সঙ্গে এই মামলার ডেথ রেফারেন্স শুনানি করা হবে। এমন মন্তব্য করেছেন এ্যাটর্ণী জেনারেল। তবে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় হলেও তা কার্যকরের জন্য আরও কিছু আইনগত প্রক্রিয়া বাকি থাকে। একদিকে আসামিপক্ষের রয়েছে আপিল করার সুযোগ। অপরদিকে আসামি আপিল না করলেও ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা মোতাবেক মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে আসবে। আর আসামিপক্ষ আপিল করলে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি একত্রে হবে। এদিকে হাইকোর্ট বিভাগে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলেও আসামি ইচ্ছা করলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করতে পারবে। আপিল খারিজ হলে থাকবে রিভিউর সুযোগ। এরপর সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আসামি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবে। সেই আবেদন নাকচ হলে আইনে নির্ধারিত পদ্ধতিতে কারা কর্তৃপক্ষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে।
অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিশু সহিংসতার ঘটনায় হওয়া রায়গুলো সালে ধারাবাহিকতায় না গিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য একটি পৃথক বেঞ্চ গঠন করা হবে। সেই বেঞ্চেই দ্রুততার সঙ্গে এই মামলার ডেথ রেফারেন্স শুনানি করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ও অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
আইনমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন, সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিন মাসের মধ্যে সাজা কার্যকর করা সম্ভব হবে। রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী সাত দিনের মধ্যে ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে যাবে। সেখানে পেপারবুক তৈরি ও শুনানির বিষয় রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ যদি অগ্রাধিকার দিয়ে শুনানি করেন, তবে আমার প্রত্যাশা আগামী তিন মাসের মধ্যে রায় কার্যকর করা সম্ভব হবে।
অপরদিকে শিশু রাজন, রাকিব ও আছিয়া হত্যার রায় উচ্চ আদালতে বছরের পর বছর আটকে থাকার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি হতাশার এবং আপনাদের প্রশ্নটি যৌক্তিক। আমি অ্যাটর্নি জেনারেল থাকাকালে মেজর সিনহা ও বুয়েটের আবরার হত্যা মামলা বিশেষ আদেশে দ্রুত নিষ্পত্তি করতে সক্ষম হয়েছিলাম। রামিসার পাশাপাশি আটকে থাকা অন্যান্য মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা হয়েছে। এ বিষয়ে সলিসিটর উইং এবং অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস যৌথভাবে উদ্যোগ নেবে। আর হাইকোর্টে মামলার পরবর্তী বিচার প্রক্রিয়া দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করতে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস থেকেও সবধরনের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। রায়ের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের অবস্থান হচ্ছে রেকর্ড প্রাপ্তির পর দ্রুততম সময়ে আমরা মামলাটির শুনানির ব্যবস্থা করবো। সেক্ষেত্রে পেপারবুক করতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার প্রয়োজন হতে পারে ও প্রধান বিচারপতির বিশেষ নির্দেশনার প্রয়োজন হতে পারে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সম্পন্নকরণের পর দ্রুত আপিল নিষ্পত্তির চেষ্টা করবো।
গত রোববার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারা অনুযায়ী আসামিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হবে। একইসঙ্গে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। এ ছাড়া আসামি সোহেলকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা রামিসার আইনি উত্তরাধিকারকে দিতে বলা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে সংশ্লিষ্ট কালেক্টরেট অফিসকে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করে বিক্রির মাধ্যমে ওই অর্থ রামিসার আইনি উত্তরাধিকারদের প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। রায়ে আরও বলা হয়েছে, আসামিরা ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২৮ ধারার বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারবেন। হত্যাকাণ্ডের ১৯ দিনের মাথায় এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। এর আগে ২৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। একই দিন মামলাটি পরবর্তী বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। পহেলা জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। ২ জুন রাষ্ট্রপক্ষে ১৬ জন সাক্ষ্য দেন এবং একদিনেই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। ৩ জুন ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের পরীক্ষা করা হয়।
১৯ মে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ঘটনার পর জানালার গ্রিল কেটে আসামি সোহেল রানা পালিয়ে যায়। পরে ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ স্বপ্না খাতুনকে হেফাজতে নেয় এবং নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রামিসার বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন। ২১ মে আসামি সোহেল রানা ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ভিকটিম রামিসার বাবা পরিবারের সঙ্গে পল্লবীর সেকশন-১১, ব্লক-বি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং বনানীতে একটি বেসরকারি অফিসে চাকরি করতেন। রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় হলেও তা কার্যকরের জন্য আরও কিছু আইনগত প্রক্রিয়া বাকি থাকে। একদিকে আসামিপক্ষের রয়েছে আপিল করার সুযোগ। অপরদিকে আসামি আপিল না করলেও ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা মোতাবেক মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে আসবে। আর আসামিপক্ষ আপিল করলে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি একত্রে হবে।
হাইকোর্ট বিভাগে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলেও আসামি ইচ্ছা করলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করতে পারবে। আপিল খারিজ হলে থাকবে রিভিউর সুযোগ। এরপর সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আসামি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবে। সেই আবেদন নাকচ হলে আইনে নির্ধারিত পদ্ধতিতে কারা কর্তৃপক্ষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে। সব আইনগত প্রক্রিয়া সাধারণভাবে সম্পন্ন করতে গেলে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ১ হাজার ২৭২টি ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য অপেক্ষমান ছিল। বর্তমানে সাল অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে সেসব ডেথ রেফারেন্সের শুনানি হচ্ছে। বর্তমানে হাইকোর্টে ২০১৭ ও ২০১৮ সালের ডেথ রেফারেন্স শুনানি চলমান। তাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এই ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি হতে হাইকোর্টেই ৮ থেকে ৯ বছর সময় লেগে যাবে। রায় দ্রুত কার্যকরের লক্ষে প্রয়োজনে শিশু সহিংসতার ঘটনায় হওয়া রায়গুলো সালে ধারাবাহিকতায় না গিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য একটি পৃথক বেঞ্চ গঠন করা হবে।



















